পটুয়াখালীতে কন্যাসন্তান জন্ম দেয়ায় ক্ষুব্ধ স্বামী, অতঃপর গৃহবধূর ঝুলন্ত লাশ

অনলাইন ডেস্ক।।
পটুয়াখালীর দশমিনায় মোসা. মৌসুমি (২৬) নামে এক গৃহবধূর ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। পরিবারের দাবি শ্বশুরবাড়ির লোকজন পরিকল্পিতভাবে হত্যা করে ঝুলিয়ে রেখেছে।

বৃহস্পতিবার (২৯ জুলাই) রাত সাড়ে ৯টার দিকে উপজেলার রণগোপালদী ইউনিয়নের দক্ষিণ রণগোপালদী গ্রামের শ্বশুরবাড়ির ঘরের আড়া থেকে ঝুলন্ত অবস্থায় গৃহবধূকে উদ্ধার করা হয়। তিনি ওই গ্রামের মো. আসাদুল হাওলাদারের স্ত্রী এবং দুই মেয়ে ও এক ছেলের জননী।

নিহতের স্বজন সূত্রে জানা যায়, সাত বছর আগে উপজেলার রণগোপালদী ইউনিয়নের দক্ষিণ রণগোপালদী গ্রামের মো. আব্দুর রব হাওলাদারের ছেলে মো. আসাদুল হাওলাদারের সঙ্গে আলীপুরা ইউনিয়নের খলিশাখালী গ্রামের কাঞ্চন সিকদারের মেয়ে মোসা. মৌসুমির বিয়ে হয়।

সম্প্রতি এক মেয়ে ও এক ছেলের পর মোসা. মৌসুমি নতুন করে একটি কন্যাসন্তানের জন্ম দিলে ও যৌতুকের জন্য তাদের সংসারে কলহের সৃষ্টি হয়। ঘটনার দিন শ্বশুরবাড়ির লোকজন ঘরের আড়ার সঙ্গে মৌসুমির ঝুলন্ত লাশ দেখতে পেয়ে পুলিশে খবর দেন।

গৃহবধূর চাচাতো ভাই মো. রবিউলের অভিযোগ করে জানান, বিয়ের পর থেকে মৌসুমিকে তার স্বামী বিভিন্ন সময় মারধর করত এবং দীর্ঘদিন ধরে যৌতুক দাবি করে আসছিল।

ঈদের দিনও তাকে মারধর করা হয়। সম্প্রতি জালের সাবার করার জন্য বাবার বাড়ি থেকে যৌতুকের টাকা আনতে পাঠানো হয় তাকে।

টাকা আনতে ব্যর্থ হলে আসাদুল তার স্ত্রীকে মেরে ঘরের আড়ার সঙ্গে ঝুলিয়ে রাখে বলে দাবি করেন রবিউল। এ ছাড়া মৌসুমি একটি কন্যাসন্তান জন্ম দেওয়ায় তার স্বামী তার ওপর ক্ষুব্ধ ছিল বলেও জানান তিনি।

এ বিষয়ে দশমিনা থানার ওসি মো. জসিম জানান, পারিবারিক কলহ ছিল এটি সত্যি। মেরে ফেলা হয়েছে এমন কোনো প্রমাণ প্রাথমিকভাবে পাওয়া যায়নি। লাশ ময়নাতদন্তের জন্য পটুয়াখালী প্রেরণ করা হবে।