বরগুনায় রাতের আধারে গরুর পা ও মাথা কর্তন

গোলাম কিবরিয়া, বরগুনা।।
রাতের আধাঁরে গোয়ালঘর থেকে প্রতিপক্ষের গরুর পা ও মাথা চুরি করে কেটে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ। সদর থানা পুলিশ সোমবার (২৬ জুলাই) সন্ধ্যায় বরগুনা সদর উপজেলার নলটোনা ইউনিয়নের কুমিরমারা থেকে সে অবস্থায় গরুটি উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসা হয়। গরুর মালিকের অভিযোগ, স্থানীয় ইউপি নির্বাচনের দ্বন্দের জেরে এ ঘটনাটি ঘটিয়েছে।

এ ঘটনায় সাতজনকে আসামী করে বরগুনা সদর থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। এত আসামীরা হলেন, কুমিরমারা এলাকার শুক্কুর আলী, আমীর আলী, ইয়াকুব, রাসেল, ফয়সাল ও খোকন মিয়া। গরুর মালিক একই এলাকার হজরত আলীর ছেলে শাহজাহান মিয়া।

তিনি শাহজাহান মিয়া জানান, তিনি মোট নয়টি গাই গরু ও একটি ষাড় লালন পালন করেন। প্রতিদিনের ন্যায় গরুগুলো গোয়ালঘরে বেঁধে রেখে বরগুনার পাথরঘাটায় ছেলের শ্বশুরবাড়িতে বেড়াতে গিয়েছিলেন। এ দিন রাতে গোয়াল ঘর থেকে ষাড়টি নদীর পাড়ে নিয়ে পেছনের দুটি ও সামনের একটি পা ও মাথা কেটে নিয়ে ফেলে রাখা হয়। সোমবার বিকেলে স্থানীয়রা গরুটি এ অবস্থায় দেখতে পেয়ে তাকে খবর দেন। শাহজাহান মিয়া আরো বলেন, ইউপি নির্বাচনে স্থানীয় ইউপি সদস্য প্রার্থী শহীদুল ইসলামের লোকজন এ ঘটনা ঘটিয়েছে।

শাহজাহান মিয়ার স্ত্রী লাইলী বেগম বলেন, কোরবানীতে গরুটি এক লাখ ২০ হাজার টাকা দাম উঠেছিল। কিন্ত গাই গরুর প্রজননের জন্য ষাড়টি তারা বিক্রি করেননি। লাইলী আরো বলেন, শহীদ মেম্বারের সমর্থন না করায় নির্বাচনের পর থেকেই ক্ষতি করার হুমকি দিয়ে আসছিলেন।

স্থানীয় ইউপি সদস্য তালুকদার মাসউদ বলেন, সদ্য সমাপ্ত ইউপি নির্বাচনে শাহজাহান আমার কর্মী হিসেবে কাজ করেছে। প্রতিদ্বন্দি ইউপি সদস্য শহীদুল ইসলাম পরাজিত হওয়ার পর আমার কর্মীদের নানাভাবে হয়রানি করে আসছে। ২৩ জুন আমার উপর হামলা করে কুপিয়ে জখম করেছিল প্রতিপক্ষ ইউপি সদস্য প্রার্থী শহীদ। এরই ধারাবাহিকতায় আমার কর্মীর গরু চুরি করে পা মাথা কেটে হত্যা করেছে শহীদ।

তবে অভিযুক্ত শহীদুল ইসলাম এ অভিযোগ অস্বীকার করেন। তিনি বলেন, মিথ্যা অভিযোগে আমাকে হয়রানি করা হচ্ছে।

এ বিষয়ে বরগুনা সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) কে এম তারিকুল ইসলাম বলেন, পা ও মাথাহীন গরুটি উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় সাতজনকে আসামী করে মামলা দায়ের করা হয়েছে।