ফেসবুক আসক্তির কারণে খুন হয় বরিশালের তৃষা!

নিজস্ব প্রতিবেদক।।
আত্মহত্যা নয়, ফেসবুক ব্যবহার বন্ধ না করায় বরিশালনগরীর হাসপাতাল রোডের কর্মকার ভবনের ভাড়াটিয়া বাসিন্দা গৃহবধূ তৃষা কর্মকারকে শ্বাসরুদ্ধ করে হত্যার পর লাশ ঝুলিয়ে রাখে স্বামী।

বরিশাল অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারকের কাছে এমনই স্বীকারক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে পুলিশের হাতে আটক তৃষার ঘাতক স্বামী বাপ্পী কর্মকার। আদালতের বিচারক মারুফ আহমেদ ১৬৪ ধারায় আসামি বাপ্পীর জবানবন্দি গ্রহন করে তাকে জেলহাজতে প্রেরণের নির্দেশ দিয়েছেন।

অপরদিকে গৃহবধূ তৃষা কর্মকারকে হত্যার ঘটনায় নিহতের ভাই সাগর কর্মকার বাদি হয়ে কোতোয়ালী মডেল থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন।

সোমবার সকালে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা কোতোয়ালী মডেল থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) ফিরোজ আল মামুন বলেন, হত্যারকান্ডের ঘটনাটি আত্মহত্যা বলে চালিয়ে দেয়ার চেষ্টা করেছিলেন তৃষার স্বামী এবং তার পরিবার। কিন্তু পুলিশের কঠোর তৎপরতা এবং জিজ্ঞাসাবাদে হত্যার রহস্য উন্মোচন হয়েছে। এমনকি হত্যাকান্ডের দায় স্বীকার করে বাপ্পি কর্মকার রবিবার শেষ কার্যদিবসে আদালতে স্বীকারক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। তাই আলাদাভাবে তাকে রিমান্ডে আনার আবেদন করা হয়নি।

ফিরোজ আল মামুন গ্রেফতারকৃত বাপ্পী কর্মকারের বরাত দিয়ে বলেন, তৃষা কর্মকার ফেসবুকে আসক্ত ছিলো। সে ফেসবুকে বিভিন্ন লোকদের সাথে কথা বলতো। যা তার স্বামী বাপ্পী কর্মকারের পছন্দ হতোনা। তাই তৃষাকে ফেসবুক ব্যবহার না করার জন্য একাধিকবার অনুরোধ করেন। কিন্তু স্বামীর নিষেধ না শুনে তৃষা ফেসবুক ব্যবহার অব্যাহত রাখে। এনিয়ে তাদের মধ্যে কলহ লেগেই ছিলো। তারই ধারাবাহিকতায় গত ১ অক্টোবর রাতে তাদের দু’জনের মধ্যে ঝগড়া এবং মারামারির ঘটনা ঘটে। একপর্যায়ে তৃষার গলায় ওড়না পেচিয়ে শ্বাসরুদ্ধ করে হত্যা করে লাশ ফ্যানের সাথে ঝুলিয়ে রাখে বাপ্পী।

মামলার বাদি নিহত তৃষার ভাই পিরোজপুরের স্বরুপকাঠি এলাকার বাঁশতলা গ্রামের সুকদেব কর্মকারের পুত্র সাগর কর্মকার জানান, তিন বছর পূর্বে বাপ্পী কর্মকারের সাথে তার বোনের সামাজিকভাবে বিয়ে হয়। বিয়ের পর তৃষা জানতে পারে বাপ্পী নেশায় আসক্ত। সে নিয়মিত ইয়াবা সেবন করে। এনিয়ে তাদের দাম্পত্য কলহের সৃষ্টি হয়। যা শেষপর্যন্ত হত্যাকান্ডে রূপ নিয়েছে।”