বরগুনায় ১৩ বছরেও পু:ন নির্মান হয়নি সুরা বাঁধ

গোলাম কিবরিয়া,বরগুনা।।
ঘূর্নিঝড় সিডর-আইলায় বিধ্বস্ত হয়ে ভেঙ্গে যায় বেড়িবাঁধ। প্রবল স্রোতের তান্ডবে সেই ভয়াল সিডরের ১৩ বছর পার হলেও এখানে পু:ন নির্মাণ হয়নি ভেঙ্গে যাওয়া টেকসই সুরা বাঁধ। ১৩ বছর চলে গেলেও আজও কান্না থামেনি স্বজন হারানোদের । ১৩ বছরে জেলার বরগুনা, পাথরঘাটা, বেতাগী, বামনা, আমতলী ও তালতলী এ ৬টি টি উপজেলায় কিছু বন্যা নিয়ন্ত্রন বাঁধ সংস্কার করা হলেও এখনো অনেক বাঁধ সংস্কারহীন অবস্থায় রয়েছে।

উপকূলীয় জেলা বরগুনায় ৩৭ কিলোমিটার বেড়িবাঁধ ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। জেলার সাড়ে ৯শ’ কিলোমিটার বেড়িবাঁধের মধ্যে ঘূর্ণিঝড় সিডর, আইলা, মহাসেন, ফণীসহ একাধিক প্রাকৃতিক দুর্যোগে প্রায় সাড়ে পাঁচ’শ কিলোমিটার বাঁধ তিগ্রস্ত হয়। সে বাঁধ এখনও সম্পূর্ণ মেরামত হয়নি। এ জন্য বিলীন হয়ে গেছে বহু বসতবাড়ি, গাছপালা এবং কয়েক শ’ একর ফসলি জমি। এসব বাঁধ সম্পূর্ণ মেরামত না হতেই ঘূর্ণিঝড় বুলবুল আঘাত হানে। আতঙ্কে রয়েছে ঝুঁকিপূর্ণ বাঁধ এলাকার লাধিক বাসিন্দা।

পাথরঘাটার পদ্মার ইউপি সদস্য আবু বকর সিদ্দিক বলেন, বেড়িবাঁধ ভেঙে যাওয়ার ফলে ওই এলাকার মানুষ ঝুঁকি নিয়ে বসবাস করলেও সরকারের সংশ্লিষ্ট বিভাগ কোনো উদ্যোগ নিচ্ছেন না। সিডরের পর একটি বেড়িবাঁধ নির্মাণ করেছিল পানি উন্নয়ন বোর্ড। যত বারই এই বেড়িবাঁধ ভাঙে ততবারই করা হয় সংস্কার। এভাবে গত ১৩ বছরে বাঁধটি সংস্কার হয়েছে ১৩ বার।

পানি উন্নয়ন বোর্ড বরগুনা কার্যালয়ের নির্বাহী প্রকৌশলী কাইছার আলম বলেন, ‘বরগুনা জেলার ২২টি পোল্ডারের তিগ্রস্ত বাঁধের টেকসই সংস্কার ও ভাঙন রোধে কার্যকরি পদপে নিতে ইতোমধ্যে একটি প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে। ওই প্রকল্পটি অনুমোদন হলে বরগুনা জেলার কোন এলাকায় আর এ সমস্যা থাকবেনা’।

এ বিষয়ে বরগুনা জেলা প্রশাসক মো: মোস্তাইন বিল্লাহ বলেন, এ বাঁধটি ভেঙে যাওয়ার পর আমি ঘটনা স্থল পরিদর্শন করেছি। আপাতত দ্রুত সংস্কার কাজ করা হয়েছে। পানি উন্নয়ন বোর্ড এ বাধের প্রকল্প হাতে নিয়েছে। মন্ত্রনালয়ে অনুমোদন হলেই টেকসই সুরা বাঁধ নির্মাণ হবে।