মহিপুর হাই স্কুল সভাপতির বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ

কুয়াকাটা (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি ॥
মহিপুর কো-অপারেটিভ মাধ্যমিক বিদ্যালয় ম্যানেজিং কমিটি সভাপতির স্বেচ্ছাচারীতায় বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকসহ শিক্ষক কর্মচারী ও শিক্ষার্থীরা অসহায় হয়ে পড়েছেন। বিদ্যালয়ের আয়ের টাকা বরাবরের মতো করোনাকালে সভাপতি চেয়ে না পেয়ে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে উঠেপড়ে লেগেছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। ফলে বিদ্যালয়ে ভেঙ্গে পড়েছে শিক্ষাব্যবস্থা ও সার্বিক শৃঙ্খলা। ইতোমধ্যে সভাপতির অব্যাহতি চেয়ে বিদ্যালয় ম্যানেজিং কমিটির সদস্যরা বরিশাল শিক্ষাবোর্ড চেয়ারম্যানের বরাবরে আবেদন জানিয়ে প্রধান শিক্ষকের হাতে একটি লিখিত দিয়েছেন।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আঃ ছালাম জানিয়েছেন, এসএসসি নিবন্ধন ফি বাবদ টাকা ব্যাংকে যথারীতি জমা হলেও সভাপতি মোঃ জাহাঙ্গীর আলম সোনালী ব্যাংকের সাবেক এজিএম থাকায় ব্যাংকে প্রভাব খাটিয়ে ভুয়া টিটি স্লীপ তৈরী করেন। এরপর তার জানা শিক্ষাবোর্ডের গোপন পাসওয়ার্ড ব্যবহার করে তাকে (প্রধান শিক্ষক) বিব্রতকর অবস্থায় ফেলতে বিভিন্ন অভিযোগ জানিয়ে আসছেন। প্রধান শিক্ষক আরো জানান, ২০১৯ সালের বার্ষিক পরীক্ষা ও ২০২০ সালের জানুয়ারি মাসের শিক্ষার্থীদের নিকট থেকে আদায়কৃত টাকা সভাপতি ব্যাংকে জমা দিতে না দিয়ে তিন লাখ চল্লিশ হাজার টাকা নিয়ে গেছেন। পরে বিদ্যালয়ে সিসি ক্যামেরা স্থাপন বাবদ এক লাখ চল্লিশ হাজার টাকার একটি অসম্পূর্ণ ভাউচার জমা দিলেও বাকী টাকা আত্মসাত করেন। এছাড়া আয়ের অন্যান্য টাকা শিক্ষকদের বেতন ও শহীদ মিনার নির্মাণ কাজে ব্যয় করা হয়, যার যথাযথ খরচ ভাউচার বিদ্যালয়ে সংরক্ষিত রয়েছে। একই সাথে সভাপতির নির্দেশক্রমে করোনাকালীন শিক্ষার্থীদের নিকট থেকে আদায় করা তিন মাসের বকেয়া বেতন বাবদ (শিক্ষার্থী প্রতি ৪’শ) ২ লাখ ৬৮ হাজার টাকা থেকে শিক্ষকদের বেতন এক লাখ ৯২ হাজার, বিদ্যুৎ বিল ৩৩ হাজার এবং বিদ্যালয়ে অ্যাসাইনমেন্ট জমা নেওয়াসহ অন্যান্য খাতে খরচ হয়েছে। এসবের খরচ ভাউচার বিদ্যালয়ে সংরক্ষিত রয়েছে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে বিদ্যালয়ের একাধিক শিক্ষক জানান, করোনাকালীন শিক্ষার্থীদের বকেয়া বেতনের আদায়কৃত ২ লাখ ৬৮ হাজার টাকা সভাপতি চেয়ে না পেয়ে প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে মাঠে নামেন। এর আগে একইভাবে বিদ্যালয়ের আয়ের অধিকাংশ টাকা প্রধান শিক্ষককে ব্যাংকে জমা দিতে না দিয়ে তার হাতে নেওয়ার একাধিক নজির রয়েছে বলেও দাবি ওই সকল শিক্ষকদের।

এসব বিষয়ে ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি মোঃ জাহাঙ্গীর আলম তার বিরুদ্ধে আনা সকল অভিযোগ অস্বীকার করে সংবাদিকদের জানান, প্রধান শিক্ষক নিয়ম না মেনে স্কুল পরিচালনা করেন বিধায় প্রতিবাদ করতে গিয়ে তিনি তার (সভাপতি) বিরুদ্ধে নেমেছেন।