শিববাড়ীয়া নদী দখল: দুর্যোগকালীন আশ্রয়স্থল হারাচ্ছে কুয়াকাটার জেলেরা

এইচ,এম হুমায়ুন কবির, কলাপাড়া (পটুয়াখালী)।।
কুয়াকাটা এবং পাশ্ববর্তী উপকুলীয় এলাকার প্রায় ১৫ হাজার জেলে তাদের মাছধরা ট্রলার নিয়ে শিববাড়িয়া নদীতে দুর্যোগকালীন আশ্রয় নিয়ে থাকত। এক শ্রেনির দখলদাররা নদীর দু’তীরে পাকা আধাপাকা স্থাপনা তৈরি করে এ পোতাশ্রয়টি দখলে নিয়েছে। পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলার মৎস্য বন্দর আলীপুর ও মহিপুর বন্দরের মাঝখান দিয়ে প্রবাহিত হওয়া শিববাড়িয়া নদীটি ক্রমশ সরু হয়ে আসছে।

বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) তথ্য মতে, শিববাড়িয়া (খাপড়াভাঙ্গা) নদীর পানি প্রবাহের দৈর্ঘ্য ১৭ কিলোমিটার প্রস্থ ১০০ মিটার ও নদীর গভীরতা ৭ মিটার। এখন প্রতি বছর অন্তত পাঁচ ফুট কমে যাচ্ছে নদীর প্রস্থ। নদীটির দুই পাড়ে একশ্রেণির প্রভাবশালীদের কারণে নদী তীরবর্তী এলাকা যেমন ভরাট হয়ে যাচ্ছে, তেমনি স্বাভাবিক পলি পড়ে ভরাট হয়ে গেছে।

বঙ্গোপসাগরের নিকটবর্তী এ চ্যানেলটি উপকূলের জেলেদের দুর্যোগকালীন আশ্রয়স্থল। বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট ঘূর্ণিঝড় এবং জলোচ্ছাসের সময় জেলেরা এ নদীতে আশ্রয় নিয়ে থাকে। তাছাড়া জেলেদের নৌকা বা ট্রলারগুলো অলস সময় কাটাতে এ নদী মধ্যে অবস্থান করে থাকে। ক্রমশ নদীটি ভরাট হওয়ার ফলে নৌযান চলাচলসহ নদী তীরবর্তী জনজীবন ও পরিবেশ-প্রতিবেশ ধীরে ধীরে যেমন হুমকির মধ্যে পড়ছে, অন্যদিকে সাগরে মাছ ধরা জেলে নৌকা-ট্রলারগুলো দুর্যোগকালীন সময় আশ্রয় নেওয়ার জন্য হারাচ্ছে একমাত্র-পোতাশ্রয়।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, শিববাড়িয়া (খাপড়াভাঙ্গা) নদীটির পশ্চিমে বঙ্গোপসাগর মোহনার আন্ধারমানিক নদের প্রবেশদ্বার থেকে পূর্বদিকে কাউয়ারচরের আশাখালী পয়েন্ট পর্যন্ত সীমানার মধ্যে বিভিন্ন অংশে পলি পড়ে ভরাট হয়ে গেছে। তবে এর মধ্যে নাইওরীপাড়া, গোড়া আমখোলা পাড়া, লক্ষির বাজার, চাপলীবাজার, মহিপুর ও আলীপুর অংশে নাব্যতা সংকট সবচেয়ে বেশী দেখা দিয়েছে। এসব পয়েন্টের মধ্যে আলীপুর ও মহিপুর পয়েন্টের নদী তীরবর্তী এলাকা একশ্রেণির লোকজন দখল করে আধা পাকা ও পাকা স্থাপনা নির্মান করেছে। যার কারণে মাছ ধরা জেলে নৌকা, ট্রলারসহ অন্যান্য নৌযান চলাচলে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হচ্ছে। তাছাড়া নদীটির আন্ধারমানিক এবং আশাখালীর দুই প্রবেশদ্বারও ৯০ শতাংশের মত ভরাট হয়ে গেছে। যার ফলে জোয়ারের সময় পুরো নদী ধরে জেলেরা চলাচল করতে পারলেও ভাটার সময় আর চলাচল করতে পারছে না। অথচ এই নদীটি ছিল ষাটের দশকেরও আগে থেকে উপকূলের মানুষের চলাচলের একমাত্র পথ। সাবেক খাপড়াভাঙ্গা ইউনিয়ন বর্তমানে মহিপুর ও লতাচাপলী ইউনিয়নকে পৃথক করে রেখেছে এই শিববাড়িয় নদী। এখন অবশ্য উল্লেখিত ইউনিয়ন দুইটি ভেঙ্গে ধুলাসর ও ডালবুগঞ্জ ইউনিয়ন নামে আরও দুইটি নতুন ইউনিয়নের জন্ম হয়েছে। ৪ টি ইউনিয়নের সীমানা ঘেষেঁ শিববাড়িয়া নদীর অবস্থান। মহিপুর ইউনিয়নের নজীবপুর গ্রামের খালগোড়া থেকে শুরু হয়ে ধুলাসর ইউনিয়নের কাউয়ারচর গ্রামের ধোলাই মার্কেট পর্যন্ত ৮ কিলো মিটার দীর্ঘ এ নদী দিয়ে এক সময় চলাচল করত লঞ্চ। বরিশাল থেকে মহিপুর, কলাপাড়া থেকে চাপলী, মহিপুর থেকে পটুয়াখালী বিভিন্ন রুটে নিয়মিত লঞ্চ চলাচল ছাড়াও মহিপুর ও লক্ষীর হাটের খাদ্য গুদামের পন্য আনা নেয়ার কাজে কার্গো চলাচল করতে দেখা যেত যা এখন শুধুই স্মৃতি তখন সাগরপাড়ের মানুষজন লঞ্চে করে এ নদী দিয়ে কলাপাড়া উপজেলা সদরে যাতায়াত করতো।

