একটু ভালো খেতে গিয়েছিলেন মেজবানে, ফিরলেন লাশ হয়ে

অনলাইন ডেস্ক।।
বাড়ির পাশে ধনী পরিবারের এক বয়স্ক মহিলার মৃত্যুর ৫ দিন উপলক্ষ্যে মেজবান চলছিল। ওই মেজবানে গিয়েছিলেন ভালো খাবার খাবেন বলে দরিদ্র পরিবারের ভ্যানগাড়িচালক আব্দুর শুক্কুরের স্ত্রী মুন্নি আক্তার প্রকাশ মনোয়ারা (২২) নামে এক গৃহবধূ। শুক্রবার (১২ ফেব্রুয়ারি) দুপুর ১২টা ২০ মিনিটে মুন্নি আক্তার প্রকাশ মনোয়ারা ওই স্থানে মেজবান খেয়ে রাস্তা পার হওয়ার সময় মোটরসাইকেলের ধাক্কায় নিহত হন।

বাঁশখালী-প্রধান সড়কের বাঁশখালী পৌরসভার দক্ষিণ জলদী গ্রামের মনছুরিয়া বাজারের অদূরে রাস্তার পূর্বপাশে মনোয়ারার বাড়ি। রাস্তার পশ্চিম পাশে চলছিল মেজবান। আজ দুপুর ১২টা ২০ মিনিটে মুন্নি আক্তার প্রকাশ মনোয়ারা ওইস্থানে মেজবান খেয়ে রাস্তা পার হয়ে বাড়ি ফিরছিলেন। ওই সময় দ্রুতগামী মোটরসাইকেল চালক মো. সাগর নামের এক কিশোর প্রথমে ওই গৃহবধূকে ধাক্কা দেয়। তিনি রাস্তায় পড়ে গেলে পরে ওই দ্রুতগামী মোটরসাইকেলটি ওই মহিলার মাথার ওপর চাপা দিয়ে অদূরে গিয়ে কিশোরটিও ছিটকে পড়ে। ওই সময় কিশোর মো. সাগরেরও মাথা ফেটে যায়। পথচারীরা দ্রুত গৃহবধূ মনোয়ারাকে রক্তাক্ত অবস্থায় বাঁশখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। ওইখানকার কর্তব্যরত ডাক্তার আশংকাজনক অবস্থায় প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে তাকে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করেন।

বর্তমানে মনোয়ারার লাশ বাঁশখালী হাসপাতালেই রয়েছে। মেঝবান খেয়ে আর তাকে বাড়ি ফিরতে হয়নি। মার মৃত্যুর খবরে দুই শিশু সন্তানের কান্নায় পরিবেশ ভারী হয়ে উঠেছে। পুলিশ মোটরসাইকেলটি উদ্ধার করেছেন। তবে মোটরসাইকেল আরোহী কিশোর বাঁশখালী পৌরসভার দক্ষিণ জলদী গ্রামের শফিউর রহমানের পুত্র মো. সাগর (১৫) পালিয়ে গেছে। অপরদিকে মনোয়ারা মারা যাবার পর স্থানীয় একটি দালাল গ্রুপ টাকার বিনিময়ে ঘটনা মীমাংসার জন্য তৎপর হয়ে পড়েছে।

নিহত মুন্নি আক্তার প্রকাশ মনোয়ারার বাবা জাকের আহমদ বলেন, মনোয়ারার ২টি শিশু সন্তান রয়েছে। তার স্বামী আব্দুর শুক্কুর ঘরজামাই হিসেবে থাকত। আব্দুর শুক্কুরের বাড়ি কক্সবাজারের ঈদগাঁ গ্রামে।

বাঁশখালী থানার এসআই নাজমুল হক বলেন, ঘটনার পর পর ঘাতক মোটরসাইকেলটি পুলিশ উদ্ধার করেছে। আহত কিশোর মোটরসাইকেল চালক কোথায় পালিয়ে গেছে খোঁজ নেওয়া হচ্ছে। পুলিশ লাশ উদ্ধার করেছে। এ ব্যাপারে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।