বরগুনায় ইউপি নির্বাচনে সহিংসতা বাড়ছেই, ভোটাররা শংকিত

গোলাম কিবরিয়া, বরগুনা।।
উপকূলীয় বরগুনা জেলার ৫ টি বরগুনা সদর, আমতলী, বামনা, বেতাগী ও পাথরঘাটা উপজেলার ২২ টি ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন আগামী ১১ই এপ্রিল অনুষ্ঠিত হবে। তবে ২৫ শে মার্চ প্রার্থীদের প্রতিক বরাদ্দ দেয়ার পর থেকেই বাড়ছে নির্বাচনি সহিংসতা।

এদিকে সাধারন ভোটররা নিরাপেক্ষ,অবাধ ও সুষ্ঠ নির্বাচন হওয়া নিয়ে শংকিত রয়েছেন। গত তিনদিনে সদরের আয়লা পাতাকাটা, আমতলী, বামনা ও বেতাগীতে আওয়ামী লীগ ও সতন্ত্র ( বিদ্রোহী) প্রার্থীদের সমর্থক ও কর্মীদের মধ্যে প্রভাব বিস্তারকে কেন্দ্র করে প্রায় দুই শতাধিক লোক আহত হয়েছেন।

এদের মধ্যে থেকে আশংকাজনক অবস্থায় ৫০ জনকে বরিশাল শেবাচিম ও পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। বাকীরা স্থানীয় জেনারেল ও উপজেলা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
আমতলীর স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান প্রার্থী আবুল কালাম অভিযোগ করে বলেন, আমার সমর্থক নাসির তালুকদারের নেতৃত্বে বিকেলে আনারস মার্কার সর্মথনে চরকগাছিয়া সোমবাড়িয়া বাজার এলাকায় মোটর সাইকেলযোগে নির্বাচনী প্রচারনা চালায়। এসময় নৌকা সমর্থক কাওসার তালুকদারের নেতৃত্বে নৌকার সমর্থকরা তাদের উপর অতর্কিত হামলা চালায়। এতে আমার ৪ কর্মী- সমর্থক গুরুত্বর আহত হয়েছে। তাদের চিকিৎসার জন্য বরিশাল শেবাচিম হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

আমতলীর আওয়ামী লীগ মনোনিত নৌকা মার্কার চেয়ারম্যান প্রার্থী সোহেলী পারভীন মালা পাল্টা অভিযোগ করেন, স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান প্রার্থীর সমর্থকরা শো ডাউনের নামে সোমবাড়িয়া ও নতুন বাজারে আমার দুটি নির্বাচনী অফিসে হামলা চালিয়ে তা ভাংচুর করে। এতে আমার ৮ কর্মী- সমর্থক আহত হয়েছে।

বামনা সদরের সতন্ত্র ( বিদ্রোহী) ঘোরামার্কা প্রার্থী সোহেল সিকদার বলেন, নির্বাচনে প্রচারনা নিয়ে কথা কাটাকাটির জেরে আমার প্রতিপক্ষ হামলা চালিয়ে আমিসহ আমার ৯ নেতা-কর্মীকে আহত করে। এছাড়াও নৌকা মার্কার সমর্থকরা আমার পোষ্টার ও ব্যানার ছিড়ে ফেলে দিচ্ছেন। তাই রিাপেক্ষ নির্বাচন হবে কিনা ? তানিয়ে আমি শংকিত।

বামনার মনির নামের এক সাধারন ভোটার জানান, ইতিমধ্যে বরগুনায় নির্বাচনী সহিংসতা বাড়ছে, প্রতিদিনই হামলা ও সংঘর্ষ হচ্ছে। প্রসাশন নিরভ ভূমিকায়। তাই নিরাপেক্ষ , অবাধ ও সুষ্ঠ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়া নিয়ে আমরা শংকিত ও আতংকিত। প্রার্থীরা আচরন বিধি লংঘন করলেই এর কোন প্রতিকার হচ্ছেন না।

এ বিষয়ে বরগুনা পুলিশ সুপার জাহাঙ্গীর মল্লিক বলেন, যে কোন গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষ ও হামলার ঘটনায় পুলিশ সংবাদ পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে তাৎক্ষনিক পরিস্থিতি নিয়নত্রন করেন। এছাড়াও আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে এসে চিকিৎসা করানো হয়। পরিস্থতি সম্পূর্ন পুলিশের নিয়ন্ত্রনে রয়েছে। পুলিশ লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত করে আইনি ব্যবস্থা গ্রহন করবেন।