বিগত ২৫ বছর ধরে দখল ও দূষনে বিপন্ন হয়ে পড়েছে মহিপুরের শিববাড়িয়া নদী। এক সময়ের খড় স্রোতের এ নদী মানুষ ও প্রকৃতির বিরুপ প্রভাবে এখন পরিনত হচ্ছে মরা নদীতে। নদীর দু-ধারে চর পরে কমে গেছে নদীর আয়তন। জেগে ওঠা চর দখল করে প্রভাবশালীরা গড়ে তুলেছে বরফকল,ডক ইয়ার্ড , বাড়ি ঘর, মাছের আড়ত, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, মাছের ঘের ও ফসলের ক্ষেত। নানা কাজে ব্যবহৃত হচ্ছে অবৈধ ভাবে দখল করা নদীর দু-ধারের শত শত একর পতিত জমি। প্রাকৃতিক কারনে পলি জমে নদীর তলদেশ ভরাট হয়ে নাব্যতা কমে গেছে আশঙ্কাজনক ভাবে। শিববাড়িয়া নদী কোনো খনন না করায় শিববাড়িয়া নদীর তল দেশে পলি জমে নাব্যতা হারিয়ে এক কালের উওাল নদী ছন্দ হারিয়ে মরাখালে পরিনত হয়েছে। এতে বিলুপ্তি হয়ে যাচ্ছে জীব বৈচিত্র্য ও মৎস্য সম্পদ। হাজার হাজার জেলে পুর্ব পুরুষের পেশা ছেড়ে বেকাত্ব গোছাতে বেঁচে নিয়েছেন অন্য পেশা। মৎস্য অধিদফতর এই নদীতে অবৈধ জাল দিয়ে মৎস্য সম্পদ নিধন বন্ধে সচেষ্ট রয়েছে। এ ছাড়া নভেম্বর থেকে জানুয়ারি এই তিন মাস এ নদীতে সব ধরনের মাছ শিকার বন্ধ থাকে। নদী ভরাট হলেও প্রাকৃতিক কারনে প্রজনন কালে ডিম দেয়ার জন্য গভীর সমুদ্র থেকে আন্ধারমানিক নদীতে ছুটে আসে মা ইলিশ। ইলিশের বংশ বৃদ্ধির লক্ষ্যে আন্ধারমানি-শিববাড়িয়াকে অভয়াশ্রয় ঘোষনা করে সরকার। খেয়া পারপারের মাঝি বা বৈঠা ছেড়ে কালের নৌকা চালিয়েও তাদের শেষ রক্ষা হয়নি। জালের মতো ছড়িয়ে থাকা শাখা নদী গুলো শিববাড়িয়া সঙ্গে বিভিন্ন অভ্যন্তরীণ ছোট-বড় অন্তত ১৪ টি খাল ভরাট হয়ে গেছে। নদীর দুই তীরের বেদখল হয়ে যাচ্ছে জমি। আবার কেউ কেউ কাগজপত্র তৈরি করে নদীর জমি নিজেদের বলে দাবি করছে।

