ভিক্ষার টাকায় সন্তানকে বড় করেন, স্ত্রীর দাবিতে সেই মাকে ঝাড়ুপেটা!

এএসএম জসিম, পাথরঘাটা (বরগুনা)।।
স্বামীর মৃত্যুর পর দুই ছেলে ও তিন মেয়েকে নিয়ে অন্যের বাড়িতে কাজ ও ভিক্ষা করে সন্তানদের বড় করে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ করিয়ে সুখে থাকার স্বপ্ন দেখছিলেন হালিমা বেগম (৬৫)। কিন্তু ছেলে বৌয়ের কথায় ঝাড়–পিটা খেতে হবে এমন ভাবনা কস্মিনকালেও ভাবেননি তিনি। গতকাল সোমবার সন্ধার পরে বরগুনার পাথরঘাটা উপজেলার কালমেঘা ইউনিয়নের মধ্য কালমেঘা গ্রামে এঘটনা ঘটে।

মা হালিমা বেগম একই গ্রামের মৃত বাহের আলী হাওলাদারের স্ত্রী।

স্থানীয় মিজানুর রহমান, কালামসহ আরো অনেকে জানান, বয়সের ভারে আগের মত কাজ করতে পারেন না হালিমা বেগম। তা নিয়ে বৌ শাশুড়ির মধ্যে মাঝে মাঝে বাগবিতান্ডা হতো। বেশ কয়েকবার স্থানীয়রা মিমাংসা করলেও এইভাবে চলতে থাকে। সর্বশেষ গতকাল সোমবার সন্ধার পরে ছেলে দুলাল দিনমজুরের কাজ শেষে বাড়ি ফিরে বৌয়ের অভিযোগ সুনে ক্ষীপ্ত হয়ে মাকে ঝাড়– পেটা করে। ওই রাতে হালিমা বেগম বাড়ির পাশের বাশ বাগানে থাকেন। পরে আজ ভোরে ইউপি সদস্য মিজানুর রহমানের কাছে বিচার দেন।

ইউপি সদস্য মিজানুর রহমান জানান, মা হালিমা বেগমকে ঝাড়–পিটা করার ব্যাপারে আমি দুলালের কাছে জানতে চাইলে উল্টো হয়রানির শিকার হতে হয়েছে আমাকে। পরবর্তীতে আমার কাছে অভিযোগ দেয়ার কারণে দুলাল তার মাকে ঘর থেকে বের করে দেয়।

মা হালিমা বেগম বলেন, স্বামী মারা যাওয়ার পর থেকে আমি অনেক কষ্ট করে সন্তানদের বড় করেছি। রোদে পুড়ে বৃষ্টিতে ভিজে দিনমজুরের কাজ করেছি। কাজ না পেলে ভিক্ষা করে ওদের বড় করেছি। কিন্তু বৌয়ের কথায় আমাকে দুলাল মেরেছে। তার পরও কোনো অভিযোগ নেই ওর প্রতি। আমি অভিযোগ দিলে আমার ছেলের বিপদ হবে, আমি ওরে মাফ করে দিয়েছি।

এ বিষয়টি সরেজমিনে অভিযুক্ত দুলালের বাড়িতে গিয়ে তার কাছে জানতে চাইলে তিনি তার ভুল বুঝতে পেরে সবার সামনেই তার মায়ের পা ধরে মাফ চেয়ে মাকে ঘরে নিয় যায়। ভবিষ্যতে এধরনের কোন আচরণ করবে না বলেও তার মাকে কথা দেয়।

এবিষয়ে সংবাদ সংগ্রহের করতে আসা স্থানীয় গণমাধ্যম কর্মী ও পাথরঘাটা নিউজের সম্পাদক আকন মো. বশির ও এএসএম জসিম জানান, মাকে ঝাড়–পিটা করে ঘর থেকে বের করে দেয়ার বিষয়ে মঙ্গলবার সকালে সংবাদ সংগ্রহ করতে গেলে তাদের উপস্থিতিতে বিষয়টি সমাধান হয়ে যায় এবং মায়ের পা ধরে ছেলে দুলাল ক্ষমা চেয়ে মাকে ঘরে তুলে নিয়ে যায়।