বোরহানউদ্দিনে পদ্মামনসা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৫০ শতাংশ জমি ভূমিদস্যুদের দখলে

বোরহানউদ্দিন প্রতিনিধি।।
ভোলার বোরহানউদ্দিনে ২২ নং পদ্মামনসা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৫ কোটি টাকার বহুতলা ভবন ও সীমানাপ্রাচীর নির্মাণ অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।বিদ্যালয়ের মূল জমির ৫০ শতাংশ দীর্ঘ ৪৯ বছর ভূমিদস্যুদের দখলে।বিদ্যালয়ের সম্পত্তি উদ্ধারে চরম ব্যর্থতা ফুটে উঠেছে প্রাথমিক শিক্ষা কর্তৃপক্ষের।

বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা সাবেক প্রধান শিক্ষক চিত্তৱঞ্জন দাস বলেন, “আমি এ বিদ্যালয়কে এসএ ১০৩২, বিএস ৫০৪১ দাগে ২৪ শতাংশ জমি দিয়েছি।”সাবেক এ প্রধান শিক্ষক আরো বলেন, “মো. কবির হোসেন নামের ব্যক্তির কাছে আমি যে ৬ শতাংশ জমি বিক্রি করেছি তার দাগ নং হলো, এসএ ১০৩১ ও বিএস ৫০৩৯।বিক্রয় করা এ জমির সাথে বিদ্যালয়ের জমির কোনো বিরোধ নেই।” সাবেক এ প্রধান শিক্ষক একজন শারীরিক প্রতিবন্ধি ও অচলপ্রায়।

এদিকে এক অনুসন্ধানে দেখা যায়, পদ্মামনসা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নামে রেকর্ডকৃত মোট জমির পরিমাণ ৭৪ শতাংশ।এসএ ১০৩২, বিএস ৫০৪৫ দাগে ২৪ শতাংশ, এসএ ১৪৫৪, বিএস ৬১২৫ দাগে ১৯ শতাংশ ও এসএ ১৪৫৬, বিএস ৬১১৩ দাগে ৩১ শতাংশ রেকর্ডে উল্লেখ রয়েছে।অথচ বিদ্যালয়ের দখলে রয়েছে মাত্র।প্রশ্ন হলো, অবশিষ্ট ৪০ শতাংশ জমি কার দখলে! পুরো জমি দখলে না থাকায় ইতোমধ্যে ৫ কোটি টাকার একটি বহুতলা ভবন বিদ্যালয় পায়নি। বর্তমানে বিদ্যালয়ের সীমানাপ্রাচীর নির্মাণের কাজ শুরু হয়েও জমি বিরোধ জটিলতায় বন্ধ রয়েছে।

স্থানীয় অপর একটি সূত্র জানায়, সমস্যা আরো গভীরে।মো. কবির হোসেন এসএ ১০৩২ ও বিএস ৫০৪১ দাগে মোট ৫৪ শতাংশের ৬ শতাংশ জমি কিনেছে। এখানে মোট জমির ওয়ারিশ হলেন, চিত্তরঞ্জন দাস, বাবুল দাস ও আব্দুর রহমান। এরমধ্যে চিত্তরঞ্জন দাস পাবেন মোট সম্পত্তির দুই অংশ।

বোরহানউদ্দিন উপজেলা শিক্ষা অফিসার স্থানীয় সাংবাদিকদের দেয়া এক ভিডিও বক্তব্যে বলেন, বিদ্যালয়ের নামে রেকর্ডকৃত পুরো জমি উদ্ধারে প্রশাসনিক উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।

এদিকে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হেমায়েত উদ্দিন বলেন, ১৯৭২ সালে প্রাথমিক স্কুল টি প্রতিষ্ঠিত হয়। প্রাথমিক স্কুলের নামে এসএ -২৯৬ খতিয়ানে অন্তর্ভুক্ত ৫২ শতাংশ জমি রয়েছে। তবে পাশে থাকা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের নামে একই খতিয়ানে আরো ১০ শতাংশ জমি রয়েছে। সে ১০ শতাংশ জমি এওয়াজ বদল হিসেবে প্রাথমিক বিদ্যালয় মালিক হিসেবে ভোগ দখল করে আসছে। এ বিষয়ে কবির হোসেনের সাথে জমি বিরোধ ঘটনায় বোরহানউদ্দিন উপজেলা প্রাথমিক থানায় অভিযোগ দেয়া হয়েছে বলে তিনি জানান।

বিদ্যালয়ের জমি বিরোধ ঘটনায় গত শনিবার (১০ এপ্রিল) বিকেলে সংবাদ সম্মেলন করেছেন, অবসরপ্রাপ্ত সৈনিক মো. কবির হোসেন।তিনি দাবি করেন, বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হেমায়েত উদ্দিন অবৈধভাবে তাঁর ক্রয়কৃত জায়গা দখল করে বিদ্যালয়ের সীমানাপ্রাচীর নির্মাণ করছেন।

অভিযোগ সম্পর্কে বোরহানউদ্দিন থানার এস আই দেলোয়ার হোসেন বলেন, ১২ এপ্রিল, সোমবার উভয়পক্ষকে জমির কাগজপত্র নিয়ে থানায় আসার জন্য বলা হয়েছে।এসময় এএসআই মাহফুজও উপযুক্ত সমাধানে উভয় পক্ষের বিরোধ মেটানোর কথা বলেন।যদিও বিষয়টি নিয়ে থানায় বসা হয়নি।

সর্বশেষ উভয়পক্ষ স্থানীয় ৪ নং কাচিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আলহাজ্ব আবদুর রব কাজীর সাথে দেখা করলে তিনি উভয়কে কাগজপত্র নিয়ে পরিষদের বসার জন্য বলেন। এ বিষয়ে উভয়পক্ষ লকডাউন পরবর্তী সালিশের মাধ্যমে জমি বিরোধের বিষয়টি মীমাংসা করতে সম্মত হয়েছে বলে জানা যায়।