অনেকেই আবার নিজেদের নামে রেকর্ডভুক্ত করে নিয়েছেন। কিছু অসাধু ভুমি অফিসের এক শ্রেনী কর্মচারির সহযোগিতায় নদীর জমি ব্যক্তি মালিকানায় রেকর্ডভুক্ত করে নিয়েছেন। একদা এ নদীতে লঞ্চ স্টিমার চলাচল করত। কিন্তু কালের বিবর্তনে এ টিকে এখন নদী ভাবতে কষ্ট হয়। নাব্যতা সংকট ও দখলের কারনে হারিয়ে যেতে বসেছে। এখন শিববাড়িয়া বুকে লঞ্চ আর স্টিমারের হুইসেল বেঁজে উঠে না। হাজারো মানুষ নৌযান চালিয়ে এখন আর জীবিকার জন্য ব্যস্ত হয়ে পড়েনা। এক সময় শিববাড়িয়া ছিল প্রচন্ড ব্যস্ত । বারো মাস এ নদী দিয়ে লঞ্চ চলাচল করত। প্রতিদিন সকাল ১২টায় লঞ্চ আসত যাত্রী নিয়ে। তা দেখে স্থানীয় মানুষ সময় হিসাব করত। এই নদীতে ছিল টলমলে জোয়া ভাটা। কেয়া নৌকা ,ডিঙ্গি ,গয়না ,কোষা ,সওদাগরী ,স্টিমার ,রঙ্গিন পাল তোলা নৌকা ,বড় বড় মালামাল আনা-নেওয়ার জন্য ভেলা ,স্তরে স্তরে সাজানো মাটির হাড়ি পাতিলের কুমারের নৌকা, বেদে সম্পদায়ের নৌকা , ১০০-২০০ মন ধান নৌকা যাতায়ত করত , ব্যবসায়ীরা ধান ,মিষ্টি আলু মাটির তৈজসপত্র এসব বিক্রি করার জন্য নিয়ে আসত।

বিভিন্ন ঘাটে নৌকা গুলো বাঁধা হতো। উপজেলার আশ পাশের বিভিন্ন ইউনিয়নের বৃহস্পতিবার শিববাড়িয়া (মহিপুর) সাপ্তাহিক বাজার সবাই এগুলো কিনতে আসত। নদীতে পলি পড়ে নাব্যতা হৃস পেতে থাকে। এর দুই পারে নতুন নতুন চর ও বাড়ীঘর উঠতে থাকে। বর্ষা এলে শিবাড়িয়া আবার নদী ফুলে ফেঁপে ওঠে। জল প্রবাহ মওসুমী প্রকৃতি। মাঝি ভাটিয়ালি গান গেয়ে ভাটির দেশে যায়না। নদী তীরে ভুমি আগ্রাসন ,শিল্পবর্জ্য কেড়ে নিচ্ছে শিববাড়িয়া নদীর প্রান। মহিপুর -আলীপুর মৎস্য আড়ৎদার সমিতির দেয়া তথ্য মতে বাংলাদেশের অন্যতম সামুদ্রিক মৎস্য আহরণ ও বিপনন কেন্দ্র মহিপুর-আলীপুর বন্দরে ছোট বড় মিলিয়ে মাছের আড়ত আছে প্রায় দুইশত। বরফ কল আছে ২৭ টি। এছাড়াও এ পেশাকে কেন্দ্র করে এখানে শত শত ব্যবসা প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠেছে। প্রতিদিন মহিপুর-আলীপুর থেকে কয়েক’শ টন হিমায়িত মাছ বাংলাদেশের প্রায় সকল জেলায় রপ্তানী করা হয়। সারা দেশে বর্তমানে যে ইলিশের চাহিদা রয়েছে তার অনেকটাই পূরণ হয়ে থাকে মৎস্য বন্দর কুয়াকাটা-মহিপুর-আলীপুরে আহরিত মাছ থেকে। এ খাত থেকে সরকার প্রতি বছর প্রচুর পরিমান রাজস্ব আয় করে থাকে। তাছাড়া জেলে, আড়ৎদার, শ্রমিক, ব্যবসায়ী, মালিক, মহাজন মিলিয়ে প্রায় লক্ষাধিক মানুষের এ খাতে কর্মসংস্থান হয়েছে। যা জাতীয় অর্থনীতিতেও ভূমিকা রাখছে। কিন্তু এই বন্দরের গুরুত্ব ও সম্ভাবনা থাকা সত্যেও মহিপুর-আলীপুর মৎস্য বন্দরের উন্নয়নে চোখে পড়ার মত তেমন কোন প্রকল্প বাস্তবায়ন হয়নি। নদী সংলগ্ন মহিপুর-আলীপুর বন্দরের সরকারি জমি বেদখল করে তৈরী করা হয়েছে অনেক স্থাপনা। অনেকে আবার ভূমি অফিসের অসাধু কর্মকর্তাদের ম্যানেজ করে নদীর চরকে চান্দিনা ভিটি দেখিয়ে ডিসিআর নিয়েছেন অবৈধ ভাবে।

