ধর্ষণে ব্যর্থ হয়ে স্কুলছাত্রীকে কুপিয়ে জখম: যুবকের ৩৮ বছর কারাদণ্ড

গোলাম কিবরিয়া, বরগুনা।।
গোপনে ঘরে ঢুকে স্কুল ছাত্রীকে ধর্ষণের ব্যর্থ হয়ে বাবা মেয়েকে কুপিয়ে জখম করার অভিযোগে এক যুবককে তিনটি অপরাধে ৩৮ বছর সশ্রম কারাদন্ড ১০ হাজার টাকা অর্থদন্ড অনাদায়ে আরও ছয় মাসের বিনাশ্রম কারাদন্ড দিয়েছে আদালত।

বুধবার (২০ জানুয়ারি) দুপুরে বরগুনার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মো: হাফিজুর রহমান এ রায় ঘোষনা করেন।
দন্ডপ্রাপ্ত আসামী হলেন- বরগুনা জেলার পাথরঘাটা উপজেলার চরলাঠিমারা গ্রামের আবদুল খালেকের ছেলে ইয়াসিন (২২) রায় ঘোষনার সময় আসামী আদালতে উপস্থিত ছিল।

জানা যায়, বাদী আবুল কালাম পাথরঘাটা থানায় ২০১৮ সালের ২৯ নভেম্বর লিখিত অভিযোগ করেন। তাঁর ভাগিনী পাথরঘাটা বারী আজাদ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে নবম শ্রেনীতে মানবিক শাখায় পড়া শুনা করে। আসামী ইয়াছিন বাদীর ভাগিনীকে বিভিন্ন সময় উত্ত্যক্ত সহ বিয়ে করার প্রস্তাব দেয়। দেলোয়ারা বেগম তার খালা জাহানারা বেগমের অসুস্থতার কারণে ২০২৮ সালের ২৮ নভেম্বর বিকাল অনুমান সাড়ে ৪ টায় সেখানে যায়। রাতে বাদীর ভাগিনী তার বসত ঘরে বারান্দার ঘুমায়। রাত অনুমান দুইটায় আসামী ইয়াছিন পূর্বপরিকল্পিত ভাবে অসৎ উদ্দেশ্যে স্কুল ছাত্রীর বাবা চান মিয়ার বসত ঘরের জালানার সিক খুলে ঘরে প্রবেশ করে স্কুলছাত্রীকে ধর্ষেণর চেষ্টা করে। স্কুল ছাত্রীর ঘুম ভেঙ্গে গেলে লেকের শব্দ পেয়ে তার বাবা চান মিয়াকে ডাক দেয়। চান মিয়া ইয়াছিনকে ধরে ফেলে। এ সময় ইয়াছিন চাকু দিয়ে চান মিয়াকে এলোপাথারী ভাবে কোপ দিয়া বাম হাতের কব্জির রগ, বাম হাতের তালুতে এবং তালুর অপর পাশেসহ গলায় রক্তাক্ত কাটা জখম করে। চান মিয়াকে রক্ষা করতে তার মেয়ে এগিয়ে আসলে ইয়াছিন চাকু দিয়ে স্কু্ল ছাত্রীকে খুনের উদ্দেশ্যে একাধিক কোপ দিয়ে পিঠে কাটা রক্তাক্ত জখম করে। পাথরঘাটা থানা তদন্তকারী কর্মকর্তা মনিরুজ্জামান তদন্ত শেষে ২০১৯ সালের ২৫ এপ্রিল আসামীর বিরুদ্ধে অভিযোগ পত্র দেয়।

রাষ্ট্র পক্ষের এপিপি আশ্রাফুল আলম রূপালী বার্তাকে বলেন, একটি জঘন্য মামলায় তিনটি ধারায় ইয়াসিনকে ৩৮ বছর সশ্রম কারাদন্ড দিয়েছে। একই সঙ্গে সাজা ভোগ করলে ১৪ বছর কারাভোগ করলেই হবে।

তিনি আরো বলেন, রাতের আধারে গোপনে ঘরে প্রবেশ করায় ১৪ বছর, নারী শিশু নির্যাতন দমন আইনে ১০ বছর ও কুপিয়ে মারাত্মক জখম করায় ১৪ বছর সশ্রম কারাদন্ড দিয়েছে আদালত। একই সঙ্গে সাজা ভোগ করলে ১৪ বছর কারাভোগ করলে সাজা শেষ হবে। আসামী পক্ষের আইনজীবী আক্তারুজ্জামান বাবুল বলেন, এই রায়ের বিরুদ্ধে আমরা উচ্চ আদালতে যাব।