বহেরাতলা-পাথরঘাটা মহাসড়ক নির্মাণে নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহারের অভিযোগ

মো: মনির আকন, মঠবাড়িয়া।।
মঠবাড়িয়াবাসীর দীর্ঘদিনের দাবীর ফসল পৌরশহরের বহেরাতলা হতে থানাপাড়া পাথরঘাটা বাসষ্ট্যান্ড পর্যন্ত আঞ্চলিক মহাসড়ক নির্মাণে ব্যাপক দুর্ণীতি, নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার ও ভবন উৎকোচ গ্রহণের অভিযোগ ওঠছে ঠিকাদারের বিরুদ্ধে। বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ছড়িয়ে পড়লে পৌরবাসীসহ স্থানীয় জনগণের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

গোটা দক্ষিনাঞ্চলের সড়ক পথের যোগাযোগ মাধ্যম এ আঞ্চলিক এ সড়ক নির্মানে সকল অনিয়ম, দুর্ণীতি রোধ ও সিডিউল অনুযায়ী করার লক্ষে বীর মুক্তিযোদ্ধা এমাদুল হক খানকে আহবায়ক ও প্রেসক্লাবের সভাপতি জাহিদ উদ্দিন পলাশকে সদস্য সচিব করে ২৯ সদস্য বিশিষ্ট সম্মিলিত নাগরিক অধিকার ফোরাম নামে ২৯ সদস্য বিশিষ্ট একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, মঠবাড়িয়া পৌরশহরের বহেরাতলা হতে থানাপাড়া পাথরঘাটা বাসষ্ট্যান্ড পর্যন্ত ১৬৬০ মিটার আঞ্চলিক মহাসড়ক নির্মাণে সংশ্লিষ্ট সড়ক ও জনপদ বিভাগ ১৫কোটি ৭০ লাখ টাকা বরাদ্ধ দেয়। প্রধানমন্ত্রীর একান্ত প্রচেষ্ঠায় একনেকের ওই টাকা বরাদ্ধ পাওয়ার পর ওয়েষ্টার কনষ্ট্রাকশন নামে একটি ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান টেন্ডারের মাধ্যমে কাজ পায়। কার্যাদেশ পেয়ে ওই ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান সম্প্রতি ড্রেন সহ ৩ ইঞ্চি সিসি ও ৯ ইঞ্চি আরসিসি ডালাইয়ের কাজ শুরু করেন। কাজের শুরুতেই সিডিউল মাফিক কাজ না করে নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার ও অনিয়ম দুর্ণীতির অভিযোগ ওঠে। বিশেষ করে স্তানীয় একটি সুবিদাবাদী চক্র এই সড়কের পাশে ড্রেন নির্মাণ নিয়ে ভবন মালিকদের নিকট হতে অর্থ বাণিজ্যেরও গুঞ্জন ওঠে।যা বিভিন্ন আইডি দিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। এতে স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।

সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব ও উদীচী শিল্পগোষ্ঠী মঠবাড়িয়া শাখার সভাপতি শিবু সাওজাল অভিযোগ করেছেন, ইতিমধ্যেই আঞ্চলিক মহাসড়কে দৃশ্যমান যে কাজ হয়েছে তা মানসম্মত হয়নি।

প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি আবদুস সালাম আজাদী বলেন, সড়ক ও জনপদের প্রকৌশলী ও কর্মকর্তাদের উপস্থিতি ছাড়াই গভীর রাতে সড়কে ঢালাইয়ের কাজ করে। যাতে জনমনে কাজের মান নিয়ে নানা প্রশ্নের সৃষ্টি হয়।

জুডিশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট আদালতের আইনজীবী রফিকুল ইসলাম বাবুল অভিযোগ করেন, উপজেলা পরিষদ সংলগ্ন মাকেটের উকিল চেম্বারে লাল চিহ্ন দিয়ে সীমানা নির্ধারণ করে দ্রুত সরানোর জন্য নির্দেশ দেয়। মালামাল সরিয়ে আমরা চেম্বার ভাড়া নেই। কিন্তু ঠিকাদারের লোকজন কতিপয় মালিকরে সাথে বৈঠক করে রহস্য জনক কারণে চেম্বার অপসারণ না করে তাদের ইচ্ছা মাফিক ড্রেন নির্মান শুরু করে।

সম্মিলিত নাগরিক অধিকার ফোরামের সদস্য সচিব ও প্রেসক্লাবের সভাপতি জাহিদ উদ্দিন পলাশ বলেন, ডিজাইন মোতাবেক কাজ না হওয়ার অভিযোগ উঠলে সঠিক ভাবে কাজ বাস্তবায়নের দাবিতে মঠবাড়িয়ার বিভিন্ন শ্রেনী পেশার মানুষের সাথে ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের ডাক দেই।

সম্মিলিত নাগরিক অধিকার ফোরামের আহবায়ক বীরমুক্তিযোদ্ধা মো: এমাদুল হক খান বলেন, বিভিন্ন অনিয়ম, দুর্ণীতি ও সড়কের পাশে ভবন না ভাঙ্গার অজুহাতে মালিকদের কাছ থেকে অর্থ আদায়ের অভিযোগ ওঠায় সর্বস্তরের জনগণকে নিয়ে মানসম্মত কাজ করার দাবিতে আমরা ঐক্যবদ্ধ হই।

ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান ওয়েষ্টার কনষ্ট্রাকশনের প্রতিনিধি মো: মাহবুবুর রহমান ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে সকল অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, আমরা সিডিউল মাফিক কাজ করছি। তবে কাজ করতে গিয়ে আমরা পৌরসভার মাটির তলদেশে অপরিকল্পিত পানির লাইনের পাইপ ও সওজ এর জায়গায় অবৈধ স্থাপনা ভবন মালিকরা অপসারণ করে না নেওয়ায় কাজে কোন অগ্রগতি হচ্ছে না।

সড়ক ও জনপদ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মাসুদ মাহমুদ সুমন বলেন, মহাসড়কের কাজ সিডিউলের বাহিরে করার সুযোগ নেই। আমি দু’একদিনের মধ্যেই সরেজমিনে এসে সঠিক ভাবে কাজ করা হচ্ছে কিনা তা দেখে পরবর্তী ব্যবস্থা নেয়া হবে।