নদীর দুই দিকেই বন্যানিয়ন্ত্রন বাঁধ রয়েছে এবং বাঁধ সংলগ্ন এলাকার পানি নিস্কাশনের জন্য অন্তত ১০টি স্লুইজ রয়েছে। ক্রমশঃ নদীটি ভরাট হয়ে যাওয়ায় স্লুইজ সংলগ্ন সংযোগ খালগুলোও ধীরে ধীরে ভরাট হতে শুরু করেছে। যার ফলে এর নেতিবাচক প্রভাব কৃষিকাজের ওপরও পড়তে শুরু করেছে।

স্থানীয়রা মনে করেন, এসব সমস্যা দুর করে বহুমুখি সুবিধার জন্য এই নদীটি খনন করা প্রয়োজন। তাছাড়া সাগরবক্ষে মাছ শিকারত জেলেদের দুর্যোগকালীন আশ্রয়ের লক্ষ্যে শিববাড়িয়া নদীটির খননকাজ করাও জরুরী। অথচ সমীক্ষা পরবর্তী কয়েক বছরেও তা শুরু হয়নি। ফলে দুর্যোগকালীন সময় চরম ঝুঁকিতেই থেকে যাচ্ছে সাগরে মাছ শিকার করা হাজার হাজার জেলে।

উপকূলীয় আশা আলো সমিতির সভাপতি মো.নুরু মিয়া বলেন, ‘শিববাড়িয়া নদীটি খনন করলে জেলেদের সবচেয়ে বেশি সুবিধা হবে। কারণ দুর্যোগকালীন সময় জেলেদের দ্রুত নিরাপদে আশ্রয় নেওয়ার সুযোগ সৃষ্টি হবে। এছাড়া কুয়াকাটায় আসা পর্যটক-দর্শনার্থীরা নৌযানে করে এই নদী দিয়ে পর্যটনপল্লী গঙ্গামতি যাওয়ার সুযোগ পাবে।’,

মহিপুর মৎস্য বন্দর আড়ত মালিক ও ব্যবসায়ী সমিতির সাবেক সভাপতি মো.ফজলু গাজী বলেন, ‘ভাটার সময় মাছ ধরা জেলে নৌকা বা ট্রলারে বরফ, মাছসহ বিভিন্ন মালামাল ওঠানামা করা কষ্টসাধ্য হয়ে পড়ে। নদীটি খনন হলে জেলেদের সে দুর্ভোগ আর থাকবেনা।’ তাই দুই পাড়েরর মানুষের প্রানের দাবি অতিদ্রুত নদী ড্রেজিং করে পানি প্রবাহ আগের অবস্থায় পিরিয়ে আনা হোক।

