বেতাগীতে প্রধান শিক্ষক ও সভাপতির বিরুদ্ধে অনিয়ম দূর্নীতির অভিযোগ

বেতাগী প্রতিনিধি।।
বরগুনার বেতাগীতে ১৯নং বাসন্ডা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকসহ বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতির বিরুদ্ধে অনিয়ম দূর্নীতির অভিযোগ পাওয়া গেছে। ঐ বিদ্যালয়ের সহ সভাপতি মো. কবির ফরাজি প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক বরাবর অনিয়ম ও দূর্নীতির বিষয় উল্লেখ করে প্রধান শিক্ষক ও সভাপতির বিরুদ্ধে একটি লিখিত অভিযোগ করেন।

অভিযোগে উল্লেখিত বিষয়ে খোজ নিলে জানা যায়,১৯ নং বাসন্ডা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শ্রীমতি রিনা রাণী পাল ও ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি বেবি রাজ্জাকের যোগসাজসে সরকারিভাবে বিভিন্ন সময়ের বরাদ্দকৃত অর্থ আাত্নসাত করা হয়। তথ্য নিলে জানা যায়,২০১৮ থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত স্লিপের অর্থ বাবদ যে অনুদান পেয়েছে তা নামে মাত্র ও খরচ করা হয়নি এই প্রতিষ্ঠানে। মাঝে মাঝে ভূয়া ভাউচার ও রং তুলি দিয়ে রঙ করে ভবনকে ঝকঝকে করে বিল উত্তলন করে নিজেদের মধ্যে ভাগ করা হয়েছে। প্রাক প্রাথমিকের বাৎসরিক বরাদ্দকৃত অর্থ উত্তোলন করে প্রতিষ্ঠানের কোন ধরনের কাজে ব্যায় করেননি এই প্রতিষ্ঠানের সভপতি ও প্রধান শিক্ষক।

এছাড়াও বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির নির্বাচনী ফরম বিদ্যালয়ের অফিস কক্ষে বসে বিক্রির নিয়ম থাকলেও বর্তমান সভাপতির নির্দেশনায় বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রিনা রাণী পাল তার বাড়িতে বসে এই ফরম নিজেদের বাছাই করা ব্যাক্তিদের নিকট বিক্রি করেন। এ যাবৎ বিদ্যালয়ের উন্নয়ন প্রকল্পের নামে ক্ষুদ্র মেরামত ও বৃহত মেরামতের নামে যে অর্থ বরাদ্দ পেয়েছে তা নামে মাত্র খরচ করে ভূয়া বিল ভাউচার দেখিয়ে উত্তলন করা হয়েছে।

এ ব্যাপারে বিদ্যালয়ের সহ সভাপতি মো. কবির ফরাজি বলেন, বিদ্যালয়ের সভাপতি ও প্রধান শিক্ষকের অনিয়ম ও দূর্নীতির ব্যাপরে উল্লেখ করে গত সেপ্টম্বর মাসে বেতাগী উপজেলা শিক্ষা অফিস বরাবর লিখিত অভিযোগ দেই কিন্তু শিক্ষা কর্মকর্তা আর্থিক লেনদেনের মাধ্যমে মিমাংসা হয়ে কোন ধরনের ব্যবস্থা নেয়নি।পরে শতাধিক অভিভাবকদের স্বাক্ষর সহ মহাপরিচালক বারাবর লিখিত অভিযোগ প্রেরণ করা হয়।

বিদ্যালয়ের প্রধান রিনা রাণী পাল বলেন, এসকল অভিযোগ মিথ্যা ও বানোয়াট। আমাকে হয়রানি করার জন্য এমন বিভ্রান্তি ছরাচ্ছেন। তাছাড়া যেদন নতুন কমিটির ফরম বিক্রি করা হয়েছে সেদিন তিনি যথা সময়ে আসতে পারেনি বলে ফরম ক্রয় করতে পারেনি তাই ক্ষিপ্ত হয়ে এমন কথা রটাচ্ছেন।

ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি বেবি রাজ্জাক খান বলেন, ভোটের মধ্য দিয়ে নতুন ম্যানেজিং কমিটি নিবার্চিত হবে। তাই ক্ষিপ্ত হয়ে বিদ্যালয়ের সহ সভাপতি মো. কবির ফরাজি এমন কুৎসা রটাচ্ছেন। আমি এসব কাজের সাথে কোনভাবে জড়িত নই।

বেতাগী প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. জাহাঙ্গির আলম বলেন, আমি দুইবারই অভিযোগ পেয়েছি তদন্ত চলছে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

বেতাগী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো.সুহৃদ সালেহীন বলেন, শিক্ষা অফিসারের সাথে কথা বলে তদন্ত স্বাপেক্ষে ব্যবস্থা নেয়া হবে।