গৌরনদীতে করোনা চিকিৎসায় ন্যাশনাল গাইডলাইন না মানার অভিযোগ

গৌরনদী প্রতিনিধি, বরিশাল।।
বাংলাদেশ জাতীয় করোনা চিকিৎসার ন্যাশনাল গাইড লাইন উপেক্ষা করে বরিশালের গৌরনদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে করোনা ওয়ার্ডের ৫ জন রোগীকে এন্টিবায়োটিক ইনজেকশন পুশ করায় একাধিক ডাক্তারদের মধ্যে চরম অসন্তোষ ও ক্ষোভ বিরাজ করছে। এ নিয়ে স্থানীয়দের মাঝে তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের এক চিকিৎসক জানান, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার ডাঃ মনিরুজ্জামান মনিরের অধীনে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের করোনা ওয়ার্ডে ৫ জন করোনা রোগী ভর্তি রয়েছে। করোনার ওই ৫ জন রোগীর বেডহেড টিকিটে ডাঃ মনিরুজ্জামান এন্টিবায়োটিক ইনজেকশন মেরোপেনাম ১ গ্রাম (প্রতিদিন ৩ বার) ও মকক্সিব্যাক ৪০০ এমজি (প্রতিদিন ১বার) পুশ করতে ব্যবস্থাপত্র দেন। সরকারি ভাবে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ওই ইনজেকশন সরবরাহ না থাকায় রোগীর স্বজনরা গত বুধবার সকাল থেকে বাহিরের ফার্মেন্সী থেকে প্রত্যেকটি মেরোপেনাম ১ গ্রাম ইনজেকশন ১৩০০ টাকা ও প্রত্যেকটি মকক্সিব্যাক ৪০০ এমজি ইনজেকশন ৪০০টাকা দরে কিনে এনে রোগীকে পুশ করেছে। এ নিয়ে তোলপাড় সৃষ্টি হলে শনিবার রাতে দায়িত্বরত এক নার্স এক রোগীকে ওই ইনজেকশন পুশ করেননি। ইনজেকশন পুশ না করার ঘটনা নিয়ে ডাঃ মনিরুজ্জামানসহ অন্য ডাক্তারদের মধ্যে চরম অসন্তোষ ও ক্ষোভ বিরাজ করতে থাকে।

স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডাঃ মাজেদুল হক কাওছার জানান, ৫০ শয্যা বিশিষ্ট গৌরনদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সেন্টাল অক্সিজেন স্থাপন করায় পুরুষ ওয়ার্ডের রোগীদের অন্য ওয়ার্ডে স্থানান্তর করে ১৬ বেডের ওই পুরুষ ওয়ার্ডকে গত ২ সপ্তাহ পূর্বে করোনা ওয়ার্ড হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। করোনা ওয়ার্ডে বর্তমানে ৭ জন করোনা রোগী ভর্তি রয়েছে। এর মধ্যে মেডিকেল অফিসার ডাঃ মনিরুজ্জামানের অধীনে করোনার ৫ রোগী ও অন্য ডাক্তারের অধীনে ২ রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছে। ডাঃ মনিরুজ্জামান ওই ৫ রোগীর বেডহেড টিকিটে এন্টিবায়োটিক ইনজেকশন মেরোপেনাম ১ গ্রাম (প্রতিদিন ৩ বাব) ও মকক্সিব্যাক ৪০০ এমজি (প্রতিদিন ১বার) পুশ করার কথা লিখেছেন। তাই রোগীর স্বজনরা গত ৫ দিন ধরে বাহির থেকে ওই ইনজেকমন কিনে নার্স দিয়ে পুশ করাচ্ছেন। বাংলাদেশ জাতীয় করোনা চিকিৎসার ন্যাশনাল গাইড লাইন অনুসরন করলে ওই এন্টিবায়োটিক ইনজেকশন পুশ করা যাবে না। এ নিয়ে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসকদের মধ্যে চরম অসন্তোষ ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।

খবর পেয়ে রোববার দুপুরে জেলা সিভিল সার্জন হস্তক্ষেপ করে বিষয়টি নিরসন করেন। এরপর জেলা সিভিল সার্জন বাংলাদেশ জাতীয় করোনা চিকিৎসার ন্যাশনাল গাইড লাইনের কপি স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রেরণ করেছেন বলে আরএমও ডাঃ কাওছার জানান।

স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার ডাঃ মনিরুজ্জামান বলেন, আমার চিকিৎসা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের অন্য ডাক্তারদের পছন্দ হয় না। আমি বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের করোনা ইউনিটে ডিউটি করেছিলাম। দেশের কোভিড-১৯ হাসপাতালগুলোতেও ডাক্তাররা করোনার রোগীদের ওই ইনজেকশন লিখেন।