বাগেরহাটে ইউপি নির্বাচন কেন্দ্র করে সংঘর্ষে গুলিবিদ্ধ ১০, আহত ৭৫

সেখ মুজাহিদুল ইসলাম, বাগেরহাট।।
আসন্ন ইউপি নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বাগেরহাটের তিনটি উপজেলার ভোটের মাঠ উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে সংঘর্ষের ঘটনায় ১০জন গুলিবিদ্ধ সহ ৭৫ জন আহত হয়েছে। আহতরা বাগেরহাট, খুলনা, চিতলমারি, গোপালগঞ্জ ও শরণখোলা হাসপাতালে ভর্তি রয়েছে। এই ঘটনায় একাধিক মামলাহয়েছে বরে পুরিশ সূত্রে নিশ্চিত হওয়াগেছে । সাবেক এক চেয়ারম্যানসহ আটক হযেছে ৪জন । জব্দ করাহয়েছে আগ্নেয়াস্ত্র ও গুলি।

পুলিশ ও স্থানয়ি সূত্রে জানা গেছে বাগেরহাট সদরউপজেলার ডেমা ইউনিয়নের সাত নম্বর ওয়ার্ডের দুই প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে বৃহস্পতিবার রাতে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এই ঘটনায় বর্তমান ইউপি সদস্য সজিব তরফদার ও অহেদ মোস্তফা বাপ্পীর সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষে অন্তত ১০ জন গুলিবিদ্ধসহ ১৫জন আহত হয়েছে। এর মধ্যে গুলিবিদ্ধ ৮জন বাগেরহাট সদর হাসপাতালে ও গুলিবিদ্ধ দুইজনসহ বাকিরা খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি রয়েছে। চিতল মারি উপজেলার কলাতলা ইউনিয়নের স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান প্রার্থী আলমগীরসহ তার ২০ জন সমর্থক আহত হয়েছে বলে দাবী করেছেন তিনি ।

তিনি জানান, শুক্রবার চিলতমারি উপজেলা পরিষদ এলাকায় মনোনয়ন পত্র যাচাই বাছাই কালে নৌকার প্রার্থী বর্তমান চেয়ারম্যান বাদশার লোকজন তার উপর হামলা করে এসময় তিনিসহ তার অন্তত ২০জন সমর্থক আহত হয়েছেন। তাদেরকে চিতলমারি ও গোপাল গঞ্জ চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। এছাড়া শরণখোলা উপজেলার সাউথ খালী ইউনিয়নের ৫নম্বর ওয়ার্ডের বর্তমান ইউপি সদস্য সাইফুল ইসলাম ও নতুন প্রার্থী আলামিন গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষে অন্তত ৪০ জন আহত হয়েছে। এদের মধ্যে ২৩জন শরণখোলা হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছে। পাঁচজন খুলনা মেডিকেলে প্রেরন করা হয়েছে।

এদের মধ্যে বাগেরহাট সদরের ডেমা ইউনিয়নের সংঘর্ষের ঘটনায় শুক্রবার ভোরে ডেমা ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান তরফদার মকবুল (৭১), জসি মল্লিক (২৬), মল্লিক সুজাউদ্দৌলা রচি (৪০) ও মকবুল চেয়ারম্যানের মেয়ে মাকসুরা আক্তার (৩৫) কে আটক করেছে পুলিশ। মকবুল চেয়ারম্যানের ব্যবহৃত একটি বন্দুক ও ১৬ রাউন্ড গুলি জব্দ করেছে বাগেরহাট সদর মডেল থানা পুলিশ।
এছাড়াও জেলার বিভিন্ন উপজেলায় ইউপি নির্বাচন কে কেন্দ্র করে বেশকিছু প্রার্থী ও সমর্থকদের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছে।

বাগেরহাটের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মীর শাফিন মাহমুদ বলেন, বাগেরহাট সদর উপজেলার ডেমা ইউনিয়নে সংঘর্ষের ঘটনায় মামলা হয়েছে। আমরা চারজনকে আটক করেছি। চিতলমারী উপজেলা চত্বরে পুলিশ মোতায়েণ করা হয়েছে। পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে। শরণখোলা সাউথখালিতেও পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। শরণখোলা ও চিতলমারীতে এখন পর্যন্ত কোন অভিযোগ দেয়নি কেউ। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে। পরবর্তীতে সহিংসতা এড়াতে পুলিশ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি।

১১ এপ্রিল বাগেরহাটের ৯ উপজেলায় ৭৫টি ইউনিয়নের মধ্যে ৭০টি ইউনিয়নে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।