মঠবাড়িয়ায় অবৈধ অস্ত্রধারীর ছবি ফেসবুকে ভাইরাল, যা বলছে পুলিশ

মঠবাড়িয়া প্রতিনিধি, পিরোজপুর।।
পিরোজপুরের মঠবাড়িয়ায় ইউপি নির্বাচনী প্রচারণার সময় দুটি ইউনিয়নে আ’লীগ, বিদ্রোহী ও স্বতন্ত্র প্রার্থীর সমর্থকদের প্রকাশ্যে অবৈধ আগ্নেয় অস্ত্র ব্যবহারের খবর পাওয়া গেছে। এসময় প্রতিপক্ষ প্রার্থীর সমর্থকদের গোলাগুলিতে দুজন গুলিবিদ্ধসহ অন্ততঃ ৩৫ জন আহত হয়েছে। গুরুতর আহতরা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও বরিশাল শেবাচি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে।

এদিকে নির্বাচনী সহিংসতার ঘটনায় মঠবাড়িয়া থানায় পৃথক তিনটি মামলায় ৭৯ জন এজাহার নামীয় ও অজ্ঞাতনাম ৯০ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হলেও মুল অস্ত্রধারীরা গ্রেপ্তার না হওয়ায় এলাকা বাসির মাঝে আতংঙ্ক বিরাজ করছে। মিরুখালীতে নির্বাচনী সহিংসতায় ব্যবহৃত অবৈধ আগ্নেয় অস্ত্র ব্যবহার করা বাদুরা গ্রামের মজিবর পঞ্চায়েতের ছেলে মোশারফ (৩৫) এর ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হলেও পুলিশ তাকে খুঁজে পাচ্ছে না।

উপজেলার মিরুখালী ইউপিতে আ‘লীগ সমর্থিত চেয়ারম্যান প্রার্থী বীর মুক্তিযোদ্ধা আবদুস সোবাহান শরীফ অভিযোগ করে বলেন, ঘটনার দিন গত ২৭ মার্চ শনিবার রাতে বিদ্রোহী প্রার্থী উপজেলা যুবলীগ সভাপতি আবু হানিফ খানের সমর্থক ইউনিয়ন যুবলীগ সভাপতি লাভলু তালুকদার ও ভাড়াটিয়া বাদুরা গ্রামের মোশারফ, রিপন ও সেরাজুল নামে ৪ জন অবৈধ অস্ত্র প্রদর্শন করে ৩০ রাউন্ড ফাকা গুলি করে। গোলাগুলির সময় তার দুই কর্মি গুলিবিদ্ধসহ ৭/৮ জন গুরুতর জখম হন বলেও তিনি জানান। আবদুস সোবাহান শরীফ আরও অভিযোগ করেন, অস্ত্রধারীর প্রকাশ্যে ঘুরলের পুলিশ তাদের গ্রেপ্তার করছে না।

এ ব্যপারে বিদ্রোহী প্রার্থী উপজেলা যুবলীগ সভাপতি আবু হানিফ বলেন, তার সমর্থকদের অবৈধ অস্ত্র বহন ও গুলি বর্ষণের অভিযোগ অস্বীকার করে আ‘লীগ প্রার্থীর সমর্থক বিরুদ্ধে পাল্টা আগ্নেয় অস্ত্র দিয়ে গুলি করার অভিযোগ আনেন।

তাছাড়া একই দিনে (২৭ মার্চ) সকালে বেতমোর রাজপাড়া ইউনিয়নের বেতমোর বাজারে আ‘লীগ মনোনীত চেয়ারম্যান প্রার্থী দোলোয়ার হোসেন আকন ও স্বতন্ত্র প্রাথী শহিদুল ইসলাম এর সমর্থকদের মধ্যে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে ১৫ জন আহত হয়। স্বতন্ত্র প্রাথী শহিদুল ইসলাম এর সমর্থকরা হেলমেট পরে বাজারে ধারালো অস্ত্র নিয়ে মহড়া দেয়। এসময় আ‘লীগ মনোনীত দেলোয়ার হোসেন আকনের সমর্থক আলমগীর অবৈধ আগ্নেয় অস্ত্র প্রদর্শন করে।

মঠবাড়িয়া থানার ওসি মাসুদুজ্জামান মিলু বলেন, মিরুখালীতে গোলাগুলির সময় প্রকাশ্যে আগ্নেয় অস্ত্র ব্যবহার করা ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া ছবিটি শতভাগ এডিট করা বলে দাবী করেন। মিরুখালীর ঘটনায় দুই আসামী গ্রেপ্তার করে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। অন্য আসামী গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছ্।

পিরোজপুর পুলিশ সুপার হায়াতুর ইসলাম খান বলেন, গুলি বিদ্ধ আহতরা কোন ধরনের আগ্নেয় অস্ত্রেও গুলিতে আহত হয়েছে তা ডাক্তারের কাছে জানতে চাওয়া হয়েছে। আগ্নেয় অস্ত্র উদ্ধার ও আসামী গ্রেপ্তারে পুলিশ তৎপর রয়েছে।