কলাপাড়ায় অভ্যন্তরীন কোন্দল: ছাত্রলীগ নেতার হাতের কব্জি বিচ্ছিন্ন করলো প্রতিপক্ষ

কলাপাড়া প্রতিনিধি, পটুয়াখালী।।
পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজোর মিঠাগঞ্জ ইউনিয়ন ছাত্রলীগের অভ্যন্তরীন কোন্দলের জের ধরে ইউনিয়ন ছাত্রলীগের যুগ্ম সম্পাদক রাকিবুল ইসলামের (২৫) উপর সশস্ত্র হামলা চালিয়ে তার ডান হাতের কব্জি কেটে ফেলেছে প্রতিপক্ষের লোকজন। এ সময় পাল্টা হামলায় সেচ্ছাসেবক লীগের কর্মী মো. সাইফুল ইসলাম রায়হান জখম হয়েছে।

বুধবার (২৮ জুলাই) রাত ৯টার দিকে মিঠাগঞ্জ ইউনিয়নের তেগাছিয়া বাজার সংলগ্ন হাজীমুদ্দি কালভার্ট এলাকায় এ ঘটনা ঘটেছে।

হামলায় আহত দুইজনকে স্থানীয়দের সহায়তায় তাদের স্বজনরা উদ্ধার করে কলাপাড়া হাসপাতালে ভর্তি করে। রাকিবুলের অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে অবস্থার অবনতি ঘটে। এসময় দুজনকেই উন্নত চিকিৎসার জন্য রাতেই বরিশাল শের ই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরন করেন চিকিৎসকরা। আহতরা হামলার জন্য একে অপর গ্রুপকে দায়ী করছেন।

কলাপাড়া থানা পুলিশ খবর পেয়ে হাসপাতালে আহতদের সাথে কথা বললেও এ ঘটনায় কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি।

আহত ছাত্রলীগ নেতা রাকিবুল জানান, তেগাছিয়া বাজার থেকে মোটরসাইকেলে করে বাড়ি যাওয়ার পথে হাজীমুদ্দি কালভার্ট এলাকায় পৌছলে আগে থেকে দলবদ্ধ ভাবে অবস্থান নেয়া ইউনিয়ন ছাত্রলীগ সভাপতি তরিকুল ইসলাম ও তার ভাই ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক লীগের সদস্য মো. সাইফুল ইসলাম ওরফে রায়হান পাহলানকে দায়ী করেছেন। এ সময় তরিকুল তার হাতের কব্জি কেটে ফেলে। এলোপাতারি কুপিয়ে তার মাথাসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে কুপিয়ে জখম করে।

রাকিবুল ইসলামের মামা গাজী মো. মাইনুল ইসলাম জানান, রাকিবুল তেগাছিয়া বাজার থেকে নিজ বাড়ি যাওয়ার পথে আগ থেকে ওৎপেতে থাকা রায়হান পাহলান, তাঁর ছোট ভাই তরিকুল পাহলান, নবী হোসেন, বাদশা খলিফা, জাকারিয়া জমাদ্দার, রুবেল সিকদার, মাসুম হাওলাদারসহ ১০-১২ জন সশস্ত্র সন্ত্রাসী রাকিবুলের ওপর সশস্ত্র হামলা চালায়। সন্ত্রাসীরা রাকিবুলকে ধরে প্রথমে বেদম মারধর করার এক পর্যায়ে সে মাটিতে পড়ে গেলে সন্ত্রাসীদের হাতে থাকা রামদা দিয়ে এলোপাতাড়ি কোপাতে থাকে। এরপর সন্ত্রাসীরা রাকিবুলের ডান হাতটি টেনে নিয়ে একটি কাঠের ওপর রেখে রামদা দিয়ে কুপিয়ে বিচ্ছিন্ন করে দেয়। রামদার কোপে ওর মাথা ও শরীরের বিভিন্ন অংশে গুরুতর জখম হয়েছে।

স্থানীয়রা জানান, রাকিবুল গত ২০১৯ সালে রায়হানের ওপর হামলা চালায়। ওই সময় রায়হানের পেট ও মাথা রামদার কোপে জখম হয়। রায়হানের ডান হাতের রগও কেটে বিচ্ছিন্ন করা হয়। এ নিয়ে আদালতে মামলাও চলমান রয়েছে। ওই ঘটনার জের ধরেই রায়হান প্রতিশোধ নিতে রাকিবুলের ওপর হামলা চালিয়ে বলে তারা জানান।

মো. সাইফুল ইসলাম ওরফে রায়হান পাহলান জানান, ‘কে বা কাহারা এমন হামলা করেছে তা আমি জানি না। তবে আমি বা আমার কোনো আত্মীয়স্বজন এ ঘটনার সাথে জড়িত নই। রাকিবুলইতো আজকে আবার আমার ওপর হামলা করে আমাকে জখম করেছে।’

কলাপাড়া হাসপাতালে জরুরী বিভাগে দায়িত্বরত চিকিৎসক মাইনুল হোসেন বলেন, রাকিবুলের ডান হাতের কব্জি কেটে চামড়ার সাথে ঝুলে আছে। এছাড়া মাথা, পিঠে একাধিক কাটা চিহ্ন রয়েছে। অপর আহত রায়হানের দুই হাতের কাটা চিহ্ন রয়েছে। দুজনকেই উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশাল রেফার করা হয়েছে।

কলাপাড়া থানার উপ পরিদর্শক আসাদুর রহমান জানান, হামলার খবর পেয়ে হাসপাতালে গিয়ে আহতদের সাথে কথা বলেছেন। এলাকায় আধিপত্য বিস্তার ও পূর্ব বিরোধকে কেন্দ্র করে এ হামলার ঘটনা ঘটেছে। এখন পর্যন্ত কোন পক্ষই মামলা দায়ের করেনি। তবে পুলিশ হামলায় জড়িতদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলাচ্ছে। ঘটনায় জড়িতদের দ্রুতই গ্রেপ্তার করা হবে বলে জানান তিনি।