কলাপাড়ায় সেতুর নির্মান কাজ বন্ধ, ১০ গ্রামের মানুষ দুর্ভোগে

এইচ,এম হুমায়ুন কবির, কলাপাড়া (পটুয়াখালী)।।
পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলার মিঠাগঞ্জ ইউনিয়নে মধুখালী খালের ওপর নির্মিত সেতুটির কাজ বন্ধ থাকায় ১২ গ্রামের কৃষক ও সাধারন মানুষের দুর্ভোগের শেষ নেই। মধুখালীর খালে ওপরের লোহার অবকাঠামোর তৈরি একটি জরাজীর্ণ ওই যোগাযোগের আয়রণ ব্রিজটি ২০২০ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি সম্পূর্ণভাবে বিধ্বস্ত হয়ে গেছে। তখন এক কৃষক আনিছ প্যাদা মারা যায়। আহত হয় আরও চারজন। এরপরে অস্থায়ী ভিত্তিতে কাঠের পাটাতনের একটি নড়বড়ে সেতু দিয়ে মানুষ চলাচল করছে। তাও এখন জীর্ণদশা, ভেঙ্গে পড়ার উপক্রম হয়েছে। যানবাহন চলাচল বন্ধ দেড় বছর।

স্থানীয় প্রকেীশল অধিদপতেরর (এলজিইডি)উপজেলা কার্যালয় সুত্রে জানা যায়, লার্জ ব্রিজ কনস্ট্রাকশন (এলভিসি) প্রকল্পের আওতায় দরপত্র অনুযায়ী এ সেতুর নির্মান ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় সাড়ে তিন কোটি টাকা। সেতুটি ৪৫ মিটার দীর্ঘ । দরপত্রের চুক্তি অনুযায়ী নির্মান কাজ কার্যাদেশ দেয়া হয় ২০১৯ সালে। এই সেতুর কাজ শেষ হওয়ার কথা ছিল ২০২০ সালের ডিসেম্বরে। এরই মধ্যে দুই দফা সময় বৃদ্ধি করা হয়েছে। এটির কাজ এ বছর ডিসেম্বরে শেষ হওয়ার নির্দেশনা রয়েছে। ২০২১ সালের অধিকাংশ সময় এ ব্রিজের কাজ বন্ধ ছিল।

সরেজমিন দেখা গেছে, গার্ডার বসানো হয়েছে। স্লাপ ও এপ্রোচ এখনও বাকি আছে। এখন পুরো কাজই বন্ধ। যার কারনে স্প্যানের ওপর থেকে বের হয়ে থাকা লোহার রডগুলো মরিচা পড়ে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। পাশে পড়ে থাকা কিছু মালামাল ও নষ্ট হচ্ছে। নতুন এই সেতুটির কাজ বন্ধ থাকায় পূর্বমধুখালী আর পশ্চিম মধুখালীসহ আশপাশের দশ গ্রামের মানুষের ভোগান্তির শেষ নেই। সবচেয়ে বেশি বিপদে পড়েছে শিশু ও বয়োবৃদ্ধ মানুষ। স্কুলগামী শত শত শিশুরা ঝুঁকি নিয়ে কাঠের পাটাতন দিয়ে চলাচল করছে এ পথে। নিত্যকার এ দূর্ভোগ নিয়ে মানুষের দুশ্চিন্তার শেষ নেই।

মধুখালী স্থানীয় বাসীন্দা মিজানুর রহমান জানান, সেতুর অবস্থার কারনে কৃষকরা তাদের উৎপাদিত কৃষিপন্য বাজারে নিয়ে বিক্রি করতে পারছেন না। মানুষ মালামাল পার করতে পারছেন না। বাঁশের সাঁকোর ওপর দিয়ে শিশু-বয়স্ক মানুষকে নিয়ে পার হতে কষ্ট হয়। গ্রামের মানুষের কী যে ভোগান্তি তা বলে শেষ করা যাবেনা।

কলাপাড়া উপজেলা পরিষদের চেয়ানম্যান বীরমোক্তিযোদ্ধা এস এম রাকিবুল আহসান বলেন,আমরা মাসিক মিটিং কয়েকবার আলোচনা করছি কিন্তু ঠিকাদার কোনো কথা শোনো না। উপজেলা প্রকৌশলী কয়েকবার তাদেরকে তাগিদ দিয়েছে ও ঠিকাদারকে কয়েক দফা চিঠি দিয়েছেন। কিন্তু কোনো কাজে আসছে না।

স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপতরের (এলজিইডি) উপজেলা প্রকৌশলী মোঃ মহর আলী বলেন, লার্জ ব্রিজ কনস্ট্রাকশন (এলভিসি) প্রকল্পের আওতায় এই সেতুর কাজ ঢিমেতালে চলছে। ঠিকাদারকে কয়েক দফা চিঠি দিয়েছেন।