ইন্দুরকানীতে আপন তিন ভাইকে কুপিয়ে জখম করেছে বখাটেরা, আটক-২

ইন্দুরকানী (পিরোজপুর) প্রতিনিধি।।
পিরোজপুরের ইন্দুরকানীতে ভাগ্নীকে উত্যক্ত করার প্রতিবাদ করায় ৩ মামাকে কুপিয়ে ও পিটিয়ে জখম করেছে স্থানীয় বখাটেরা। এ ঘটনায় পুলিশ ২ অভিযুক্তকে আটক করেছে। বুধবার (০৯ ডিসেম্বর) সকালে উপজেলার খোলপটুয়া গ্রামে এ হামলার ঘটনা ঘটে। হামলায় আহতরা হলেন- খোলপটুয়া গ্রামের মৃত হাসেম আলী শরীফের ছেলে জাকির শরীফ (৪০), জাহাঙ্গীর শরীফ (৫০) এবং লিটন শরীফ (২৮)।

হামলার শিকার ভূক্তভোগীরা জানান, ৩ দিন পূর্বে জাহাঙ্গীর শরীফের ভাগ্নী লিজা আক্তার খুলনা থেকে তাদের বাড়িতে বেড়াতে আসেন। এরপর মঙ্গলবার সন্ধ্যায় বাড়ির অন্য তিনটি মেয়ের সাথে গ্রামে ঘুরতে বের হয় সে। তখন স্থানীয় কিছু বখাটে তাদের তাড়া করলে তারা পার্শবর্তী একটি বাড়িতে আশ্রয় নেয়। পরবর্তীতে লিজার মামা খোকন শরীফ বিষয়টি নিয়ে প্রতিবাদ করায় তাদের দেখে নেওয়ার হুমকি দেয় বখাটেরা। এরপর আজ বুধবার সকালে জাকির, জাহাঙ্গীর ও লিটন কাজের জন্য বাইরে বের হলে পার্শ্ববর্তী কলারন গ্রামের স্থানীয় সাতঘর এলাকার মোস্তফা হাওলাদারের নেতৃত্বে ১০/১৫ জন হাতুরি, লোহার শাবল এবং ধারালো অস্র নিয়ে খোকন শরীফকে খুঁজতে থাকে। কিন্তু তাকে না পেয়ে প্রথমে খোকনের ভাই জাকির শরীফকে পার্শ্ববর্তী এসবিআই ইট ভাটা সংলগ্ন স্থানে ক্ষেতে কাজ করতে গেলে সেখানে তাকে এলোপাথারি পিটিয়ে এবং পওে কুপিয়ে জখম করে ফেলে রাখে। এরপর মোস্তফা তার দলবল নিয়ে খোকন শরীফের বাড়ি সংলগ্ন রাস্তা থেকে ধাওয়া করে ধান ক্ষেতে ফেলে জাহাঙ্গীর শরীফ ও ছোট ভাই লিটন শরীফকে পিটিয়ে ও কুপিয়ে জখম করে। গুরুতর আহত তিনজনকে ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার করে পিরোজপুর জেলা হাসপাতালে ভর্তি করে স্বজনরা। এঘটনায় গুরুতর আহত জাকির শরীফের অবস্থা আশংকা জনক বলে জানিয়েছেন তার স্বজনরা।

এদিকে খবর পেয়ে সকালে ইন্দুরকানী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোঃ হুমায়ুন কবির ও উপজেলা চেয়ারম্যান এ্যাড এম মতিউর রহমান ঘটনাস্থলে ছুটে যান। তবে এ ঘটনায় পুলিশ অভিযান চালিয়ে কলারন গ্রাম থেকে ঘটনার মূল হোতা মোস্তফা হাওলাদার ও মালেক নামে দুই জনকে আটক করে পুলিশ।

ইন্দুরকানী থানার ওসি মো: হুমায়ুন কবির জানান, এ ঘটনার খবর পেয়ে আমরা সকালে ঘটনাস্থলে ছুটে যাই। এখন পর্যন্ত ঘটনার সাথে জড়িত থাকার অভিযোগে দুজনকে আটক করা হয়েছে। তবে এ ঘটনায় থানায় এখন পর্যন্ত কোন মামলা দায়ের হয়নি বলে জানান তিনি। এ ঘটনায় লিখিত অভিযোগ পেলে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।