পাথরঘাটায় মারধরের ঘটনায় এমপির বিরুদ্ধে যুবলীগকর্মীর সংবাদ সম্মেলন

গোলাম কিবরিয়া, বরগুনা।।
বরগুনার পাথরঘাটায় এক যুবলীগকর্মীকে মঞ্চে ডেকে নিয়ে প্রকাশ্যে মারধর করার অভিযোগ উঠেছে বরগুনা-২ (বেতাগী-বামনা-পাথরঘাটা) আসনের সংসদ সদস্য শওকত হাচানুর রহমান রিমনের বিরুদ্ধে। বুধবার (২২ সেপ্টেম্বর) বিকেলে পাথরঘাটা পৌরশহরে এ ঘটনা ঘটে।

এদিকে মারধরের শিকার ওই যুবলীগকর্মী নজরুল ইসলাম (৩৮) এখন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন। নিজের জীবনের নিরাপত্তা চেয়ে সংবাদ সম্মেলন করেন মারধরের শিকার যুবলীগকর্মী নজরুল ইসলাম।

বৃহস্পতিবার (২৩ সেপ্টেম্বর) বিকেল সাড়ে পাঁচটায় বরগুনা সাংবাদিক ইউনিয়নের সম্মেলন কক্ষে এই সংবাদ সম্মেলনে অনুষ্ঠিত হয়।

যুবলীগকর্মী নজরুল ইসলাম বলেন, বুধবার বিকেল ৪টায় উপজেলা ছাত্রলীগের আয়োজনে ফুটবল খেলা অনুষ্ঠিত হয়। ওই খেলায় ঢাকা থেকে বাংলাদেশের বিভিন্ন ক্লাবের কিছু খেলোয়ার পাথরঘাটায় আসে। আমি তাদের নিয়ে মাঠে যাওয়ার জন্য প্রাইভেটকারে রওয়ানা করি। এমন সময় পাথরঘাটা আকন মার্কেটের সামনে পৌছালে স্থানীয় সংসদ সদস্য শওকত হাচানুর রহমান রিমন মটর সাইকেলের বহর নিয়ে আমাদের প্রাইভেটকারের পিছনে এসে পৌছায়। এই খেলায় তিনিই ছিলেন প্রধান অতিথি। তিনি আমাদের প্রাইভেটকারটাকে সাইড দিতে বলেন। রাস্তা সংকীর্ণ হওয়ার কারণে ড্রাইভারের তাৎক্ষনিক সাইড দিতে কিছুটা দেরী হয়। আমি নেতৃত্ব দিয়ে মাননীয় সংসদ সদস্যের গাড়ি বহর পার করিয়ে দেই।

পরে সাংসদ খেলার মাঠে উপস্থিত হয়ে প্রধান অতিথির আসন গ্রহণ করেন। আমিও খেলোয়ারদের নিয়ে মাঠে
উপস্থিত হই। পাথরঘাটা পৌর ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক শাহাজাদাসহ ৪/৫ জন আমাকে সংসদ সদস্যের কথা বলে মঞ্চে ডেকে নিয়ে যায়। মঞ্চে যাওয়ার সাথে সাথে মাননীয় সংসদ সদস্য আমাকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ শুরু করে এবং এক পর্যায় আমাকে চর থাপ্পর লাথি দিয়ে মঞ্চ থেকে ফেলে দেয়।

তিনি আমাকে বলেন যে, আমার গাড়ি বহর দেখে সাথে সাথে সাইড দিলি না কেন? আমার পা ধরে ক্ষমা চাও। উপস্থিত মাঠে হাজারো জনতার সামনে মাননীয় সংসদ সদস্য আমাকে লাঞ্চিত করেন। তখন মাঠে স্থানীয় রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গসহ গণমাধ্যম কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

নজরুল ইসলাম আরও বলেন, বর্তমানে মাননীয় সংসদ সদস্য শওকত হাচানুর রহমান রিমন ক্ষিপ্ত হয়ে তার দলীয় নিজস্ব লোকজন দ্বারা আমাকে প্রাণ নাশের হুমকি ধামকি দিচ্ছে। বর্তমানে আমি নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি। যেকোন সময় মাননীয় সংসদ সদস্য কর্তৃক আমার এবং আমার পরিবারের উপর হামলা হতে পারে পারে।

মারধরের বিষয়টি শিকার করেছেন সাংসদ রিমন। তিনি বলেন, নজরুল একটা বাজে লোক। ও অপকর্মে অতিষ্ঠ এলাকাবাসী। ওর নামে অনেকগুলো মামলা আছে থানায়, তাই আমি চড় দিয়েছি।