যেসব চ্যালেঞ্জের মুখে পড়বে তালেবান সরকার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক।।
সরকারের গঠনের দ্বারপ্রান্তে থাকা তালেবানের জন্য এখন যুদ্ধ জয় করাটাই সহজ কাজ ছিল বলে প্রতীয়মান হতে পারে বলে ধারণা করছেন বিশ্লেষক ও আফগান কর্মকর্তারা। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা তালেবান সরকার গঠনের পর সম্ভাব্য যে ছয়টি গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারে সেগুলোর একটি তালিকা এক প্রতিবেদনে তুলে ধরেছে।

গ্রহণযোগ্যতা: আশরাফ গণির সরকার জনগণের আকাঙ্ক্ষা পূরণে ব্যর্থ হয়েছে। দেশটির জনগণ হতাশ ও পরিবর্তনের জন্য প্রস্তুত। কিন্তু এর অর্থ এই নয় যে তারা তালেবানকে স্বাগত জানাচ্ছে।

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়াভিত্তিক সেন্টার ফর ন্যাভাল অ্যানালাইসিস-এর গবেষণা পরিচালক জোনাথন স্ক্রোডেন বলেন, আফগানিস্তানের বিভিন্ন অংশে মানুষ তালেবান বা সরকারের নিপীড়নের শিকার হয়েছে। কিছু মানুষ দুই বিরোধী পক্ষের মধ্যে কোনও একটাকে সমর্থন করতে পারে। কিন্তু বড় একটা অংশ মধ্যখানে রয়েছে এবং তারা কোনও পক্ষ নিতেই আগ্রহী না।

বাহিনীর বিস্তৃতি: বিশ্লেষকরা বলছেন, এখন প্রায় পুরো আফগানিস্তানের নিয়ন্ত্রণ নেওয়া তালেবানের সক্রিয় সদস্যের সংখ্যা এক লাখের কম।

স্ক্রোডেন বলেন, বেশিরভাগ জেলা তালেবান সহজেই দখল করতে পেরেছে। কিন্তু বড় শহরগুলোর নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখা অন্য বিষয়। এতে প্রচুর সংখ্যক লোকবল প্রয়োজন পড়বে।

ফলে তারা যদি আইন-শৃঙ্খলাবাহিনীর সদস্য সংখ্যা বাড়াতে না পারে তাহলে দেশটিতে বিদ্রোহ ও অরাজকতা দেখা দিতে পারে।

শাসন: স্ক্রোডেন বলেন, কার্যকরভাবে শাসন করার জন্য তালেবান এখনও তাদের সামর্থ্যের প্রমাণ দিতে পারেনি। যখন তারা আফগানিস্তান শাসন করেছে তখনও এটি দেখা যায়নি। এখন তাদের নিয়ন্ত্রণে যেসব অঞ্চল রয়েছে সেখানেও এর প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

এক সময় দেশটির নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য তালেবান সফল হয়েছিল। অবশ্যই তা ছিল কঠোর হস্তে প্রচলিত বিচার ব্যবস্থার কার্যকর রূপ বাস্তবায়ন করার মাধ্যমে। কিন্তু সরকারের অন্যান্য কাজের টেকনোক্র্যাটিক বিষয়গুলোতে তাদের বোঝাপড়া অনেক কম।

যোদ্ধাদের নিয়ন্ত্রণ: বিদেশি দখলের বিরুদ্ধে যুদ্ধ তালেবানের বিভিন্ন পর্যায়ের যোদ্ধাদের ঐক্যবদ্ধ করেছে। এখন এসব যোদ্ধারা বিভিন্ন শহর ও প্রদেশের গভর্নর ও মেয়র হবে এবং রাজস্ব আয় ও ক্ষমতা হাতে পাবে। আগের চেয়ে যে পথে হেঁটেছে তারাও কি সে পথে আগাবে এবং দুর্নীতি ও ক্ষমতার অপব্যবহারে অভিযুক্ত হবে?

স্ক্রোডেন বলেন, সোভিয়েতরা চলে যাওয়ার পর মুজাহিদিনদের ঈশ্বরহীন কমিউনিস্টিদের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ লড়াইয়ের তাড়না ছিল না। তখন তারা একে অন্যের বিরুদ্ধে অস্ত্র হাতে তুলে নেয়।

অতীত: তালেবানের প্রথম শাসনামলে তাদের বিরুদ্ধে জাতিগত সংখ্যালঘুদের নিপীড়ন, নারীদের অধিকার ক্ষুণ্ন ও আন্তর্জাতিকভাবে বিচ্ছিন্ন ছিল। কাবুল দখলের পর তারা নারীদের ভূমিকার প্রতি শ্রদ্ধা, মানবাধিকার ও সংখ্যালঘুদের অধিকারের প্রতি শ্রদ্ধা জানানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। কিন্তু বিশ্ব এবং আফগানরা তাদের এই কথা কাজে পরিণত হতে দেখার অপেক্ষায় রয়েছে।

অর্থনীতি ও বিদেশি সহযোগিতা নির্ভরতা: বিশ্বের অন্যতম দরিদ্র দেশ আফগানিস্তান। দেশটির মোট আয়ের ২০ শতাংশের বেশি আসে বিদেশি ত্রাণ থেকে। যুক্তরাষ্ট্র আফগান কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ৯৫০ কোটি ডলার আটকে দিয়েছে তালেবান ক্ষমতা দখল করায়। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ)ও তাদের বরাদ্দকৃত অর্থ বাতিল করেছে। বেশ কিছু পশ্চিমা দাতা সংস্থাও একই পথে হাঁটতে পারে। ফলে নতুন সরকারের পক্ষে তাদের অর্থনীতি পরিচালনা করা কঠিন হবে। কারণ দেশটির সরকারি ব্যয়ের ৭৫ শতাংশ আসে বিদেশি সহযোগিতা থেকে।

যদিও তালেবানরা চীন ও রাশিয়ার সঙ্গে সম্ভাব্য অর্থনৈতিক সহযোগিতা প্রকল্প নিয়ে আলোচনা করছে তবে এখনও তা চূড়ান্ত হয়নি।