বঙ্গোপসাগরে নদী দখল করে মাছ শিকার

গোলাম কিবরিয়া, বরগুনা।।
বঙ্গোপসাগরে প্রশাসনকে ম্যানেজ করেই পোনা শিকারের মহোৎসব চালাচ্ছেন প্রভাবশালীরা। আর বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এসব জালের ব্যবহার বন্ধ করতে না পারলে নষ্ট হবে সাগরের ইকো-সিস্টেম, বিলুপ্ত হবে ইলিশসহ বিভিন্ন জলজ প্রাণি।
বঙ্গোপসাগরের তিন নদীর মোহনায় কিলোমিটারের পর কিলোমিটার এলাকা জুড়ে অবৈধ গোপ জাল পেতে ইলিশসহ বিভিন্ন প্রজাতির মাছের পোনা ধরছে উপকূলের কিছু অসাধু জেলে।

ট্রলার মালিক সমিতির দেওয়া তথ্য মতে, পাথরঘাটার হরিণঘাটা এলাকার হিরণ, শহিদ নাজির, এনামুলসহ প্রায় ৩২ জন লোক গোপ জাল পেতে পোনা শিকার করছে। তবে হিরণ একাই তিন নদীর মোহনার প্রায় ৩০ কিলোমিটার এলাকায় গোপ জাল পেতে পোনা শিকার করছেন।

সরেজমিনে দেখা যায়, পায়রা, বলেশ্বর ও বিষখালীর তিন নদীর মোহনায় প্রায় ৬০ কিলোমিটার এলাকা জুড়ে খুঁটি দিয়ে গোপ নামের সূক্ষ্ম ফাঁসের জাল পেতেছে জেলেরা। একটু সামনে এগিয়ে দেখা যায় কয়েকশ কিলোমিটার এলাকা গোপজালে সয়লাব।

বরগুনা জেলা ট্রলার মালিক সমিতির সভাপতি গোলাম মোস্তফা চৌধুরী বলেন, প্রশাসনকে ম্যানেজ করে হিরণ ও শহীদ নাজিরসহ বেশ কয়েকজন প্রভাবশালীর নেতৃত্বে বঙ্গোপসাগরের মোহনা দখল করে রেখেছে। কমপক্ষে ১০০ কিলোমিটার এলাকা গোপ জালের দখলে। এসব নিয়ে একাধিকবার আমরা মানববন্ধন করেছি। বিক্ষোভ মিছিল করেছি, প্রধানমন্ত্রী বরাবর স্মারকলিপি দিয়েছি। তারপরেও সমাধান হয়নি।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত হিরন বলেন, গত বছর পোনা শিকার করেছি এটা সত্য। তবে এই নিয়ে বিভিন্ন সমস্যার সৃষ্টি হলে এখন আর পোনা মাছ শিকার করি না আমি। কেউ শত্রুতামূলকভাবে এখন আমার নামে বদনাম করছে।

বরগুনা সরকারি মহিলা কলেজের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক খালেদা জান্নাতী বলেন, এসব জালে শুধু মাছের পোনা নয়, মারা পড়ছে মাছের ডিম ও বিভিন্ন জলজ প্রাণি। আবার একদিকে পানিতে ভাসমান ক্ষুদ্র প্রাণি বা জীব যেভাবে নেটের জালে মারা পড়ছে, অন্যদিকে জলজ প্রাণির খাবার উঠে যাচ্ছে সেসব জালে। যার ফলে হুমকির মুখে পড়বে ইলিশসহ বিভিন্ন মাছ।

এ বিষয়ে বরগুনার জেলা প্রশাসক হাবিবুর রহমান বলেন, যারা নষ্ট করছে দেশের সম্পদ তাদের কোনোভাবেই ছাড় দেওয়া হবে না। শিগগিরই কোস্টগার্ড ও উপজেলা প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে অভিযান চালানো হবে বঙ্গোপসাগরে।