বেতাগীতে চেয়ারম্যানকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে জখম, সুস্থ হয়ে ফিরেছেন এলাকায়

বেতাগী প্রতিনিধি, বরগুনা।।
বরগুনায় আলোচিত প্রকাশ্যে কপিয়ে জখম প্রতিপক্ষের হামলার শিকার বেতাগী উপজেলার সরিষামুড়ি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ইমাম হোসেন শিপন সুস্থ হয়ে এলাকায় ফিরেছেন।

মঙ্গলবার ( ২৩ ফেব্রুয়ারি) বেলা ১১টার দিকে তিনি হেলিকপ্টারে করে সরিষামুড়ির মায়ারহাট এলাকায় বিদ্যালয়ের মাঠে অবতরণ করেন। এসময়ে দলীয় নেতাকর্মী সহ হাজার হাজার সাধারণ জনগন তাকে দেখার জন্য বিদ্যালয়ের মাঠে ভীড় জমান।

উল্লেখ্য, ২০২০ সালের ২০ নভেম্বর দুপুরে বেতাগী উপজেলার সরিষামুড়ি ইউনিয়নের কালিকাবাড়ি গ্রামে একটি বিয়ের অনুষ্ঠানে থেকে ফেরার পথে ওত পেতে থাকা দুর্বৃত্তরা ইমাম হাসানের মোটরসাইকেলের গতিরোধ করে উপর্যপুর কুপিয়ে যখম করে। আহত অবস্থায় স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে বরগুনা জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে আসেন। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখান থেকে ওই দিন রাতেই উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে জাতীয় অর্থোপেডিক ও পুনর্বাসন কেন্দ্রে (পঙ্গু হাসপাতাল) পাঠানো হয়। সেখানে দীর্ঘ তিনমাস চিকিৎসাধীন থাকার পর মঙ্গলবার সকালে তিনি ঢাকা থেকে বরগুনার বেতাগী উপজেলার সরিষামুড়ি ইউনিয়নে নিজ এলাকায় আসেন। এসময় ওই ইউনিয়নের হাজার হাজার মানুষ সেখানে উপস্থিত হন। পরে মায়ারহাট এলাকায় এক সভায় অংশ নেন ইমাম হাসান শিপন।

সভায় বক্তব্যে শিপন বলেন, ‘সাবেক চেয়ারম্যান ইউসুফ শরীফ ও তার ছেলেদের হামলার শিকার হওয়ার পর আপনারা যেভাবে আমার পাশে দাড়িয়েছেন, আমার জন্য দোয়া করেছেন আমি আপনাদের প্রতি কৃতজ্ঞ। ইউসুফ শরীফ ও তার ছেলেরা আমার উপর হামলার পর যেভাবে আপনারা ছুটে এসেছেন, আমার পাশে ছিলেন আমি আপানাদের এ ঋণ কোনোদিন শোধ করতে পারবোনা। তিনি আরো বলেন, আপনাদের দোয়ায় আমি হয়ত বেঁচে আছি, আপনাদের সেবায় আমি মৃত্যুর আগ পর্যন্ত পাশে থাকতে চাইথ। তিনি পুলিশ প্রশাসন ও সাংবাদিকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করে বলেন, ঘটনার পরপরই জেলা পুলিশ যে আইনগত পদক্ষেপ নিয়েছে আমি সন্তষ্ট, সাংবাদিক ভাইয়েরা কুখ্যাত খুনি ইউসুফ শরীফ গংয়ের মুখোশ উন্মোচন করে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছেন। আমি সাংবাদিক ভাইদের প্রতি আজীবন কৃতজ্ঞ।

সভায় বরগুনা জেলা আওয়ামী লীগের নেতৃবিন্দ, বেতাগী উপজেলা আওয়ামীলীগের নেতৃবিন্দসহ বিভিন্ন ইউনিয়নের চেয়ারম্যনবৃন্দ, জেলা আওয়ামী যুবলীগের নেতৃবৃন্দ ও জেলা পরিবহন মালিক শ্রমিক ঐক্য পরিষদের নেতা-কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

ইমাম হোসেন শিপনের উপর হামলার ঘটনায় ২৪ নভেম্বর রাত ১০টার দিকে বেতাগী থানায় ওই মামলা হয়। আহত চেয়ারম্যানের শ্বশুর রফিকুল ইসলাম বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেন। মামলায় ওই ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান ইউসুফ শরিফকে প্রধান আসামি এবং তার তিন ছেলেসহ ১৪ জনের নাম উল্লেখ এবং পাঁচ থেকে ছয় জনকে অজ্ঞাত আসামি করা হয়েছে। এ ঘটানায় দুজনকে গ্রেপ্তার করা হলেও মুল আসামীরা এখনো ধরা ছোঁয়ার বাইরে রয়েছেন।