কেন পালিত হয় বিশ্ব ডিম দিবস

জাকিরুল আহসান।।
আজ ৯ অক্টোবর, বিশ্ব ডিম দিবস। অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও দিবসটি পালিত হচ্ছে। এবারের প্রতিপাদ্য– ‘প্রতিদিনই ডিম খাই, রোগ-প্রতিরোধের ক্ষমতা বাড়াই’। ডিম-এর পুষ্টিমান সম্পর্কে সচেতন করে ভোক্তাদের মাঝে এর ব্যবহার বাড়ানোর অনন্য সুযোগ নিয়ে প্রতি বছর এই দিবসটি পালন করা হয়। বর্তমানে পৃথিবীর প্রায় ৫৫ টি’র ও বেশি দেশে নানা বর্ণাঢ্য আয়োজনে এই দিবসটি উদযাপিত হয়ে থাকে।

ডিম দিবশের শুরু:
১৯৯৬ সালে অস্ট্রিয়ার রাজধানী ভিয়েনাতে International Egg Commission (IEC) সম্মেলনে প্রথম ডিম দিবস পালনের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। IEC অক্টোবর মাসের দ্বিতীয় শুক্রবার- কে বিশ্ব ডিম দিবস হিসেবে অবহিত করে। এরপর থেকে প্রাণিজ আমিষের চাহিদা পূরণ, স্বাস্থ্যবান ও মেধাবী জাতি গঠন– সর্বোপরি ডিমের গুণাগুণ সম্পর্কে জনসচেতনতা বাড়ানোর লক্ষ্যে বিশ্বজুড়ে পালিত হয়ে আসছে দিনটি।

ডিম দিবসের গুরুত্ব:
পুষ্টিবিদরা জানান, ডিম সম্পূর্ণ আদর্শ খাবার ও গুণসম্পন্ন প্রোটিন, যাতে জীবনের অত্যাবশ্যকীয় উপাদান থাকে। মাঝারি আকারের ডিমে রয়েছে ৭০-৭৫ কিলো-ক্যালরি এনার্জি, ৬-৬.৫ গ্রাম প্রোটিন, ৪.৫-৫.০ গ্রাম চর্বি, সাত ধরনের প্রোটিন ও বিবিধ ধরণের খনিজ। এটি পৃথিবীব্যাপি পরিবারের সকলের খাদ্য উৎস। ডিম গর্ভবতী মা ও শিশুর জন্য প্রধানতম প্রোটিন যোগায়। ডিমের প্রোটিন মানুষের মস্তিষ্ক ও মাংসপেশির গঠনে এবং রোগ প্রতিরোধে সাহায্য করে।

প্রাণী চিকিৎসক ডাঃ এম. মুজিবুর রহমানের গণমাধ্যমকে দেয়া তথ্যে জানা গেছে, ডিম হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়ায় না; বরং স্ট্রোক এর ঝুঁকি কমায়। ডিমের বায়োলজিক ভ্যালু ৯৪% যেখানে দুধের মাত্র ৮৪%। ডিমের মধ্যে মানব ব্রেন সেল গঠনের গুরুত্বপূর্ণ উপাদান কলিন থাকে যা স্মৃতি ও মস্তিষ্ক উনয়নে প্রধান সহায়ক ভুমিকা পালন করে। ডিমের কোলেস্টেরল রক্তের কোলেস্টেরলের উপর কোন বিরূপ ফেলে না। ডিমে রয়েছে এন্টিওক্সিডেন্ট- লুটিন ও জিয়াজেনথিন; যা মানুষের বয়সজনিত কারণে চোখে কম দেখা বা সাময়িক অন্ধত্ব (Macular Degeneration) প্রতিরোধ করে। শুধু তাই নয়- ওমেগা-৩ ফ্যাটি এসিড সমৃদ্ধ ডিম রক্তের ট্রাইগ্লিসারাইড অত্যন্ত কার্যকর ভাবে কমায়।

তিনি আরো জানান, ডিম একটি সাশ্রয়ী, সহজলভ্য, সহজ পাচ্য, সহজে রান্নাযোগ্য ও সংরক্ষণযোগ্য অসাধারণ স্বাদ এর একটি খাবার। তাই সর্বগুণ সমৃদ্ধ প্রাকৃতিক এই ডিম প্রতিদিন ২/৩ টি করে সম্পূর্ণ নিরাপদ। বাংলাদেশের মানুষের বছরে গড় ডিম খাওয়ার পরিমাণ মাত্র ৪৫ থেকে ৬০ বিশ্ব খাদ্য ও কৃষি সংস্থা (FAO) মতে যা অন্তত ১০০ টি’র অধিক হওয়া উচিত।

বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের পোলট্রি সায়েন্স বিভাগের অধ্যাপক ড. ইলিয়াস হোসেন বলেন, প্রতিদিন একজন মানুষকে অন্তত একটি করে ডিম খাওয়া উচিত।

ডিম দিবশের কর্মসূচী:
দিবসটি উপলক্ষে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ অধিদফতর (ডিএলএস), বাংলাদেশ পোলট্রি ইন্ডাস্ট্রিজ সেন্ট্রাল কাউন্সিল (বিপিআইসিসি) এবং ওয়ার্ল্ড পোলট্রি সায়েন্স অ্যাসোসিয়েশন বাংলাদেশ সারাদেশে অনলাইনের মাধ্যমে আলোচনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে।