সেই হাসান মাহামুদের পাশে বরগুনা জেলা প্রশাসক

বেতাগী প্রতিনিধি, (বরগুনা)।।
অদম্য মেধাবী মো. হাসান মাহামুদ মেডিক্যাল কলেজে ভর্তি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছে। সে এবারের ভর্তি পরীক্ষায় ঢাকা মেডিক্যাল কলেজে এমবিবিএসে জাতীয় মেধা তালিকায় ১৯৫ তম স্থান অধিকার করে পড়ার সুযোগ পেয়েছে। ‘দারিদ্রতা মাহামুদের ডাক্তার হওয়ার বাধা’ শিরোনামে গত ১৮ এপ্রিল বেশ কয়েকটি স্থানীয় ও জাতীয় দৈনিকে একটি প্রতিবেদন ছাপা হয়। বিষয়টি বরগুনা জেলা প্রশাসক মো. হাবিবুর রহমানের নজরে আসে।

মঙ্গলবার (২০ এপ্রিল) দুপুরে বেতাগী উপজেলার মোকামিয়া ইউনিয়নের মাদরাসা বাজারের ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী মাওলানা হাফিজুর রহমানের ছেলে মো. হাসান মাহমুদ ১০ হাজার টাকা আর্থিক সহায়তা প্রদান করেন জেলা প্রশাসক মো. হাবিবুর রহমান। তাঁর বাবাকে ধন্যবাদ জানানো হয় এবং তাকে অনুপ্রানিত করা হয়। একজন ভালো ডাক্তার হয়ে দেশের অসহায় মানুষের সেবা করার জন্য পরামর্শ দেওয়া হয়। এ সময় উপস্থিত ছিলেন জেলা সিভিল সার্জন মারিয়া হাসান, বরগুনা সদর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা মাসুমা আক্তার।

জানা গেছে, বাবা ও মা স্বপ্ন ছেলে ডাক্তার হবে। মেডিকেলে ভর্তির সুযোগ স্বপ্ন পূরণে প্রথম ধাপ অতিক্রম করলেন হাসান। হাসানের বাবা মাওলানা হাফিজুর রহমান এখন উপজেলার মোকামিয়া ইউনিয়নের মাদরাসা বাজারে ৫ বছর ধরে ক্ষুদ্র ব্যবসা করে আসছেন। মা গৃহিণী হোসনে আরা বেগম। পাচঁ সদস্যর পরিবার নিয়ে জীবনের সাথে সংগ্রাম করে ক্ষুদ্র ব্যবসা করে কোন মতে বেঁচে থেকে সংসার চালাচ্ছেন। তিন ভাই বোনের মধ্যে হাসান সবার বড়। ভাই হাসানের সাফল্যে সবচেয়ে খুশি তাঁর ছোট বোন করুনা বালিকা দাখিল মাদরাসা দশম শ্রেণি পড়ুয়া শিক্ষার্থী মোসা. হাফেজা আক্তার ও প্রথম শ্রেণিতে পড়ুয়া ছোট ভাই মোহাম্মদ আহসান উল্লাহ । হাসান বরিশাল হাতেম আলী সরকারি কলেজ থেকে বিজ্ঞান বিভাগে এইচএসসিতে জিপিএ-৫ এবং করুনা মোকামিয়া কামিল মাদরাসা থেকে এসএসসিতে জিপিএ-৫ পেয়েছে। এছাড়া ৫ম ও ৮ম শ্রেণিতে ট্যালেন্টপুলে বৃত্তি লাভ করেন।

মেধাবী মো. হাসান মাহামুদ জানায়, ‘বাবা মায়ের স্বপ্ন আর অনুপ্রেরণা আজকের এ সাফল্য। দাদী ফাতেমা বেগম বেঁচে থাকলে সবচেয়ে বেশি খুশি হতেন। ভর্তি পরীক্ষার তারিখ জানার পর প্রস্তুতি হিসেবে প্রতিদিন ১২-১৪ ঘণ্টা করে পড়ালেখা করছে। ছোটবেলা থেকে ডাক্তার হওয়ার লক্ষ্যেই পড়াশোনা করেছে মায়ের অনুপ্রেরণা নিয়ে।