বরগুনায় মহিলা এমপির বাসা লক্ষ্যকরে সিসি ক্যামেরা লাগালো কে?

গোলাম কিবরিয়া, বরগুনা।।
বরগুনা-২ আসনের সংরক্ষিত মহিলা সাংসদ সুলতানা নাদিরা এমপির বাসভবন লক্ষ্যকরে বৈদ্যুতিক খুটির সাথে অজ্ঞাত একটি সিসি ক্যামেরা লাগানো হয়েছে। তবে কারা এই ক্যামেরাটি লাগিয়েছে তা এখন পর্যন্ত জানা যায়নি। সাংসদের পরিবারের দাবি তাদেরকে নজরবন্দি ও গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করতে এই ক্যামেরাটি লাগিয়েছে একই আসনের আরেক সংসদ সদস্য শওকত হাচানুর রহমান রিমন।

জানা যায়, পাথরঘাটা ডিগ্রি কলেজে মূল গেটের উত্তর দিকে একটি বৈদ্যুতিক খুঁটি আছে। ওই খুঁটির সাথে সাদা রঙের একটি সিসি ক্যামেরা লাগানো রয়েছে। ওই ক্যামেরার সামনের অংশটি (লেন্স) দক্ষিন দিক অর্থাৎ নারী সাংসদের বাসভবন বরাবর তাক করে রাখা হয়েছে। এতে এমপি নাদিরার বাসায় কেউ প্রবেশ করলে বা বের হলে সহজেই তা ক্যামেরার ধরা পরে। এতে ব্যক্তিগত গোপনীয়তা লঙ্ঘন হচ্ছে এমপি পরিবারের।

এ বিষয়ে নারী সাংসদ সুলতানা নাদিরার মেয়ে ফারজানা সবুর রুমকি বলেন, এর আগে এখানে কোন সিসি ক্যামেরা দেখা যায়নি। সম্প্রতি এই সিসি ক্যামেরাটি আমাদের নজরে আসে। তবে আতঙ্কের বিষয় হচ্ছে ক্যামেরাটি পুলিশ প্রশাসন অথবা পৌরসভা কারওনা। তাহলে এই ক্যামেরাটি লাগালো কে ?। ক্যামেরাটি এমন ভাবে লাগানো হয়েছে যে আমাদের বাসার কে আসলো কে ঢুকলো এসব কিছু ক্যামেরায় রেকর্ড হয়। এতে আমাদের ব্যক্তিগত গোপনীয়তা থাকছে না। নিরাপত্তাহীনতায় আমি পরিবারের সবাই। আমাদের ধরনা আমাদের গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করতে আমাদের বরগুনা-২ আসনের এমপি শওকত হাচানুর রহমান রিমন এই ক্যামেরাটি নিয়ন্ত্রণ করছে। এতে বিব্রতকর পরিস্থিতিতে আছি আমরা।

বরগুনা-২ আসনের সংরক্ষিত মহিলা সাংসদ সুলতানা নাদিরা সবুর এমপি আরো বলেন, জানিনা কারা আমার বাসায় নজরদারির জন্য গোপনে ক্যামেরা স্থাপন করেছে। এটা আমার জন্য বিব্রতকর ও আমার গোপনীয়তা রক্ষার জন্য হুমকি। আমার ধারনা এটা এমপি রিমনের কাজ। তিনি আমার আমাদের গতিবিধি পর্যবেক্ষণ এবং কারা আমার বাসায় আসা যাওয়া করে এটা জানার জন্য এই ক্যামেরাটি লাগিয়েছে।

তবে সাংসদ শওকত হাচানুর রহমান রিমন ক্যামেরার কথা স্বীকার করে বলেন, আমি আমার বাসার নিরাপত্তার জন্য দুটি ক্যামেরা লাগিয়েছি। তবে সেটা মহিলা সাংসদের বাসার উদ্দেশ্য নয়, এমপি নাদিরার অভিযোগ সম্পূর্ন ভিত্তিহীন। তিনি গায়ে পরে বিবাদ সৃষ্টি করার জন্য এমনটা করছেন।

এ বিষয়ে পাথরঘাটা থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আবুল বাশার বলেন, ক্যামেরা লাগানোর বয়াপারটি আমরা শুনেছি। তবে এখন পর্যন্ত কোন অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে আমরা তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করবো।