কেমন কাটছে কুলিদের জীবন!

অনলাইন ডেস্ক।।
দেশের বর্তমান পরিস্থিতি দিকে তাক করলে বোঝা যায়। আগেকার যুগে শিক্ষাদানের একটা উপায় ছিল গল্প বলার মধ্যে দিয়ে। কারো মুখের সুন্দর ও মূল্যবান উক্তিগুলি গড়ে তুলতো নতুন ভবিষ্যতের কান্ডারিদের। তেমনি উক্তি বা বাণী মানুষের জীবনে নানা পরিবর্তন যেমন আনতে পারে, তেমনি বিপন্ন মুহূর্তে সাহসও যোগাতে পারে। আর পারে নিজের সঠিক পথের কথা স্মরণ করিয়ে দিতে। তাই ভালো ভালো কথা সবারই ভালো লাগে। এই ভালোলাগার পেছনে কারণটা হলো আশাবাদ। মানুষ আশাবাদের জন্যই বেঁচে থাকে , স্বপ্ন দেখে সুন্দর ভবিষ্যতের। কিন্তু বর্তমান করোনাকালে পরিস্থিতিতে নিম্নবিত্ত শ্রেণির দিনমজুর পেশার কুলিদের জীবন কেমন কাটছে! একটু ফিরে দেখা যাক।

হঠাৎ হুইসেল বাজিয়ে ট্রেন আগমন ঘটলেই যাদের জীবনের আসল যুদ্ধ শুরু হতো। কেমন আছে এখন তারা!

আক্ষেপের সুরে আব্বাস মিয়া জানান, “বর্তমানে তো ইনকাম নাই। অনেক কম কোন রকম আর কি জীবনযাপন করতেছি।”

করোনা পরিস্থিতি সংসার কীভাবে চালাচ্ছেন, এমন প্রশ্নের জবাবে আব্বাস মিয়া বলেন, “আগে যেভাবে চলাইছি এহন তার থেকে একটু কষ্ট হইয়া যায়গা। তারপরও আমাদের চলাইতে হয়। চলতে হয়। ঘরভাড়া টরভাড়া বাইজা রইছে।”

তবে রেল খাতের অনেক উন্নয়ন হলেও তাদের ভাগ্যের কোন পরিবর্তন হয়নি। উল্লেখ্য, করোনা ভাইরাসের কারণে গত মার্চের শেষদিকে ট্রেন চলাচল বন্ধ ঘোষণা করেছিলো সরকার। এরপর গত ৩১শে মে থেকে এক সিট ফাঁকা রেখে শুরু হয় রেলযাত্রা। গত ১৬ই সেপ্টেম্বর থেকে সব আসনে যাত্রী নিয়ে চলাচলের অনুমতি পায় বাংলাদেশ রেলওয়ে। অতপর চলতি বছরে হরতাল, করোনার প্রাদুর্ভাব সবমিলিয়ে এখনও বন্ধ রয়েছে যাত্রীবাহী ট্রেন চলাচল।

সদরঘাটে অভ্যন্তরীণ নৌ পথের ঘাটশ্রমিক কুলিরা কেমন রয়েছে! সদরঘাটে গিয়ে দেখা যায়, জনমানবহীন টার্মিনালের ঘাপটি মেরে বসে রয়েছে কিছু কুলি। লঞ্চের পাখা ঘুরে না, মানুষ নাই তাই কাজ নেই বলে দাবি করেন অনেকে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কুলি বলেন, ‘আগে যে কয়টা খ্যাপ পাইতাম তার হিসাব রাখতেন মহাজন। খ্যাপপ্রতি তাঁকে দিতে হয় অর্ধেক মজুরি। এহন কাম কাজ নাই পেটে ভাতও নাই। চুরি কইরা মেঘনার গাঙ্গে মাছ ধরতে গেলে স্থানীয়দের হতে মাইর খাই’য়া ফেরত আসতে হয়। কাম না করলে খামু কি এই লগডাউনে!”

এই দুঃসময়ে কোনো সহায়তা না পেয়ে মানবেতর জীবন কাটছে তাদের। যাদের পরিবার-পরিজন নিয়ে বেঁচে থাকতে হয় তাদের জন্য সরকারি সহায়তার দাবি জানিয়েছে শ্রমিকরা। অচিরেই শ্রমিকদের পাশে দাঁড়ানোর আশ্বাস দিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

এদিকে চাঁদপুর লঞ্চঘাটের শ্রমিক সর্দার আব্দুর রশিদ। পঞ্চাশোর্ধ্ব এই বৃদ্ধ দীর্ঘ ৩৫ বছর কুলির কাজ করে সংসার চালাচ্ছেন। কিন্তু লকডাউনে লঞ্চ চলাচল বন্ধ থাকায় পরিবার নিয়ে বিপাকে পড়েছেন তিনি।

তিনি বলেন, ‘আমার ৫৫ বৎছর জীবনে ৩৫ বৎছর ধইরা লচঘাটে কুলির কাম কইরা আইতেছি। এই দীর্ঘ কর্মজীবনে অনেক খারাপ সময় পার অইছে। অনেক সময় হরতাল বা প্রকৃতিক কারণে লচ চলাচল বন্দ থাকত। কিন্তু অহনকার মতন এমন কটিন সময় আর কহনই আহে নাই আমার জীবনে।

উল্লেখ্য, দেশে লকডাউনের কারণে গত ১৪ এপ্রিল থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য সারা দেশে যাত্রীবাহী লঞ্চ চলাচল বন্ধ। এতে করে চাঁদপুর লঞ্চঘাট থেকে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের ১২টি রুটে চলাচল করা প্রায় অর্ধশত লঞ্চ বিভিন্ন ঘাটে নোঙর করা আছে। কাজ না থাকায় এবারের ঈদ উদযাপন কেমন কাটবে এমন আসংখ্যা ও অনীহা মধ্যে রয়েছে দেশের নিম্নবিত্ত শ্রেণির দিনমজুর পেশার কুলিদের।