করোনায় কৃষ্ণাঙ্গ চিকিৎসকের মৃত্যু, তদন্তের নির্দেশ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক।।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে করোনা মহামারীর চিকিৎসায় কৃষ্ণাঙ্গদের বঞ্চনার শিকার হতে হচ্ছে। প্রথম থেকেই এই অভিযোগ উঠেছে। কৃষ্ণাঙ্গ চিকিৎসক ডাঃ সুসান মোরের করোনা আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু আমেরিকার বর্ণ বিদ্বেষের অন্ধকার দিকটি আবার সামনে নিয়ে এলো। সমালোচনার মুখে চিকিৎসায় গাফিলতির তদন্ত করতে নির্দেশ দিয়েছে অভিযুক্ত ইন্ডিয়ানা ইউনিভার্সিটি হেল্থ কর্তৃপক্ষ।

গত মাসে করোনার উপসর্গ নিয়ে ইন্ডিয়ানার কার্মেলের আইইউ হেল্থ নর্থ হাসপাতালে ভর্তি হন ৫২ বছর বয়সী সুসান। নিজের অবস্থা সম্পর্কে সম্পূর্ণ ওয়াকিবহাল সুসান হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কাছে স্ক্যান ও নিয়মিত চেক আপের আবেদন করেছিলেন। তবে সেই আবেদনে কর্ণপাত করেনি হাসপাতাল। এই নিয়ে ৪ ডিসেম্বর ফেসবুকে একটি ভিডিও পোস্ট করেন সুসান। তাতে কৃষ্ণাঙ্গ হওয়ার জন্য চিকিৎসায় বঞ্চনার বিষয়টি তিনি তুলে ধরেন। সুসান বলেন, ‘যদি আমি শ্বেতাঙ্গ হতাম, তবে আমার সম্পূর্ণ চিকিৎসা হতো। কিন্তু কৃষ্ণাঙ্গদের চিকিৎসা না করেই বাড়িতে পাঠিয়ে দেয়া হয়। এভাবেই কৃষ্ণাঙ্গদের মরতে হয়।’ স্বজাতির ভবিতব্য সম্পর্কে সুসানের এই মন্তব্য ষোলআনা খেটে গেছে তার নিজের ক্ষেত্রেই!

সূত্রের খবর, ৭ ডিসেম্বর করোনামুক্ত না হলেও হাসপাতাল থেকে তাকে ছেড়ে দেয়া হয়। কিন্তু তার শরীরের তাপমাত্রা বাড়তে থাকে। পাশাপাশি রক্তচাপ কমতে থাকায় ১২ ঘণ্টার মধ্যে আবার তাকে অন্য একটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে ‘একটু ভালো’ চিকিৎসা পেয়েছিলেন বলে অন্য একটি ফেসবুক পোস্টে জানিয়েছিলেন সুসান। যদিও পরে তার অবস্থার অবনতি হয়। একসময় ভেন্টিলেটরে রাখতে হয় ওই চিকিৎসককে। গত ২০ ডিসেম্বর সুসানের মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছেন তার ১৯ বছর বয়সী ছেলে হেনরি মোহাম্মদ।

এরপরেই কৃষ্ণাঙ্গদের চিকিৎসা-বঞ্চনার বিষয়ে সরব হয়েছে নানা মহল। চাপে পড়ে সুসানের মৃত্যু নিয়ে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে ইন্ডিয়ানা ইউনিভার্সিটি হেল্থ। সংস্থার সিইও ডেনিস মার্ফি বলেন, ‘ডাঃ সুসানের মৃত্যুতে আমি দুঃখিত। এই নিয়ে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছি। চিকিৎসায় পক্ষপাত নিয়ে সুসানের অভিযোগ খতিয়ে দেখতে একাধিক কমিটি গঠন করা হয়েছে।’ সূত্র-বর্তমান।