মেহেন্দিগঞ্জে স্কুল রক্ষার ৩৫ লাখ টাকা হরিলুট

রূপালী ডেস্ক।।
বরিশালের মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলার সদর ইউনিয়নের রুকুন্দি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় রক্ষায় বরাদ্দ ৩৫ লাখ টাকা এখন নদীগর্ভে বিলীন হচ্ছে। এক কিলোমিটার স্থানে বেড়িবাঁধের প্রয়োজন থাকলেও জিও ব্যাগ ফেলা হচ্ছে মাত্র ১০০ মিটার জায়গায়। তাও নদীর স্রোত ও নদীর পাড়ে গভীরতা বেশি থাকায় এসবে কাজ হচ্ছে না। তবু এ নিয়ে পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) কোনো মাথাব্যথা নেই।

জানা গেছে, তেঁতুলিয়া নদীর ক্রমাগত ভাঙনে হুমকির মুখে পড়েছে ওই বিদ্যালয়টি। ভাঙনের শিকার হচ্ছেন সদর ইউনিয়নবাসী। এ অবস্থায় ভাঙন রোধে বরিশাল-৪ আসনের (হিজলা-মেহেন্দিগঞ্জ) সংসদ-সদস্য পঙ্কজ নাথ পাউবোর মাধ্যমে ৩৫ লাখ টাকা থোক বরাদ্দ এনে দেন। এরপর টেন্ডার প্রক্রিয়ায় শুরু হয় জিও ব্যাগ ফেলার কাজ। কিন্তু স্থানীয়দের অভিযোগ, এ থোক বরাদ্দের টাকা হরিলুট করছে পাউবো। ভাঙনের স্থানে অপরিকল্পিতভাবে জিও ব্যাগ ফেলা হচ্ছে। মাত্র ৩ ঘণ্টার ব্যবধানে তা বিলীন হয়ে যাচ্ছে। এছাড়া ভিটেমাটি (লোকাল বালু) দিয়ে ব্যাগ ভরা হচ্ছে। এ বালু কয়েক দিনের মধ্যে পানিতে ধুয়ে যাবে। কোনো উপকারে আসবে না এ ৩৫ লাখ টাকার কাজ। এমনকি রক্ষা করা যাবে না স্কুলটিও। এ ব্যাপারে স্থানীয় সংসদ-সদস্যের মাধ্যমে সরকারের কাছে একটি স্থায়ী বাঁধ নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।

পানি উন্নয়ন বোর্ড জানায়, এ কাজের জন্য জিও ব্যাগে লোকাল বালু বরাদ্দ হয়। ঠিকাদার নিজে না করে স্থানীয় সাব-ঠিকাদার দিয়ে কাজ করাচ্ছেন। এ কারণে কাজে একটু হেরফের হতে পারে।

এ বিষয়ে সহযোগী ঠিকাদার মাহাবুব আলম বলেন, এখানে ৯ হাজার ৪০৬ ব্যাগ ফেলার কথা। ইতোমধ্যে সাড়ে ৮ হাজার ব্যাগ ফেলা হয়েছে। আমরা ১০০ মিটার এলাকায় ভাঙন রোধে কাজ করছি। কিন্তু অনেক স্থানে ব্যাগ নিচে চলে যাচ্ছে। এখানে নদীর স্রোত বেশি। সে অনুযায়ী বাজেট ও জিও ব্যাগ নেই।

পাউবো হিজলার উপসহকারী প্রকৌশলী শফিকুল ইসলাম সৈকত জানান, স্কুলটি রক্ষায় আমরা জরুরি ভিত্তিতে কাজ করছি। তবে এখানে যে বরাদ্দ ও জিও ব্যাগ দেওয়া হয়েছে তা পর্যাপ্ত নয়। এছাড়া এ এলাকা রক্ষা করতে হলে ১ কিলোমিটার নদী শাসন করে স্থায়ী বাঁধ নির্মাণ করা দরকার।

সংসদ-সদস্য পঙ্কজ নাথ গণমাধ্যমকে বলেন, এখানে কীভাবে ব্যাগ ফেললে সমস্যা সমাধান হবে, তা পানি উন্নয়ন বোর্ডই বলতে পারবে। আমি এ বিষয়ে পাউবোর কর্মকর্তাদের বড় ব্যাগ ফেলার কথা বলেছি। তারা পরিদর্শন করে ব্যবস্থা নেবেন বলে জানিয়েছেন।