‘দিলদারের মেয়ে জানলে রিকশাওয়ালাও ভাড়া নিতে চান না’

বিনোদন ডেস্ক।।
‘আমি দিলদারের মেয়ে এটা ভেবে গর্ব অনুভব করি। সিনেমায় কমিডি হিসেবে অভিনয় করে বাবার মতো দর্শকদের ভালো বাসা আর কোনো শিল্পী পেয়েছে কিনা জানি না। রাস্তায় বের হলে যদি জানে আমি দিলদারের মেয় তাহলে অন্যরকম ভালোবাসা পাই মানুষের।’ বাবা বাংলা সিনেমার হাসির রাজা খ্যাত অভিনেতা দিলদারকে নিয়ে বলছিলেন তার বড় মেয়ে জিনিয়া আফরোজ।

আজ দিলদারের ১৮ তম মৃত্যুবার্ষিকী। ২০০৩ সালের আজকের দিনে ৫৮ বছর বয়সে চিরদিনের জন্য পৃথিবীর মায়া ত্যাগ করেন তিনি। মৃত্যুর বছরেই ‘তুমি শুধু আমার’ সিনেমায় অভিনয়ের জন্য সেরা কৌতুক অভিনেতা হিসেবে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পেয়েছিলেন দিলদার।

১৯৪৫ সালের ১৩ জানুয়ারি চাঁদপুরে জন্মগ্রহণ করেন দিলদার। তার স্ত্রী নাম রোকেয়া বেগম। এই দম্পতির রয়েছে দুই কন্যা সন্তান মাসুমা আক্তার ও জিনিয়া আফরোজ।

দিলদারের মৃত্যুবার্ষিকীতে তার পরিবারের খোঁজ নিতে যোগাযোগ করা হলে তার বড় মেয়ে জানান, বাসার পাশের মসজিদে বাবার জন্য দোয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে। এ ছাড়াও গ্রামের বাড়িতেও তার জন্য দোয়ার আয়োজন করা হয়েছে।

দিলদার যখন মারা যান তখন বড় জিনিয়ার বয়স ২৪ বছর। এই জিনিয়া আজ বললেন, আব্বাকে চলচ্চিত্রের মানুষেরা ভুলে গেলেও দেশের মানুষের মনে তিনি বেঁচে আছেন থাকবেন। আমি দিলদারের মেয়ে এ কথা জানার পর এক রিকশাওয়ালা আমার কাছ থেকে ভাড়া পর্যন্ত নিতে চাননি। এমন ঘটনা অহরহ হয় আমার সাথে। তখনই বুঝতে পারি বাবা আজও সাধারণ মানুষের কাছে সমান ভালোবাসার। তার সন্তান হিসেবে আমরা গর্বিত।

হাসির রাজা দিলদারের জনপ্রিয়তা এতোটাই আকাশচুম্বী ছিল যে তাকে নায়ক করে ১৯৯৭ সালে ‘আব্দুল্লাহ’ নামে একটি সিনেমাও নির্মাণ করা হয় এটি নির্মাণ করেন তোজাম্মেল হক বকুল। সেই সিনেমায় তার বিপরীতে নায়িকা ছিলেন নূতন। সেই বছরের অন্যতম ব্যবসা সফল সিনেমা ছিল এটি।

কমেডি অভিনয়শিল্পী নাসরিনের সঙ্গে জুটি হয়ে প্রায় শতাধিক সিনেমায় অভিনয় করেছেন দিলদার। এই জুটির কমেডি ও গান দর্শকরা অনেক পছন্দ করতেন। এই জুটির জন্য আলাদা করে গান করা হতো সিনেমায়।

সিনেমার মানুষরা দিলদারের পরিবারের খোঁজ খবর রাখেন কিনা জানতে চাইলে জিনিয়া বলেন, ‘যারা আব্বার পরিচিত ছিলেন তাদের অনেকেই এখন বেঁচে নেই। প্রথমদিকে অনেকেই আব্বার খোঁজ-খবর রাখতেন। মিডিয়ার মানুষজন ফোন করতেন। এখন তো তেমন কেউ নেই । কে খোঁজ রাখবে?’

দিলদার সাধারণ জীবন যাপন করতেন বলে জানালেন মেয়ে। বললেন‘আব্বা-মা খুব সাধারণ জীবন যাপন করতেন। ব্যক্তিজীবনে খুব রাগী মানুষ ছিলেন আমার আব্বা। সেই কারণে আমার মিডিয়ায় কাজ করার ইচ্ছা থাকলেও সেটা করা হয়নি।’

দিলদার ১৯৭৫ সালে প্রথম চলচ্চিত্রে আসেন ‘কেন এমন হয়’ সিনেমার মাধ্যমে। তারপর প্রায় চারশ’ সিনেমায় অভিনয় করেছেন এই অভিনেতা। তার অভিনীত উল্লেখযোগ্য সিনেমার মধ্যে রয়েছে, ‘মহানায়ক’, ‘দস্যু বনহুর’, ‘আব্দুল্লাহ অস্বীকার’, ‘অংশীদার’, ‘টক্কর’, ‘নাগ পূর্ণিমা’, ‘সোনার তরী’, ‘জনতা এক্সপ্রেস’, ‘সুখের সংসার’, ‘বিদ্রোহী’, ‘ওগো বিদেশিনী’, ‘লড়াকু’, ‘পিতা মাতা সন্তান’, ‘বেদের মেয়ে জোসনা’, ‘আনন্দ অশ্রু’, ‘জীবন সংসার’, ‘স্বপ্নের পৃথিবী’, ‘চাওয়া থেকে পাওয়া’, ‘এই ঘর এই সংসার’, ‘অন্তরে অন্তরে’ ও ‘আশা ভালোবাসা’।