রিয়ালের চিন্তা বাড়িয়ে দিল জেরার্ডের দল

স্পোর্টস ডেস্ক।।
১৯৬৩-৬৪ মৌসুমের ইউরোপিয়ান কাপের ফাইনালের পর এই প্রথম রেঞ্জার্সের স্টেডিয়ামে খেলতে গিয়েছিল রিয়াল মাদ্রিদ। সেবার ট্রফি জিতে ফিরলেও এবার প্রীতি ম্যাচই জিততে পারেনি লস ব্লাঙ্কোরা।

দলের রক্ষণভাগে রামোস নেই। ভারানও যাই-যাই করছেন। কাগজে–কলমে রিয়ালের রক্ষণভাগের শক্তি কমে যাচ্ছে বহুগুণ। মাঠেও সেটারই প্রতিফলন দেখা গেল যেন। নিজেদের প্রথম প্রাক্‌–মৌসুমের ম্যাচে স্কটিশ ক্লাব রেঞ্জার্সের বিপক্ষে খেলতে নেমেছিল কার্লো আনচেলত্তির দল। ম্যাচে রিয়াল হেরেছে ২-১ গোলে।

রামোস-ভারান যদি চলেই যান, আর রিয়াল যদি দলে নতুন কোনো সেন্টারব্যাক না আনে, সে ক্ষেত্রে পোড় খাওয়া স্প্যানিশ ডিফেন্ডার নাচো ফার্নান্দেসের সঙ্গে রিয়ালের রক্ষণ সামলাবেন ব্রাজিলিয়ান তারকা এদের মিলিতাও। কোপা আমেরিকার পর ছুটিতে থাকা মিলিতাও এই ম্যাচে ছিলেন না। ছিলেন শুধু নাচো। নাচোও হতাশ করেছেন, প্রীতি ম্যাচে লাল কার্ড দেখে মাঠ থেকে বেরিয়ে গিয়েছেন।

রিয়ালের একাদশে আন্দ্রিই লুনিন, মার্টিন ওডেগার্ড, লুকা ইয়োভিচ, আলভারো ওদ্রিওসোলা, ভিক্তর চুস্ত, আন্তোনিও ব্লাঙ্কোর মতো অনেকেই ছিলেন, যাঁরা রিয়ালের মূল একাদশে সেভাবে কখনোই সুযোগ পান না। নিজেদের মাঠে সেই সুবিধাটাই নিয়েছে রেঞ্জার্স। রদ্রিগোর গোলে প্রথমে পিছিয়ে পড়ার পরেও ফ্যাশন সাকালা ও সেদ্রিক ইতেনের গোলে জয় নিয়েই মাঠ ছেড়েছে স্টিভেন জেরার্ডের দল। মৌসুম শুরুর আগে এটাই ছিল রেঞ্জার্সের শেষ প্রস্তুতি ম্যাচ।

প্রথমার্ধেই ড্যানিশ মিডফিল্ডার ওডেগার্ডের সহায়তায় গোল পেয়ে যান রদ্রিগো। এগিয়ে যাওয়ার পরেও ম্যাচে প্রভাব বিস্তার করতে পারেনি রিয়াল। দ্বিতীয়ার্ধে লেফটব্যাক মিগেল রদ্রিগেজের একটা শট পোস্টে লাগে, না হয় ড্র নিয়েই মাঠ ছাড়তে পারত রিয়াল।

সুযোগ পেয়েছে রেঞ্জার্সও। গোলদাতা সাকালাসহ রায়ান কেন্ট দুর্দান্ত খেলেছেন আক্রমণভাগে। একগাদা তরুণ খেলোয়াড় ছাড়াও রিয়ালের হয়ে খেলেছেন ইসকো, মার্সেলো, ভাসকেজের মতো অভিজ্ঞরাও। কোচকে সন্তুষ্ট করার মতো খেলা খেলতে পারেননি তাঁরা।

বিশেষ করে রিয়ালের নতুন অধিনায়ক মার্সেলো এই পারফরম্যান্স দিয়ে কীভাবে প্রতি সপ্তাহে রিয়ালের মতো ক্লাবে খেলতে পারবেন, সেটা নিয়েও প্রশ্ন উঠে গিয়েছে এর মধ্যে। বাকিরা হতাশ করলেও আলো ছড়িয়েছেন রিয়ালের ইউক্রেনিয়ান গোলরক্ষক লুনিন।

প্রথম ম্যাচ হিসেবে হার হয়তো অত বেশি চিন্তার কিছু নয়, কিন্তু ম্যাচটা কোচ আনচেলত্তিকে বুঝিয়ে দিয়েছে, এখনো অনেক কাজ বাকি!