বরিশাল বিভাগে করোনার সঙ্গে নতুন আতঙ্ক ডেঙ্গু

অনলাইন ডেস্ক।।
বরিশাল বিভাগে করোনার ঊর্ধ্বমুখী সংক্রমণের মধ্যেই নতুন আতঙ্ক ছড়িয়েছে ডেঙ্গু। বিভাগের দুই জেলায় মাত্র পাঁচ দিনের ব্যবধানে সাতজন রোগী শনাক্ত হয়েছে। তাদের মধ্যে বরিশালে ছয়জন এবং পিরোজপুরে একজন। করোনা মোকাবিলায় হিমশিম খাওয়া বিভাগের চিকিৎসক এবং জনমনে নতুন করে তৈরি হয়েছে আতঙ্ক। তবে ডেঙ্গু প্রতিরোধে সর্বোচ্চ প্রস্তুতি নিয়েছে স্থানীয় সরকারি হাসপাতালগুলো।

বরিশাল বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক ডা. বাসুদেব কুমার দাস জানান, গত ২৭ জুলাই পিরোজপুরে ২৪ বছরের এক যুবকের সর্বপ্রথম ডেঙ্গু শনাক্ত হয়। কোনো হাসপাতালে ভর্তি না হয়ে বাড়িতেই চিকিৎসা নিচ্ছেন তিনি। এ ছাড়া শের-ই বাংলা মেডিক্যাল কলেজ (শেবাচিম) হাসপাতালে গত শনিবার তিনজন এবং রোববার আরও তিনজন ডেঙ্গু রোগী শনাক্ত হয়েছে বলে জানিয়েছেন হাসপাতালের পরিচালক ডা. এইচএম সাইফুল ইসলাম।

তিনি আরও জানান, গত বৃহস্পতিবার ডেঙ্গু সাসপেক্টেডে (সন্দেহ) প্রথম তিন রোগী মেডিসিন বিভাগে ভর্তি হন। শনিবার পরীক্ষার ফলে তাদের ডেঙ্গু শনাক্ত হয়েছে। শনিবার আরও তিন রোগী ভর্তি হয়। রবিবার দুপুরে তাদের ডেঙ্গু শনাক্ত হয়।

শেবাচিম হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রোগীরা হলেন- একই হাসপাতালে সিনিয়র স্টাফ নার্স নাসিমা বেগমের কন্যা তন্নী আক্তার, বরিশালের মুলাদী উপজেলার আ. রহিম হাওলাদারের পুত্র আসাদুজ্জামান, বানারীপাড়া উপজেলার মোহাম্মাদ আলী সরদারের পুত্র আবদুল হাই, ঝালকাঠির নলছিটি উপজেলার মোকসেদ আলীর পুত্র সাব্বির হোসেন, রাজাপুর উপজেলার সন্দীপ মিস্ত্রীর পুত্র সুব্রত মিস্ত্রী ও পিরোজপুরের স্বরূপকাঠি উপজেলার মো. আলী। তারা সবাই বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের তত্ত্বাবধানে নিবিড় পর্যবেক্ষেণে রয়েছেন বলে জানিয়েছেন শেবাচিম হাসপাতালের পরিচালক।

এদিকে, বরিশাল বিভাগে ডেঙ্গু প্রতিরোধে বিভিন্ন প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে বলে জানানো হয়েছে বিভাগীয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে। বিভাগে ৪৭টি সরকারি হাসপাতালেই ডেঙ্গু রোগী শনাক্তকরণের জন্য পরীক্ষার সকল প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে। প্রতিটি সরকারি হাসপাতালে ডেঙ্গু শনাক্ত করার জন্য পরীক্ষা বাড়ানোর তাগিদ দেওয়া হয়েছে। জ্বরে আক্রান্ত কোনো রোগী ভর্তি হলে তাদের করোনার পাশাপাশী ডেঙ্গু পরীক্ষার জন্যও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

শেবাচিম হাসপাতালের পরিচালক ডা. এইচএম সাইফুল ইসলাম জানান, হাসপাতালের ৪টি মেডিসিন ইউনিটে ডেঙ্গু রোগীদের জন্য আলাদা কক্ষের ব্যবস্থা করা হয়েছে। সন্দেহজনক রোগীদের পরীক্ষার আওতায় আনা হচ্ছে। করোনা ভাইরাস ও ডেঙ্গুর লক্ষণ কাছাকাছি হওয়ায় চিকিৎসার শুরুতে দ্বিধায় পড়ছেন চিকিৎসকরা। তবে এ ধরনের রোগীদের করোনা ও ডেঙ্গু উভয় পরীক্ষাই করা হচ্ছে বলে জানান তিনি।

বরিশাল বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক বাসুদেব কুমার দাস জানান, বৃষ্টিপাত, এডিসের লার্ভার ঘনত্ব, আর্দ্রতাসহ বিভিন্ন কারণে বর্ষাকালে ডেঙ্গু প্রার্দুভাব দেখা দেয়। ডেঙ্গু প্রতিরোধে, বিশেষ করে লার্ভা ধ্বংসে কাজ করব আমরা। সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ও বাসাবাড়িতে পানি জমা রাখা যাবে না। পাশাপাশি সাধারণ জনগণকে আরও সচেতন হওয়ার অনুরোধ জানান তিনি।