করোনার মধ্যেই বেড়েছে হামে মৃতের সংখ্যা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক।।
হামের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে অগ্রগতির পরেও গত কয়েক বছর ধরে এর প্রকোপ আবারও বাড়তে শুরু করেছে। বিদ্যমান করোনা মহামারির মধ্যে এ পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে পড়ছে। শুক্রবার বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) এবং মার্কিন স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ (সিডিসি)-এর এক যৌথ প্রতিবেদনে উঠে এসেছে এমন তথ্য।

প্রতিবেদনে বলা হয়, গত বছর মিজলস বা হামে আক্রান্ত হয়ে প্রায় দুই লাখ সাত হাজার ৫০০ মানুষের মৃত্যু হয়েছে। ২০১৬ সালের চেয়ে মৃতের সংখ্যা বেড়েছে শতকরা ৫০ ভাগ, যাদের অনেকের মৃত্যুই প্রতিরোধ করার সুযোগ ছিল।

ডব্লিউএইচও-এর তথ্য মতে, ২০১৯ সালে হামে সংক্রমিতের সংখ্যা ছিল প্রায় আট লাখ ৭০ হাজার- যা ১৯৯৬ সালের পর সবচেয়ে বেশি। কোভিড-১৯ এর ফলে ২৬ দেশের প্রায় সাড়ে নয় কোটি মানুষকে এ বছর টিকা দেয়া সম্ভব হবে না।

হাম রোগে আফ্রিকার দেশগুলোই বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার বিশেষজ্ঞ নাতাশা ক্রোকক্রফ্ট জানিয়েছেন, অনেক দেশেই শিশুদের প্রয়োজনীয় টিকাগুলো দেওয়া হয় না। ফলে করোনা মহামারির মধ্যেই পরিস্থিতি আরও খারাপ হচ্ছে। তবে জাতিসংঘের শিশু তহবিল ইউনিসেফের পরিচালক হেনরিটা ফোর বলেন, ‌‘আমাদের অবশ্যই মনে রাখতে হবে যে, একটি মারাত্মক রোগের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের কারণে যেন অন্য লড়াই বাধাগ্রস্ত না হয়।’

শিশুদের রোগ হিসেবে হাম (লাল ব়্যাশ) পরিচিত হলেও এ রোগ বড়দেরও হয়ে থাকে। এটি মারাত্মক আকার ধারণ করতে পারে। জ্বর, সর্দি, কাশি, গলা ব্যথা, জয়েন্টে ব্যথা এসবই হাম রোগের প্রাথমিক উপসর্গ। ২০১৯ সালে হামের প্রকোপ সবচেয়ে বেশি দেখা দেয় আফ্রিকার ডিআর কঙ্গো, জর্জিয়া, কাজাখস্তান, ইউক্রেনসহ নয়টি দেশে। সূত্র-ডিডব্লিউ।