পটুয়াখালীতে ছাদ থেকে নার্সদের ফেলে দিতে চাইলেন ভাইস চেয়ারম্যান নাসির উদ্দিন পালোয়ান!

অনলাইন ডেস্ক।।
পটুয়াখালীর দশমিনা উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান ও উপজেলা যুবলীগের সভাপতি মো. নাসির উদ্দিন পালোয়ানের বিরুদ্ধে নারী নার্সদের লাঞ্ছিত করার অভিযোগ উঠেছে।

এ সময় সাঙ্গোপাঙ্গ নিয়ে দুই নার্সকে অকথ্য ভাষায় গালমন্দ ও হাসপাতালের ছাদ থেকে ফেলে দিতে চান ওই ভাইস চেয়ারম্যান। নার্সদের নির্দিষ্ট কক্ষে প্রবশের সিসি টিভি ফুটেজের স্থিরচিত্র সংবাদপত্রের হাতে এসেছে। শনিবার (০৭ আগস্ট) সকালে দশমিনা হাসপাতালের পুরাতন ভবনে এ ঘটনা ঘটে। আর রোববার বিষয়টি নিয়ে নানা মহলে আলোচনার জন্ম হয়।

দশমিনা হাসপাতালের সিনিয়র স্টাফ নার্স শাহনাজ আক্তার জানান, সড়ক দুর্ঘটনায় আহত হয়ে উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাধারণ সম্পাদক মো. মাইন উদ্দিন হাওলাদার মাইনুল শুক্রবার দিবাগত রাতে দশমিনা হাসপাতালে ভর্তি হন। শনিবার সকালে উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান ও উপজেলা যুবলীগের সভাপতি মো. নাসির উদ্দিন পালোয়ান ওই নেতাকে দেখতে দশমিনা হাসপাতালে যান।

পরে তিনি হাসপাতালের নতুন ভবনে কোনো ডাক্তার না পেয়ে লোকজন নিয়ে পুরাতন ভবনে গিয়ে নার্সদের কাছে ডাক্তার না থাকার কারণ জানতে চাইলে নার্সরা জানান, রাতে নাইট ডিউটি করা ডাক্তার বাসায় গেছেন, তাই এখন ডাক্তার নেই। এ সময় ভাইস চেয়ারম্যান নার্স ইশরাত জাহান ও শাহনাজ আক্তারকে ডাক্তারকে ফোন দিতে বলে নার্সদের অকথ্য ভাষায় গালমন্দ শুরু করে লাঞ্ছিত করেন এবং ছাদ থেকে তাদের ফেলে দিতে চান।

ডাক্তারদের নাম ধরেও এ সময় গালাগালি করেন ওই ভাইস চেয়ারম্যান। এ ঘটনা সংক্রান্ত সিসি টিভির ফুটজের কিছু স্থিরচিত্র এখন বিভিন্ন সংবাদ পত্রের কাছে। সিসি টিভির ফুটজে দেখা যায়- ভাইস চেয়ারম্যান লোকজন নিয়ে নার্সদের নির্দিষ্ট কক্ষে প্রবেশ করেন।

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাক্তার মোস্তাফিজুর রহমান জানান, ভুল বোঝাবুঝি ছিল। মিটমাট হয়ে গেছে।

পটুয়াখালী জেলা সিভিল সার্জন ডা. জাহাঙ্গীর শিপন এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।

অভিযোগের বিষয়ে ভাইস চেয়ারম্যান মো. নাসির উদ্দিন পালোয়ান জানান, এ রকম ঘটনা ঘটেনি। কাউকে গালমন্দ করা হয়নি। শুধু ডাক্তারের নাম্বার চাওয়া হয়েছিল।

দশমিনা থানার ওসি মো. জসিম জানান, বিষয়টি আমার জানা নেই। অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে বিষয়টি দেখবেন বলে জানিয়েছেন তিনি।