ডায়রিয়ার প্রকোপ: স্যালাইন সংকটে বেতাগীর ফার্মেসী, রোগীদের দূর্ভোগ

বেতাগী(বরগুনা)প্রতিনিধি।।
বরগুনার বেতাগী ৫০ শয্যা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে হঠাৎ করে ডায়রিয়ার রোগী বেড়ে যাওয়ায় স্যালাইন শঙ্কট দেখা দিয়েছে। ফলে থেমে গেছে ডায়রিয়া রোগীদের চিকিৎসা। এদিকে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের পাশাপাশি স্যালাইন নেই উপজেলার বিভিন্ন ফার্মেসিতেও। বেতাগী পৌরসভার একটি ফার্মিসিতেও আইভি স্যালাইন নেই ফলে চরম দূর্ভোগে চিকিৎসা নিতে আসা রোগীরা। করোনার প্রাদুর্ভাবের মধ্যেই ডায়রিয়ার চরম প্রকোপে রোগীর সংখ্যা দিন দিন বৃদ্ধি পাওয়ায় চিকিৎসাসেবা দিতে হিমশিম খাচ্ছে বেতাগী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স কর্তৃপক্ষ।

একদিনের ব্যাবধানে হাসপাতালে ভর্তি আছেন ৫২জন রোগী মৃত্যু হয়েছে ২ জনের। রোগের প্রকোপ নিয়ন্ত্রণে না আসায় ওয়ার্ডে জায়গা সংকুলান হচ্ছে না। তাই চাপ সামলাতে হাসপাতালের বারন্দায় বাধ্য হয়ে আক্রান্ত রোগীরা চিকিৎসা নিচ্ছেন। ওয়ার্ডের বাইরে বৈদ্যুতিক পাখা না থাকায় গরমে নাভিশ্বাস হয়ে উঠেছে চিকিৎসাধীন রোগীর। হাসপাতালে পর্যাপ্ত আইভি স্যালাইন নেই। ফলে তা বাইরের দোকান থেকে অতিরিক্ত দামে কিনতে হচ্ছে রোগীর স্বজনদের।শনিবার (১৭ এপ্রিল) দুপুরে হাসপাতালের ডায়রিয়া ওয়ার্ড ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে। তবে রাতে সম্পূর্নই ভিন্ন বাহিরের ফার্মিসি গুলোতেও কোন ধরনের স্যালাইন নেই বলে জানান ভুক্তভোগী রোগীদের স্বজনরা।

একাধিক ফার্মাসিস্ট বলেন, হাসপাতাল থেকে পর্যাপ্ত স্যালাইন না দেয়ায় রোগীরা বাজার থেকে আইভি স্যালাইন সংগ্রহ করেন।রোগীর চাপ বৃদ্ধি পাওয়া সকল ফার্মিসিতে স্যালাইন সংকট হয়। রাতে সকল ফার্মিসি স্যালাইন শূণ্য হয়ে যায়। এমন চলতে থাকলে রোগীদের অবস্থা চরমে পৌছাবে।

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, গত ২৪ ঘণ্টায় হাসপাতালের ডায়রিয়া ওয়ার্ডে ভর্তি হয়েছেন ৬৮ জন (শনিবার বিকাল ৪টা পর্যন্ত)। চিকিৎসাধীন রয়েছেন ৫২ জন রোগী। এছাড়াও শনিবার ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় কাইয়ালঘাটা গ্রামের বাসিন্দা নুরুল ইসলাম(৭০) নামের এক বৃদ্ধ ও পৌরসভার চন্দ্র ভানু নামের এক বৃদ্ধা মারা যান। ছারপত্র পেয়েছেন ১৬ জন রোগী। চলতি মাসে ৪৩০ রোগী ডায়রিয়ায় আক্রন্ত হয়ে চিকিৎসা নিয়েছেন।

হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. রবিন্দ্রনাথ সরকার জানান, হাসপাতালে আইভি স্যালাইনের পর্যাপ্ত সরবরাহ না থাকায় আনুপাতিক হারে রোগীদের স্যালাইন সরবরাহ করা হচ্ছে। রোগীর সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় বারান্দায় চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। লকডাউন চলমান থাকায় বারান্দায় বৈদ্যুতিক পাখার ব্যবস্থা করা সম্ভব হয়নি। রোগীদের সেবাপ্রদানে আমরা সাধ্যানুযায়ী চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।স্যালাইন সংকটের বিষয়টি দ্রুত সমাধান করা হবে।