বরগুনায় বসতবাড়ীতে হামলা-ভাংচুর: নিরাপত্তারহীনতায় পরিবার

বরগুনা প্রতিনিধি।।
বরগুনায় বসতবাড়ীতে হামলা, ভাংচুর, লুটপাট ও ডাকাতি সংঘঠিত হয়েছে। এর পরেও এ ঘটনায় পালিয়ে বেড়াচ্ছেন বরগুনা সদর উপজেলার আয়লা পাতাকাটা ইউনিয়নের পূর্ব কেওড়াবুনিয়া গ্রামে মজিবুর রহমান ও তার ভাই মোঃ হিমু মিয়া।

অপরদিকে ডাকাতি, লুটপাট, হামলার বিষয়ে পুলিশ মামলা গ্রহণ নিয়ে গড়িমসি করছেন। করোনায় পূর্ণাঙ্গ আদালত কোর্ট না খোলার কারণে কোর্টেও মামলা করতে পারছেন না মজিবুর রহমান।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শনিবার রাত ৮টার দিকে বরগুনা সদর উপজেলার আয়লাপাতাকাটা ইউনিয়নের পূর্ব কেওড়াবুনিয়া গ্রামে মজিবুর রহমান ও তার ভাই মোঃ হিমু মিয়ার বসতবাড়িতে পূর্ব শত্রুতার জেরে দুটি বসতবাড়ী ও একটি মোটরসাইকেল ভাংচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে।

মজিবর রহমানের স্ত্রী ওয়াহিদা পারভিন জানান, শনিবার রাত আনুমানিক ৮টার দিকে পার্শ্ববর্তী একই বংশের ফোরকান, ইউনুস, কামাল, শামিম, আইয়ুব আলী, নান্টু, দেলোয়ার মেম্বার, আলতাফ হোসেনসহ ৩০/৪০ জনের একটি সন্ত্রাসীদল পূর্ব পরিকল্পিতভাবে সন্ত্রাসী কায়দায় ঘরের দরজা ভেঙ্গে ঘরে প্রবেশ করে ভাঙচুর চালায় । তারা ঘরে থাকা ষ্টিল আলমিরা ভেঙ্গে নগদ ৭০ হাজার টাকা, ৭ভরি স্বর্ণালংকার ও একটি মোবাইল সেট নিয়ে চলে যায়। তিনি আরও বলেন, পার্শ্ববর্তী মোঃ হিমু মিয়ার বসত ঘরও এসময় তারা কুপিয়ে ভাংচুর করে। প্রতিপক্ষরা দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে তাড়িয়ে দেয় আমাদের। এ ঘটনায় মজিবর রহমান বরগুনা থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।

ভুক্তভোগী মজিবুর রহমান অভিযোগ করে বলেন, লোমহর্ষক এঘটনার পরে আইনের আশ্রয়ও নিতে পারছি না প্রভাবশালী প্রতিপক্ষের প্রভাবে। তারা খুনজখমের ভয়ভীতি দেখাচ্ছে। তাদের ভয়ে ভীত সন্ত্রস্ত হয়ে বাড়িঘর ছেড়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছি। আমাদের পরিবার বাড়িতে নিরাপত্তারহীনতার মধ্যে আছে। বাড়িতে ভয়ে যেতে পারছিনা

তিনি আরো বলেন, পুলিশ মামলা না নেয়ায় প্রতিপক্ষরা আমাদের মেরে ফেলার হুমকি-ধমকি দিচ্ছে। চুরি, লুটপাট, হামলা, ডাকাতি কোন বিষয়ে মামলা গ্রহণ করবে এনিয়ে গড়িমসি করছে থানা পুলিশ। পুলিশ মামলা না নেওয়ায় যেকোনো দুর্ঘটনা ঘটার আশঙ্কা করছেন তিনি।

বরগুনা সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি তদন্ত) মোঃ শহিদুল ইসলাম বলেন, মজিবুর রহমান ও তার ভাই হিমুর বসতঘরে হামলা করে বাড়িতে অবরুদ্ধ করে রাখা হয়েছে এমন সংবাদের ভিত্তিতে পুলিশ পাঠিয়ে পুলিশের পিকআপ ভ্যানে করে তাকে থানায় নিয়ে আসা হয়েছে।