দশমিনায় ১৬লাখ টাকা আত্মসাতের তদন্ত শুরু

দশমিনা (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি।।
পটুয়াখালীর দশমিনার সরকারি আব্দুল রসিদ তালুকদার ডিগ্রি কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে ১৬লাখ টাকা আত্মসাতের তদন্ত শুরু হয়েছে। কলেজ অধ্যক্ষ সুচিতা দাসের বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ এনে ওই কলেজের শিক্ষকরা দুদকের চেয়ারম্যান বরাবর লিখিত অভিযোগ দেন। অভিযোগ উঠেছে সুচিতা ও তার সমর্থকরা তদন্তে প্রভাব খাটানো এবং সাক্ষীদের নানান ভয়ভীতি দেখাচ্ছেন।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ২০২০সালের ৬জানুয়ারি কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ সুচিতা দাসের বিরুদ্বে বিধিবহির্ভূত কলেজের প্রায় ১৬লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ করেন শিক্ষকরা। কলেজের জ্যেষ্ঠ শিক্ষক মো. খলিলুর রহমান ও আবু জাফরসহ একাধিক শিক্ষক লিখিতভাবে এ অভিযোগ করেন।

অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, ২০১৯-২০২০অর্থবছরের একাদশ শ্রেনীতে ভর্তি ম্যানুয়াল ফি ৪লাখ, বার্ষিক পরীক্ষা ফি ৪লাখ, এইচএসসি বোর্ড পরীক্ষা ফি ২ লাখ, মার্কশিট-প্রশংসাপত্র বিতরণ বাবদ ২লাখ ও কলেজের শিক্ষক পরিষদের হিসাব থেকে ৬লাখ টাকাসহ মোট ১৬লাখ টাকা কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ সুচিতা দাস আত্মসাৎ করেন। ওই অভিযোগের ২১দিন পর ২০২০সালের ২৭ফেব্রুয়ারি দৈনিক ও সাম্প্রতিক অভিযোগ সেলের পরিচালক উত্তম কুমার মন্ডলের নজরে আসে। অভিযোগ সেলের পরিচালক ৯ মাসের মাথায় ওই বছরের ১৬ নভেম্বর পটুয়াখালী জেলা প্রশাসককে বিষয়টি তদন্তপূর্বক প্রতিবেদন দাখিলের অনুরোধ জানান।

জেলা প্রশাসক মতিউল ইসলাম চৌধুরী ২৫ নভেম্বর এডিসি শিক্ষা মো. এরফান উদ্দিনকে এক মাসের মধ্যে তদন্ত প্রতবেদনের নির্দেশ দেন। এডিসি শিক্ষা ১০ ডিসেম্বর দশমিনা ইউএনওকে ১৫ দিনের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ করেন।

দশমিনার ইউএনও তানিয়া ফেরদৌস ২২ ডিসেম্বর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আবু জাফরকে সরেজমিন তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ করেন।

২৭ ডিসেম্বর তদন্ত কর্মকর্তা আবু জাফর তদন্ত কার্যক্রম শুরু করেন। তদন্ত চলাকালীন ওই অধ্যক্ষ ও তার সমর্থকরা প্রভাব বিস্তারসহ সাক্ষীদের নানান ভয়ভীতি প্রর্দশনের অভিযোগ উঠেছে। অফিস সহায়ক মো. রফিকুল ইসলামসহ একাধিক সাক্ষী এ অভিযোগ করেন।

মো. রফিকুল ইসলাম অভিযোগ করেন, ৩ জানুয়ারি রোববার তদন্ত কর্মকর্তার কাছে লিখিতভাবে সাক্ষ্য প্রদানের পরদিন অফিস সহকারী মোশারেফ হোসেন ভয়ভীতি দেখিয়ে সাদা কাগজে স্বাক্ষর নেন।

অভিযোগকারী প্রভাষক মো. খলিলুর রহমান, প্রভাষক মো. আবু জাফর ও প্রভাষক মো. ফারুক হোসেন নিলয় অভিযোগ করে জানান, বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের জনবল কাঠামো এপিও নীতিমালা ২০১৮ এর ১৮(গ) এবং জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় চাকরি শর্তাবলী ২০১৯ এর ১৭(গ) ধারায় তদন্তকালীন তদন্তকারী কর্মকর্তার অভিযুক্তকে সাময়িকভাবে অপসারণ করার ক্ষমতা রয়েছে। কিন্তু ওই নীতি অনুসরণ করা হয়নি। ফলে অভিযুক্তরা তদন্তে প্রভাব বিস্তার করেছে।

এ ব্যাপারে অফিস সহকারী মো. মোশারেফ হোসেন মুঠোফোনে জানান, আমি কারও স্বাক্ষর নিইনি। আর পরে কথা বলি।

কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ সুচিত্রা দাস জানান, আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ করা হয়েছে। আমি কোনো প্রভাব বিস্তার করিনি।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও ডিজির প্রতিনিধি তানিয়া ফেরদৌস জানান, ডিজির সাথে আলাপ করে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষকে অপসারণ করা হবে।

তদন্তকারী কর্মকর্তা ও উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আবু জাফর জানান, অফিসিয়ালভাবে উভয়পক্ষকে চিঠি দিয়ে অবহিত করা হয়েছে। তদন্ত কাজ চলমান রয়েছে। এখানে প্রভাব বিস্তারের কোনো সুযোগ নেই। অভিযুক্তকে অপসারণ করার ক্ষমতা আমার নেই।