স্লুইসগেট আটকে মাছ চাষ, কলাপাড়ায় আমন বীজতলা পানিতে তলিয়ে নষ্ট

এইচ,এম,হুমায়ুন কবির কলাপাড়া (পটুয়াখালী)।।
পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলার কৃষিকাজে ব্যবহারের জন্য নির্মিত স্লুইসগেট এখন প্রভাবশালীদের দখলে। তারা স্লুইসগেট রক্ষনাবেক্ষনের নামে মাছ ধরার কাজে ব্যবহার করছেন এবং প্রতিদিন হাজার হাজার টাকার মাছ বিক্রি করছেন বলে কৃষকের অভিযোগ। পানি উন্নয়ন র্বোড কর্তৃক স্লুইসগেট নিয়ন্ত্রন কমিটি গঠন করা হলেও তাতে প্রকৃত কৃষকদের নেই কোন কর্তৃত্ব। ফলে ওই কমিটি এখন কৃষকদের জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। এমনকি কৃষকের যখন পানি ওঠা নামানোর দরকার হয় তখন গেঠ আটকে রাখা হয়। এতে বিপর্যয় হয় কৃষির উৎপাদন। এ ব্যাপরে কৃষকরা সরকারের বিভিন্ন দপ্তরে অভিযোগ করেও কোন প্রতিকার পায়ননি বলে কৃষকরা জানান। এভাবে উপজেলার ১২টি ইউনিয়নে ও দু’টি পৌরসভা স্লুইজগেট গুলো প্রভাবশালীদের দখলে থাকায় পানি ওঠা নামানো নিয়ে সমস্যা দেখা দিয়েছে। এতে কৃষকের আমন বীজতলা পানিতে নষ্ট হচ্ছে।

পাউবো কলাপাড়া অফিস সুত্রে জানা গেছে , কলাপাড়ায় ষাটের দশকের শুরুতে প্রাকৃতিক দুর্যোগ থেকে রক্ষার জন্য ১০টি পোল্ডারে মাধ্যমে তিনশ’ আট দশমিক ৮৪কিলোমিটার বেড়িবাঁধ নির্মান করা হয়। একই সাথে বাঁধের ভিতরে খাল দিয়ে পানি ওঠা নামানোর জন্য নির্মান করা হয় শতাধিক স্লুইসগেট। এ গুলো রক্ষণাবেক্ষনের জন্য স্লুইসগেট এলাকা আবাসিক ভবন নির্মান করে নিয়োগ দেয়া হয় স্লুইস খালাসি। কিন্তু এরশাদ সরকার ক্ষমতায় আসার পর নতুন করে স্লুইস খালাসি নিয়োগ বন্ধ করে দেয়। কর্মরত খালাসিরা অবসরে যাওয়ার পর বিভিন্ন ধরনের ৯ জন কৃষকসহ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও পাউবোর সংশ্লিষ্ট সেকশন কর্মকর্তাকে (এসও) নিয়ে ঘটন করা হয় স্লুইস নিয়ন্ত্রন কমিটি। এভাবে স্লুইস গেটের নিয়ন্ত্রন চলে যায় স্থানীয় প্রভাবশালীদের দখলে।

সরেজমিনে গিয়ে দেখাগেছে, উপজেলার নীলগঞ্জ ইউনিয়নে স্লুইস গেট মাছ ধরার লোকজনের নিয়ন্ত্রণে থাকায় দৌলতপুরসহ তিন গ্রামের শতাধিক চাষীর কয়েক শ’ একর জমির আমন চারা পচে গেছে। টুঙ্গিবাড়িয়া তিন ভেন্টের স্লইটি জাল পেতে মাছ ধরার কাজে ব্যবহৃত হওয়ায় কৃষকের সর্বনাশ হয়েছে। স্থানীয় সত্তার শরীফ এ স্লুইসটি নিয়ন্ত্রণ করছেন। আর জাল পেতে মাছ ধরছেন মনির হোসেন। যে সময় পানি নামানোর দরকার তখন গেট খুলে পানি উঠানো হয়। ফলে রোপান আমনের শত শত একর নিচু জমির চারা পানিতে ডুবে পচে গেছে। কৃষকরা এখন নিচু জমির পচে যাওয়া আমন চারা নিয়ে ফসল হারানোর শঙ্কায় পড়েছেন। কৃষকরা বলছেন আশপাশের বিলে আমনের এ বছর বাম্পার ফলনের উজ্জ্বল সম্ভাবনা দেখা গেছে আর দৌলতপুরের যেসব বিলের পানি নিয়ন্ত্রিত হয় টুঙ্গিবাড়িয়ার স্লুইস দিয়ে ওই সব খেতের নিচু জমির আমন চারা পচে গেছে। কৃষকের এমন সর্বনাশ দেখা গেছে।

কৃষক জাহিদুল ইসলাম জানান, কাজের লোক দিয়ে নিজে সার ছিটাচ্ছিলেন আমন খেতে ১২৮ বিঘা জমিতে আমনের আবাদ করেছেন। এর মধ্যে নিচু জমির প্রায় ২৪ বিঘা জমির আমন চারা পানিতে পচে গেছে। অভিযোগ করে বলেন, টুঙ্গিবাড়িয়ার স্লুইস দিয়ে গেল কয়েকদিনের বৃষ্টির সময় জোয়ারের সময় পানি তোলা হয়েছে। বিলসহ আমন খেত ডুবিয়ে দেয়া হয়েছে। সদ্য পাকা করা রাস্তার পশ্চিম পাশের আমন খেত সবুজে ছেয়ে গেছে। বাম্পার ফলন পাবেন বলে আশাবাদ তার। ওখানকার ৬৪ বিঘার অবস্থা খুবই ভাল। তিনি আর জানান, ফতেহপুর স্লুইসটি সঠিকভাবে নিয়ন্ত্রণ করায় রাস্তার পশ্চিম পাশের জমির আমন চারা ঠিকঠাক রয়েছে। আর রাস্তার পূর্বপাশের জমির পানি টুঙ্গিবাড়িয়ার স্লইস আটকে রাখায় আমন চারা পচে গেছে।

মাওলানা সারোয়ার জানান, ১২ বিঘার আট বিঘার আমন চারা খারাপ হয়ে গেছে। পচন ধরেছে। এ অবস্থা হলে কেমনে চলে। কাজের লোক থেকে শুরু করে সব কিছুর দাম বেশি। এ বছর সার কিনতে হয়েছে ৮৪০ টাকা দরে।

খালেক গাজী জানান, খলিলপুর আর দৌলতপুরের কৃষকরা সবচেয়ে বেশি ক্ষতির শিকার হয়েছেন। স্লুইসটি জাল পেতে মাছ ধরার কাজে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। তারা এলাকার ২০-২৫ জন কৃষক মিলে ইউনিয়ন পরিষদে গিয়ে মৌখিক অভিযোগ করেছেন চেয়ারম্যানের কাছে।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোঃ আব্দুল মান্নান জানান,স্লুইস নিয়ন্ত্রণের বিষয়টি তিনি দেখবেন বলে জানালেন। তবে কৃষক এ বিষয়ে ক্ষুব্ধ হয়ে আছেন।