রোজিনা ইসলামের মুক্তির দাবিতে বরগুনায় মানববন্ধন

গোলাম কিবরিয়া, বরগুনা।।
সাংবাদিক রোজিনা ইসলামকে হেনস্তা করা মিথ্যা মামলার দায়ের এবং নিঃর্শত মুক্তির দাবিতে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে বরগুনায়। বরগুনা সাংবাদিক ইউনিয়ন ও বরগুনা রিপোটার্স ইউনিটি বুধবার (১৯ মে) সকাল ১০ টায়র দিকে বরগুনা সাংবাদিক ইউনিয়ন চত্ত্বরে এই মানববন্ধন আয়োজন করেন।

বরগুনা সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি মজিবুল হক কিসলুর সভাপতিত্বে মানববন্ধনে বক্তারা বলেন- পেশাগত দায়ীত্ব পালনের সময় সাংবাদিক রোজিনা ইসলামের উপর যে নির্যাতন হয়েছে তা অত্যান্ত দুঃখজনক। একজন সকরারি কর্মকর্তা কোন বলে একজন সংবাদ কর্মীকে এভাবে আটক করে রেখেছে তা আমরা জানতে চাই। বক্তারা নির্যাতনের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ করে রোজিনা ইসলামের মুক্তির দাবি জানান।

তারা আরও বলেন, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের দুর্নীতি নিয়ে বেশ কয়েকটি অনুসন্ধানী প্রতিবেদন করেছিলেন রোজিনা ইসলাম। স্বাস্থ্য বিভাগের শত শত কোটি টাকার দুর্নীতি ও অনিয়ম নিয়ে একের পর এক ধারাবাহিক প্রতিবেদন প্রকাশ করার কারণে তার বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ আনার পাশাপাশি হেনস্থা করা হয়েছে। হামলা মামলা দিয়ে সাংবাদিকদের দমিয়ে রাখা যাবে না।রোজিনা ইসলামকে হেনস্তা ও মিথ্যা মামলার দিয়ে হয়রানি করার মধ্যে দিয়ে প্রমানীত হয় যে স্বাধীন সাংবাদিকতা এখন বাকরুদ্ধ হচ্ছে।তারা রোজিনা ইসলামের বিরুদ্ধে দায়ের করা মিথ্যা মামলা দ্রুত প্রত্যাহার দাবি জানান।

বরগুনা রিপোটার্স ইউনিটির সভাপতি মাহবুবুল আলম মান্নু বলেন, সাংবাদিকদের গলা চেপে ধরে কখনো কলম থামানো যাবে না। সাংবাদিকরা সব সময় দুর্নীতির বিরুদ্ধে অবস্থান করে আসছে এবং অদূর ভবিষ্যতেও সৎ ও নিষ্ঠার সাথে দায়িত্ব পালন করে। সাংবাদিক রোজিনা ইসলামেকে হেনস্থা করে, তাকে শারিরীক মানসিকভাবে লাঞ্চিত করার তীব্র নিন্দা জানান এবং মিথ্যা মামলা প্রত্যাহারের দাবি জানান।

বরগুনা সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি মজিবুল হক কিসলু বলেন, রোজিনা ইসলাম অনুসন্ধানী সাংবাদিকতার জ্বলন্ত দৃষ্টান্ত। স্বাস্থ্যখাত নিয়ে তিনি বেশ কয়েকটি অনুসন্ধানী রিপোর্ট করেন যা সারাদেশে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করে। স্বাস্থ্য খাতের দুর্নীতি নিয়ে ধারাবাহিক রিপোর্টের জেরেই রোজিনা ইসলামকে লাঞ্চিত ও হেনস্থা করে স্বাস্থ্য বিভাগ। নিজেদের অন্যায় ডাকতে স্বাস্থ্য বিভাগ একজন সাংবাদিকের গলা চেপে ধরে কখনোই তাদের দায় এড়াতে পারেনা। রোজিনা ইসলামের নামে মিথ্যা ষড়যন্ত্র মূলক মামলা প্রত্যাহার ও তদন্ত সাপেক্ষে স্বাস্থ্য খাতের দুর্নীতি গ্রস্থদের শাস্তি দাবি করেন।