বাউফলে যৌতুক না দেয়ায় গৃহবধূকে তাড়িয়ে দিলেন স্বামী

এ.এফ.এম রিয়াজ, বাউফল (পটুয়াখালী)।।
পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলায় স্বামীর চাহিদা অনুযায়ী যৌতুকের দাবী পূরন না করায় গৃহবধুকে ঘর থেকে তাড়িয়ে দিলেন স্বামী। অনেক চেষ্টা করেও স্বামী ও তার পরিবারের মন গলাতে না পেরে অসহায় ওই গৃহবধু আদালতের আশ্রয় নিয়েছেন।

এ ঘটনায় গত ২০ আগষ্ট পটুয়াখালীর সিনিয়র জুডিসিয়াল মেজিষ্ট্রেট ২য় আদালতে মামলা করেন ওই গৃহবধু। স্বামীর নাম মো. জুয়েল হোসেন রানা। জুয়েল রানা উপজেলার সূর্যমনি ইউনিয়নের মোল্লা বাড়ির ওদুদ মুন্সির ছেলে।

মামলা ও স্থানীয় সুত্রে জানা গেছে, ২০১১ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারী উপজেলার নুরাইনপুর গ্রামের মৃত বারেক জোমাদ্দারের মেয়ে মোসাম্মত নাসিমা আক্তারের সাথে সামাজিক ভাবে জুয়েল রানার সাথে বিয়ে দেন বড় ভাই আনোয়ার জোমাদ্দার। তখনকার সময়ে বরপক্ষের চাহিদা অনুযায়ী স্বর্নালঙ্কার, ঘরের আসবাবপত্রসহ অন্যান্য মালামাল দেওয়া হয়। বিয়ের কিছু দিন না যেতেই জুয়েল রানা ও তার পরিবারের লোকজন নাছিমাকে বিভিন্ন ভাবে যৌতুকের জন্য চাপ দেয়। পিতৃহারা বোন নাছিমার সুখের কথা ভেবে বড় ভাই আনোয়ার তার সাধ্য অনুযায়ী টাকা যোগান দিতেন। ২০১৬ সালে নাছিমার কোল জুড়ে আসে এক পুত্র সন্তান। নাম রাখা হয় শাকিবুল হাসান (৪)। নাছিমা ভেবে ছিলেন সন্তানের মায়ায় হয়ত তার সংসারে শান্তি ফিরে আসবে। কিন্তু সে আশায় গুড়েবালি। ক্রমশই বাড়তে থাকে শশুর বাড়ির লোকজনের দ্বারা তার ওপর অমানবিক অত্যাচার। সহ্য করতে না পেড়ে নাছিমা বিষয়টি তার বড় ভাই আনোয়ারকে জানালে তিনি তার আত্মীয় স্বজনদের নিয়ে চলতি বছরের ১৭আগষ্ট নাছিমার শশুর বাড়ি গিয়ে পারিবারিক ভাবে বসে। এ সময় স্বামী জুয়েল রানা তার ব্যবসার জন্য এক লক্ষ টাকা যৌতুক দাবী করলে ভাই আনোয়ার তার আর্থিক অচ্ছলতা তুলে ধরে টাকা দিতে অপারগতা প্রকাশ করেন। প্রতি উত্তরে জুয়েল রানা বলেন, যৌতুক দিতে না পাড়লে আপনার বোনকে নিয়ে যান। এ কথা শুনে আনোয়ার কান্নায় ভেঙে পড়ে বোন নাছিমার শাশুরী ফিরোজা (৬০) পা ঝাপটে ধরে এতিম বোনটির জন্য অনুনয় করতে থাকেন। কিন্তু তাতেও মন গলেনি তাদের। এক পর্যায়ে জুয়েল রানা নাসিমার গলায় ধাক্কা দিয়ে বাড়ি থেকে এক কাপড়ে বের করে দেন। এবং টাকা নিয়ে না আসলে তাকে তালাক দিয়ে অন্যত্র বিয়ে করবে বলে জানায়।