সেনবাগে যৌতুকের জন্য অন্তঃসত্ত্বা গৃহবধুকে পেটাল স্বামী-শ্বাশুড়ী-ননদ

মোঃ ইব্রাহিম, নোয়াখালী।।
নোয়াখালীর সেনবাগ উপজেলার ২ নম্বর কেশারপাড় ইউনিয়নের বীরকোট গ্রামের যৌতুকের দাবিতে ৪ মাসের অন্তঃসত্ত্বা কল্পনা আক্তার প্রকাশ মুন্না (২৪) নামের এক গৃহবধূকে বসতঘরের ভেতরে আটকে রেখে মধ্যযুগীয় কায়দায় স্বামী-শাশুড়ি ও ননদ মিলে এলোপাথাড়ি পিটিয়ে আহত করে। এ ঘটনায় সেনবাগ থানা পুলিশ অভিযুক্ত তিনজনকে গ্রেফতার করেছে। গ্রেফতারকৃতরা হলেন, স্বামী আনোয়ার হোসেন (৩২), শাশুড়ি হরমুজা বেগম (৬৩) ও ননদ শাহেদা আক্তার (৩৫)। সোমবার (১৩ সেপ্টেম্বর) বিকেলে গ্রেফতারকৃত আসামিদের বিচারিক আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। এর আগে রোববার বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে সেনবাগ উপজেলার ২ নম্বর কেশারপাড় ইউনিয়নের বীরকোট গ্রামের জাহাজী মন্নানের বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, সেনবাগ উপজেলার ৩ নম্বর ডমুরুয়া ইউনিয়নের পরিকোট উত্তর পাড়া সুতা বেপারী বাড়ির ইয়াছিনের মেয়ে কল্পনা আক্তার প্রকাশ মুন্না সাথে ৫ বছর আগে ডমুরুয়া ইউনিয়নের বীরকোট গ্রামের জাহাজী মন্নানের বাড়ির তনু মিয়ার ছেলে আনোয়ার হোসেনের সাথে বিয়ে হয়। বিয়ের দুই বছর পর আনোয়ার হোসেন বাহারাইন যাওয়ার কথা বলে কল্পনা আক্তার প্রকাশ মুন্নার বাবা ইয়াছিনের কাছ থেকে দেড়লাখ টাকা ধার নেন। পরে পর্যায়ক্রমে পরিশোধ করবেও বলেন। কিন্তু তিনি ওই টাকা আর পরিশোধ করেননি। নির্যাতনের শিকার গৃহবধূর স্বামী বিগত ৪ মাস আগে বিদেশ থেকে এসে শ্বশুর বাড়ি থেকে আরো দুই লাখ টাকা এনে দিতে গৃহবধূ কল্পনা আক্তার প্রকাশ মুন্নাকে চাপ দিতে থাকেন। শনিবার বিকেলে স্বামী আনোয়ার হোসেন আবারো যৌতুকের ২ লাখ টাকা এনে দিতে বললে গৃহবধূ কল্পনা আক্তার প্রকাশ মুন্না অপরাগতা প্রকাশ করলে স্বামী আনোয়ার হোসেন, শাশুড়ি হরমুজা বেগম ও ননদ শাহেদা বেগম তার ওপর এতে ক্ষিপ্ত হয়ে তারা সকলে মিলে মোবাইল ফোনে অন্য কারো সাথে কথা বলে মিথ্যা অপবাদ এনে এক সন্তানের জননী ও ৪ মাসের অন্তঃসত্ত্বা কল্পনা আক্তার প্রকাশ মুন্নাকে মধ্যযুগীয় কায়দায় এলোপাথাড়ি পিটিয়ে রক্তাক্ত জখম করে। এ সময় তার চিৎকারে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এসে তাকে উদ্ধার করে সেনবাগ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে। নির্যাতনের বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ফেসবুকে ভাইরাল হলে শনিবার গভীর রাতে সেনবাগ থানা পুলিশ অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত তিনজনকে গ্রেফতার করে। এ ঘটনায় গৃহবধূ তিনজনকে আসামি করে সেনবাগ থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা দায়ের করে।

এ ব্যাপারে সেনবাগ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আবদুল বাতেন মৃধা সত্যতা নিশ্চিত করেন।