সহিংসতার আশঙ্কা, ইউপি ভোটে বিদ্রোহী প্রার্থীর ছড়াছড়ি

জাকির হোসেন, বানারীপাড়া।।
বরিশালের বানারীপাড়ায় বিদ্রোহী প্রার্থী ও সরকার দলীয় বিভিন্ন ওয়ার্ডে একাধিক ইউপি সদস্য ও মহিলা সদস্য নির্বাচনে প্রতিদ্বন্ধীতা করায় উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে সংঘাতের আশংকা দেখা দিয়েছে।

প্রথম ধাপের ৩৭১ ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে মনোনয়নপত্র দাখিল করেছেন ১ হাজার ৭৫২ জন। এর মধ্যে ১ হাজার ৯৯ জনই স্বতন্ত্র প্রার্থী। বরিশালের বানারীপাড়ায় উপজেলার ৭টি ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে নৌকা প্রতীকের বিপরীতে স্বতন্ত্র ব্যানারে ২১জন বিদ্রোহী প্রার্থী হয়েছেন। এছাড়াও জাসদের একজন ও এনপিপির দু’জন প্রার্থী রয়েছেন। ফলে বিদ্রোহী প্রার্থীরা আওয়ামী লীগ প্রার্থীদের গলার কাঁটায় পরিণত হয়েছেন। বিএনপি প্রার্থী না থাকার পরেও স্বস্তিতে নেই আওয়ামী লীগ প্রার্থীরা।

৩৭১ ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনে অধিকাংশই আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী। বাকি ৬৫৩ জন আওয়ামী লীগসহ ১১টি রাজনৈতিক দলের মনোনীত। বিএনপিসহ নিবন্ধিত বেশিরভাগ রাজনৈতিক দল এ নির্বাচনে দলীয় প্রতীকে প্রার্থী দেয়নি।তবে বিএনপির অনেকেই স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসাবে কোনো কোনো স্থানে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন।

এছাড়া ২৭টি ইউনিয়ন পরিষদে চেয়ারম্যান পদে একজন করে মনোনয়নপত্র দাখিল করেছেন। তারা বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয়ের পথে রয়েছেন। এ নির্বাচনে সবমিলিয়ে ২০ হাজার ৪৯০ জন মনোনয়নপত্র দাখিল করেন।

চেয়ারম্যান ছাড়া সাধারণ সদস্য পদে (মেম্বার) ১৪ হাজার ৪৩৫ জন ও সংরক্ষিত সদস্য পদে ৪ হাজার ৩০৩ জন প্রার্থী হন। নির্বাচন কমিশন (ইসি) সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

১১ এপ্রিল প্রথম ধাপের এ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। ইসি থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, যে ২৭টি ইউনিয়নে একক প্রার্থী রয়েছে সেগুলো বাদে বাকি ৩৪৪টিতে গড়ে ৫ জনের বেশি প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

এর মধ্যে গড়ে তিনজনের বেশি স্বতন্ত্র প্রার্থী। বানারীপাড়া সদর ইউনিয়নে বিদ্রোহী প্রার্থী হয়েছেন সাবেক চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের কৃষি বিষয়ক সম্পাদক আবুল কালাম আজাদ ও উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক যুগ্ম আহবায়ক মুনতাকিম লস্কর কায়েস। এখানে নৌকার প্রার্থী উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও বর্তমান চেয়ারম্যান আ. জলিল ঘরামী। এদিকে ৭ ইউনিয়নে সাধারণ সদস্য পদে ২৫৫ ও সংরক্ষিত নারী সদস্য পদে ৭৫ জন তাদের মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন বলে উপজেলা নির্বাচন অফিস সূত্রে জানাগেছে।

বানারীপাড়া ৭ টি ইউনিয়নের মধ্যে বানারীপাড়া ০৭ নং সদর ইউনিয়নটি অধিক ঝুকিপূর্ন। এই ইউনিয়নের কেন্দ্রগুলোতে আতিপত্য বিস্তারের জন্য ইতিমধ্যে বিভিন্ন প্রার্থীদের তৎপরতা শুরু হয়েছে। ইউপি সদস্য ও সংরক্ষিত মহিলা ইউপি সদস্যদের কেহ কেহ পেশী শক্তি, দলীয় প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করছে। ইতিমধ্য ভোটারদের স্ব স্ব পক্ষে ভোট না দিলে কেন্দ্রে না যাওয়ার ও হুমকি দিচ্ছে। অনেক ভোটাররা ইতিমধ্যে সহিংষতার ভয়ে কেন্দ্র না যাবার কথা ও জানিয়েছেন। সদর ইউনিয়নের বেশ কয়টি ওয়ার্ডে নির্বাচনী সহিংসতার আশংকা রয়েছে।

এদিকে সব উপজেলার ইউনিয়ন গুলোতে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, স্বতন্ত্র প্রার্থীদের বেশিরভাগই আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী। এ নির্বাচনে বিএনপি দলীয় প্রতীকে অংশ না নেয়ার ঘোষণায় সরকারি দলের বিদ্রোহী প্রার্থীর সংখ্যা বেড়েছে।