সবচেয়ে অভিবাসীবান্ধব কানাডা, সেরা দশে ইউরোপের মাত্র ২ দেশ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক।।
ধীরে ধীরে অভিবাসীদের প্রতি অসহিষ্ণু হয়ে উঠছে বিশ্ব। চার বছর আগেও দুর্দশাগ্রস্ত অভিবাসীদের প্রতি মানুষ যতটা সহনশীল ছিল, এখন সেই হার কমে এসেছে অনেকটা। এর মধ্যেই বিশ্বের সেরা অভিবাসীবান্ধব দেশের খেতাব জিতল কানাডা। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক বিশ্লেষণ এবং পরামর্শদাতা সংস্থা গালাপের সাম্প্রতিক জরিপের ফলাফলে উঠে এসেছে এসব তথ্য।

গালাপের হিসাবে, অভিবাসী সহিষ্ণুতা সূচকে ৯-এর মধ্যে কানাডার স্কোর সর্বোচ্চ ৮ দশমিক ৪৬। এরপরেই রয়েছে আইসল্যান্ড (৮ দশমিক ৪১), নিউজিল্যান্ড, (৮ দশমিক ৩২) ও অস্ট্রেলিয়া (৮ দশমিক ২৮)।

অভিবাসীদের প্রতি সহনশীলতায় যুক্তরাষ্ট্রের চেয়ে এগিয়ে রয়েছে পশ্চিম আফ্রিকার দারিদ্র্যপীড়িত দেশ সিয়েরা লিওন। ৮ দশমিক ১৪ স্কোর নিয়ে তারা রয়েছে শীর্ষ পাঁচে। এরপর যুক্তরাষ্ট্রের স্কোর ৭ দশমিক ৯৫।

অভিবাসীদের প্রতি সহনশীলতায় শীর্ষ দশে ইউরোপের মধ্যে জায়গা পেয়েছে শুধু সুইডেন ও আয়ারল্যান্ড। ৭ দশমিক ৯২ স্কোর নিয়ে সুইডেন অষ্টম এবং ৭ দশমিক ৮৮ স্কোর নিয়ে রুয়ান্ডার সঙ্গে যৌথভাবে ১০ নম্বরে রয়েছে আয়ারল্যান্ড।

তবে অভিবাসীদের প্রতি সবচেয়ে কম সহনশীল শীর্ষ ১০ দেশের মধ্যে সাতটিই ইউরোপের। এদের মধ্যে শীর্ষে থাকা উত্তর মেসিডোনিয়ার স্কোর মাত্র ১ দশমিক ৪৯। এছাড়াও রয়েছে হাঙ্গেরি, সার্বিয়া ও ক্রোয়েশিয়া।

চার বছরে সূচকের সবচেয়ে বড় পতন ঘটেছে পেরু, ইকুয়েডর ও কলম্বিয়ার। সাম্প্রতিক সময়ে অভ্যন্তরীণ অশান্তির কারণে ভেনেজুয়েলার মানুষের মধ্যে এসব দেশে ছুটে যাওয়ার প্রবণতা দেখা গেছে।

২০১৯ সালে ১৪৫টি দেশের অন্তত ১ লাখ ৪০ হাজার মানুষের মতামতের ভিত্তিতে তৈরি হয়েছে গালাপের এই সূচক। নিজ দেশে অভিবাসীদের বসবাস, তাদের প্রতিবেশী হিসেবে গ্রহণ এবং অভিবাসী পরিবারের সঙ্গে বিয়েবন্ধনের বিষয়ে বিভিন্ন দেশের মানুষদের প্রশ্ন করেছে সংস্থাটি।

গালাপের অভিবাসী বিশেষজ্ঞ জুলি রে জানিয়েছেন, ২০১৬ সালে অভিবাসী সহনশীলতার বৈশ্বিক গড় ছিল ৫ দশমিক ৩৪। কিন্তু ২০১৯ সালে তা নেমে দাঁড়িয়েছে ৫ দশমিক ২১। এক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য অবনতি ঘটেছে লাতিন আমেরিকার দেশগুলোতে।

২০১৬ সালে পেরুর স্কোর ছিল যেখানে ৬ দশমিক ৩৩, ২০১৯ সালে তা নেমে এসেছে মাত্র ৩ দশমিক ৬১-এ। এছাড়া, চার বছর আগে কলম্বিয়ার ৬১ শতাংশ মানুষ অভিবাসী গ্রহণে রাজি থাকলেও এখন তা নেমেছে ২৯ শতাংশে।

গালাপের তথ্যমতে, বিশ্বব্যাপী তরুণ প্রজন্ম, উচ্চশিক্ষিত এবং শহরে বসবাসকারীরাই অভিবাসীদের প্রতি তুলনামূলক বেশি সহনশীল। সূত্র-রয়টার্স, গালাপ।