পাকিস্তানে শিশুর সামনে মাকে ধর্ষণের ঘটনায় দুজনের মৃত্যুদণ্ড

আন্তর্জাতিক ডেস্ক।।
পাকিস্তানে বহুল আলোচিত এক ধর্ষণের মামলায় দোষী সাব্যস্ত দুজনকে শনিবার (২০ মার্চ) মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। গাড়ির পেট্রোল ফুরিয়ে যাওয়ায় এক পাকিস্তানি-ফরাসি নারী তার দুই শিশুকে নিয়ে লাহোরের কাছাকাছি এক মহাসড়কে আটকা পড়েছিলেন। ধর্ষক আবিদ মালহি ও শাফকাত আলি বাগগা তখন গাড়িটি ভেঙে করে ডাকাতি করেন এবং ওই নারীকে তার দুই শিশুর সামনে ধর্ষণ করেন।

এ ঘটনায় এক পুলিশ কর্মকর্তা মন্তব্য করেছিলেন, ওই নারী কেন এত রাতে বাইরে ছিলেন। এই ধর্ষণের বিচারের দাবিতে ও পুলিশের বক্তব্যের প্রতিবাদে তখন তীব্র বিক্ষোভ শুরু হয় পাকিস্তানে।

শনিবার লাহোরের এক বিশেষ আদালত আবিদ মালহি ও শাফকাত আলিকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ, অপহরণ, ডাকাতি ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের অপরাধে দোষী সাব্যস্ত করে মৃত্যুদণ্ডের রায় দেন।

আসামীদের আইনজীবী জানান, তারা আদালতের এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল করবেন।

যা ঘটেছিল সেদিন: ২০২০ সালের ৯ সেপ্টেম্বর ওই নারী গাড়ি চালিয়ে লাহোর থেকে অন্যত্র যাচ্ছিলেন। পথিমধ্যে তার গাড়ির পেট্রোল ফুরিয়ে যায়। তার দুই শিশু সন্তানও তখন তার সঙ্গে ছিলেন। ওই নারীর প্রকৃত নাম জনসম্মুখে প্রকাশ করা হয়নি।

মহাসড়কের মধ্যে আটকা পড়ায় তিনি গুজরানওয়ালায় তার এক আত্মীয়কে ফোন দেন। সেই আত্মীয় তাকে মহাসড়কের জরুরি নম্বরে ফোন দিতে বলেন এবং নিজেও সাহায্য করার জন্য বের হন।

পুলিশের অভিযোগপত্রে বলা হয়, তিরিশ বছরের মাঝামাঝি বয়সের দুই পুরুষ ঐ নারীর গাড়ি ভেঙে তার কাছে থাকা গহনা ও টাকা কেড়ে নেন। এরপর কাছাকাছি এক মাঠে দুই শিশুর সামনেই ওই নারীকে তারা ধর্ষণ করেন এবং পালিয়ে যান।

পুলিশ জানায়, ওই নারী মানসিকভাবে বিধ্বস্ত ছিলেন। তবে তারপরও ধর্ষকদের প্রাথমিক কিছু বর্ণনা তিনি পুলিশকে দিয়েছিলেন।

ঘটনার পরের দিন লাহোরের জ্যেষ্ঠতম পুলিশ কর্মকর্তা উমর শেখ সংবাদ সম্মেলনে হাজির হন। সেখানে তিনি ধর্ষণের জন্য ওই নারীকেও আংশিকভাবে দায়ী করেন। তিনি প্রশ্ন তোলেন, শিশু সন্তানদের সঙ্গে একা থাকার পরেও কেন ওই নারী আরও ব্যস্ত কোনো সড়ক ব্যবহার করেননি অথবা গাড়িতে পেট্রোল আছে কিনা তা চেক করেননি।

বেশ কয়েকটি টেলিভিশনে ওই পুলিশ কর্মকর্তা বারবার এই বিষয়গুলো বলেছিলেন। তিনি আরও বলেন, ফ্রান্সে বসবাসকারী ওই নারী মনে হয় পাকিস্তানকে ফ্রান্সের মতোই নিরাপদ ভেবেছিলেন।

এই বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় প্রতিবাদে ফেটে পড়ে পুরো পাকিস্তান। দেশটিতে ধর্ষণের প্রতিবাদে এমন বিক্ষোভ আগে কখনো দেখা যায়নি।

ভিকটিম-ব্লেমিংয়ের কারণে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ওই পুলিশ কর্মকর্তার পদত্যাগ দাবি করেন অনেকে। এ ঘটনায় সারা পাকিস্তান জুড়ে বিভিন্ন জায়গায় বিক্ষোভ শুরু হয়। বিক্ষোভকারীরা এ ঘটনার বিচার ও নারীদের নিরাপত্তার দাবি তোলেন।

গত ডিসেম্বরে পাকিস্তানে নতুন আইন পাস করা হয় যেখানে ধর্ষণের দ্রুত বিচার ও আরও কঠোর শাস্তির বিধান রাখা হয়েছে। সূত্র-বিবিসি।