পাথরঘাটায় স্বতন্ত্র প্রার্থীর ওপর হামলায় নেতৃত্ব দেওয়ার অভিযোগ এমপির বিরুদ্ধে

গোলাম কিবরিয়া, বরগুনা।।
বরগুনার পাথরঘাটা পৌরসভার নির্বাচনে স্বতন্ত্র মেয়র প্রার্থী মোস্তাফিজুর রহমান সোহেল ও তার বসতবাড়ি, ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের উপর হামলা-ভাংচুরের নেতৃত্ব দেয়ার অভিযোগ উঠেছে বরগুনা-২ (পাথরঘাটা, বামনা, বেতাগী) আসনের সংসদ সদস্য শওকত হাচানুর রহমান রিমন এমপির বিরুদ্ধে। বুধবার (২৭ জানুয়ারি) বেলা ১২টায় মোস্তাফিজুর রহমান সোহেল ও তার পরিবার আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ অভিযোগ করেন।

এসময় মোস্তাফিজুর রহমান সোহেল অভিযোগ করে বলেন, এমপি রিমন আমাকে স্বতন্ত্র মেয়র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশগ্রহণের জন্য উৎসাহিত করেন। তিনি আমাকে কখনোই নির্বাচন থেকে সরে গিয়ে দলীয় প্রার্থীকে সমর্থনের জন্য বলেননি। এখন এমপিই নিজেই আমার ঘরবাড়ি ভাংচুরের নেতৃত্ব দিয়েছেন।

সংবাদ সম্মেলনে পাথরঘাটা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে প্রত্যাহারের দাবি জানিয়ে বলা হয়, ওসি আওয়ামী লীগের প্রার্থীর পক্ষে সরাসরি কাজ করছেন। সংবাদ সম্মেলনে সোহেল ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন সোহেলের বাবা, পৌর আওয়ামী লীগ সভাপতি,নুরুল আমিন, ভাই উপজেলা পরিষদ ভাইস-চেয়ারম্যান মো. হাফিজুর রহমান সোহাগ, মা ও বোনসহ আত্মীয় স্বজন।সংসদ সদস্য রিমন প্রকাশ্যে সোহেল, তার ভাইসহ ৫ জনকে হত্যার হুমকি দিয়েছেন বলেনও অভিযোগ করা হয় এ সংবাদ সম্মেলনে।

উল্লেখ্য মঙ্গলবার বিকালে তালতলা পৌরসভার বেশকিছু জায়গায় নির্বাচনি প্রচারণায় বের হন আওয়ামী লীগ বিদ্রোহী মেয়র প্রার্থী মোস্তাফিজুর রহমান সোহেল। এসময় সোহেলের ওপর অতর্কিত হামলা চালায় কালমেঘা ইউনিয়নের বর্তমান চেয়ারম্যান শহীদ আকনের নেতৃত্বে আ.লীগ সমর্থকরা। পরে ঘটনাস্থলে গিয়ে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে গেলে শুরু হয় ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া। পরে পাথরঘাটা গোলচত্বরে এসে আ.লীগ সমর্থিত প্রার্থী আনোয়ার হোসেন আকনের সমর্থক ও বিদ্রোহী প্রার্থী মোস্তাফিজুর রহমান সোহেলের সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে প্রথমে লাঠিচার্জ শুরু করে পুলিশ।

এসময় দু’পক্ষের হামলায় পাথরঘাটা থানার ওসি শাহাবুদ্দিনসহ আহত হয় সাত পুলিশ সদস্য ও ৫ জন সাংবাদিক। পরে পুলিশ ফাঁকা গুলি করে ধাওয়া দিলে উভয় পক্ষের আহত হয় প্রায় অর্ধাশতাধিক। এরপরে স্বতন্ত্রপ্রার্থীর বাড়িঘর, বাড়ির সামনে থাকা পাঁচটি মোটরসাইকেল, মোহনা টেলিভিশনের কার্যালয় ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ভাঙচুর, কয়েকজন সাংবাদিকের মোবাইল ক্যামেরা লোপাট এর খবর এবং RAB এর গাড়ি ভাংচুরের ঘটনা ঘটেছে।