মুলাদীতে নির্যাতণ করে শিশু হত্যা, বাবার আবেদনে ৪ মাস পর লাশ উত্তোলন

ভূঁইয়া কামাল, মুলাদী।।
বরিশালের মুলাদী উপজেলার সদর ইউনিয়নের ৯নং ওয়ার্ডের দক্ষিণ বজায়শুলী গ্রামের নজরুল ইসলামের শিশু কন্যা নুরজাহান (১২) হত্যার চার মাস পরে লাশ উত্তোলন করা হয়।

বাদী নজরুল ইসলামের মামলার বিবরণে জানা যায়, আসামীরা অত্যন্ত দুর্দান্ত, বেজাহানী, লম্পট ও অসৎ চরিত্রের লোক। আমি একজন অসহায় ও গরীব লোক হওয়ার কারণে আমার মেয়ে মোসাঃ নুরজাহান বেগম (১২) আসামীদের বাড়ীতে কাজের মেয়ে হিসেবে কাজ করাতে নিলে আসামীরা প্রতিনিয়ত শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করতো। আসামীদের নির্যাতনের নুরজাহান বেগম অতিষ্ঠ হয়ে প্রায়ই কাজ ছাড়িয়া চলিয়া যাইতে চাহিলে আসামীরা নুরজাহানকে অস্বাভাবিকভাবে মারধর করতো। এক পর্যায়ে নুরজাহানকে তার আত্মীয় স্বজনদের নির্যাতনের বিষয়ে অবগত করার চেষ্টা করলে তার উপর নির্যাতন চালায়।

গত ২রা মে ২০২০ইং তারিখ শনিবার সকাল ৮টার সময় আসামীরা পরস্পর যোগাযোগে ব্যাপক শারীরিক নির্যাতন করিয়া এক পর্যায়ে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে গলায় রশি লাগাইয়া চালতা গাছে ঝুলাইয়া আত্মহত্যা করে। কাহাকেও কোন কিছু না জানাইয়া তড়িঘড়ি করিয়া নুরজাহানকে বাড়ীতে দাফন করিয়া রাখে।
নুরজাহানের বাবা নজরুল ইসলাম ঢাকায় ভ্যান গাড়ী চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করায় দীর্ঘদিন পরে বাড়ীতে এসে তার মেয়ে হত্যার বিষয়টি জানতে পেরে মুলাদী থানায় মামলার চেষ্টা করে ব্যার্থ হয়ে মামলা অভিযোগ করতে না পেরে কোর্টে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। যাহার প্রেক্ষিতে আদালতে নির্দেশে মুলাদী থানা ২৯/০৭/২০২০ একটি মামলা রুজু করে যাহার নং-১২/১০৫।
অপরদিকে বাদী উক্ত নিহতের লাশ উত্তোলন ও হত্যার আসল কারণ উৎঘাটনের জন্য আদালতের নিকট দাবি জানালে আদালত লাশটি উত্তোলনের নির্দেশ প্রদান করেন। কোর্টের আদেশ পেয়ে ৬ সেপ্টেম্বর রবিবার মুলাদী উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মুহ: শাহনুর জামান, মুলাদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্্েরর ডাঃ মাসুম বিল্লাহ, মুলাদী সদর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান কামরুল আহসান, মুলাদী থানার অফিসার তদন্ত ( মুজিবুর রহমান) খাসের হাট বাজার কমিটির সভাপতি লুৎফর পালোয়ান, ইউপি সদস্য নান্নু মল্লিক, আওয়ামীলীগ নেতা নান্নু রাড়ী, এস,আই, শহিদুল, সংঙ্গীয় পুুলিশ ফোর্সের উপস্থিতিতে লাশটি উত্তোলন করা হয়।

মুলাদী উপজেলার সাংবাদিকবৃন্দ লাশ উত্তোলনের ও লাশটির কি কি পাওয়া গেছে সে তথ্য সহকারী কমিশনার (ভূমি) ম্যাজিষ্ট্রেট শাহনুর জামান কাছে ছবি তোলার অনুমতি চাইলে অনুমতি নাই বলে জানিয়ে দেন। এ বিষয় কোন কথা বলতে রাজি হননি মুলাদী থানার তদন্ত ওসি মুজিবুর রহমান।

এলাকাবাসী সাংবাদিকদের কাছে এ ন্যাক্কার জনক হত্যার দৃষ্টান্ত মূলক বিচার দাবি জানিয়েছেন। নিহত নুরজাহানের চাচা আলতাফ শরীফ বলেন অভিযুক্ত বেল্লাল সরদার ও তার পরিবার এর আগেও একটি হত্যা মামলাসহ একাধিক মামলার আসামী। উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে আমার মেয়ের হত্যার সুষ্ঠু বিচার দাবি জানাচ্ছি।