মৎস্য বন্দর আলীপুর মৎস্যজীবি সমিতির সভাপতি মো: আনছার উদ্দিন মোল্লা জানান, মহিপুর আলীপুর মৎস্য বন্দরের উপর নির্ভর করে হাজার হাজার মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়েছে। নাব্যতার অভাবে এ বন্দরটি কার্যকারিতা হারালে তা এলাকার অর্থনীতিতে বিরুপ প্রভাব পড়বে। সমুদ্র উপকুলবর্তী গুরুত্ববহনকারী এই শিববাড়িয়া নদীকে বাচাঁতে সংশ্লিষ্ঠ কর্তৃপক্ষের এখনই নজর দেওয়া উচিত। অন্যথায় এই নদীটি হারিয়ে গিয়ে নালায় পরিনত হবার আশংকা রয়েছে।

মৎস্য বন্দর আলীপুরের ব্যবসায়ীরা বলেন, পটুয়াখালীর জেলার একমাত্র সামুদ্রিক মাছের পাইকারি বাজারটি ক্রমে মুখ থুবড়ে পড়েছে। তাই উওাল শিববাড়িয়া নদী আজ স্মৃতির গহিনে হারিয়ে যাচ্ছে। ভয়াবহ নাব্যতা সংকটে শিববাড়িয়া নদীর অববাহিকায় পরিবেশ বিপর্যয় দেখা দেয়াসহ কৃষি আবাদে নেমে এসেছে স্থবিরতা। শিববাড়িয়া নদী আমাদের এখানকার ঐতিহ্য। এটি রক্ষা করা জরুরি। নদীটি রক্ষার পাশাপাশি নদীর চর পড়ে ভরাট অংশ যাতে কেউ দখল করতে না পারে সেজন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়ার যৌক্তিকতা তুলে ধরেন।

এলাকার সবশ্রেীর মানুষের দাবি, কলাপাড়া একটি পর্যটন পায়রাবন্দর সমৃদ্ধ উপজেলা। এই উপজেলায় প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের অন্যতম শিববাড়িয়া নদী। এটি রক্ষা করা প্রয়োজন। সেক্ষেত্রে ভরাট অংশ খনন করা প্রয়োজন। জেগে ওঠা চরকে জমি হিসাবে কেউ যেন দখল করতে না পারে তার জন্য ব্যবস্থা নেয়া। দখল ,ভরাট ও দুষনে নদীর অবস্থাই শোচনীয়। জনগনের সম্পদ সম্পদ নদী রক্ষায়র দায়িত্ব সরকার তথা রাষ্ঠ্রীয় প্রশাসনের। দুংখজনক হলেও সত্য যে অতীতে কিছু অসাধু ভুমি অফিসের এক শ্রেনী কর্মচারির সহযোগিতায় নদীর জমি ব্যক্তি মালিকানায় রেকর্ডভুক্ত করে নিয়েছেন। এছাড়া পরিবেশ রক্ষায় শিববাড়িয়া জেগে ওঠা চর বনাঞ্চল সৃষ্টি করাও প্রয়োজন বলে মনে করছেন পরিবশে সচেতনরা। যত দ্রুত সম্ভব, নদীর জায়গা দখলমুক্ত করে খননের মাধ্যমে নদীটির নাব্যতা ফিরিয়ে আনা হোক। নদী ভুমিদস্যুদের দখলে চলে যাওয়ায় মানচিত্র থেকে হারাতে বসেছে সীমানা রেখা।

বরিশাল বিভাগের বেলা সম্বনয়কারি লিংকন বায়েন বলেন, বাংলাদেশের জলাদার আয় অনুসারে নদী বাধাগ্রস্থ স্থাপনা নির্মান করা যাবেনা। যাতে নদীর পানি বাধাগ্রস্থ হয় এমন কোনো জায়গা অবৈধ স্থাপনা করা যাবেনা। ইদানিং কালের বর্তমান সরকার নদী খাল উদ্বারের তৎপর রয়েছে। তার পর ও দেখা গেছে নিজেদের ব্যক্তিগত স্বার্থ হাসিলের উদ্দেশ্য পাবলিক কভাটি সম্পাদ কাম্য নয়। আইন বিরুদ্ধি ও স্বাস্থ্য যোগ্য অপরাধ। পরিবেশ সংরক্ষন ও পরিবেশ কর্মকান্ডে আমাদের সকলের নদী রক্ষায় এ গিয়ে আসা উচিত।

কলাপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আবুল হাসনাত মোহাম্মদ শহিদুল হক বলেন, মহিপুর নদী দখলের জেলায় পর্যায় উচ্ছেদের চিটি আসলে উচ্ছেদ অভিযান শুরু হবে।