কাউখালীতে দুর্ভোগ: মৃত্যু থেকে জীবিত হয়েছেন ১২ জন!

রিয়াদ মাহমুদ সিকদার, কাউখালী (পিরোজপুর)।।
কাউখালীতে জাতীয় পরিচয়পত্র অসংখ্য ভুলে ভরা। প্রতিদিন শত শত মানুষ নির্বাচন অফিসে ছুটছেন জাতীয় পরিচপত্র সংশোধন করার জন্য। ভুক্তভোগীরা তাদের পরিচয়পত্র সংশোধন করার জন্য নির্বাচন অফিসে দিনের পরে দিন ঘুরেও সংশোধন করতে পারছেন না।

ভুক্তাভোগীরা জানান, আগের চেয়ে এখন সময় কম লাগে এবং সহজে পাওয়া যায়। এ উপজেলায় জাতীয় পরিচপত্রে মৃত হিসাবে দেখানো হয়েছে অনেককেই। এর মধ্যে মৃত থেকে জীবিত হয়েছেন সংশোধনের মাধ্যমে ১২ জন। এছাড়াও অপেক্ষায় আরও ৩ জন। দিনের পর দিন ঘুরে সকল শর্ত পূরণের পর মৃত্যু থেকে কাগজে জীবিত হয়েছেন এরা। আইনের মারপ্যাঁচে বেঁচে থেকেও মৃতের তালিকায় নাম রয়েছে কাউখালী অনেক মানুষের। এরা নিয়মিত খেয়ে-দেয়ে আনন্দ-ফূর্তি, কাজ বাজ করে চলছে। অথচ সরকারি কাগজে ও ভোটার তালিকায় মৃত্যু। বেঁচে থেকেও মৃত্যুর সনদ চাইলেই হাতের নাগালেই পেয়ে যায় ভুক্তভোগীরা। এই সমস্ত জীবিত বেশির ভাগ মানুষের নাম নেই ভোটার তালিকায়। ফলে চাইলেও তারা কোন নির্বাচনে ভোট দিতে পারেন না। বঞ্চিত সকল নাগরিক সুবিধা থেকেও। এমনকি জমি ক্রয়-বিক্রয় এর মত কাজ থেকেও তারা বঞ্চিত। ২০০৯ সালে ভোটার তালিকা হালনাগাদের পর থেকে তাদের এই বিপত্তি শুরু। স্মার্টকার্ড আনতে গিয়ে জানতে পারেন, ইউনিয়ন পরিষদের মৃতের তালিকায় তাদের নাম নিবন্ধিত হয়েছে। যার ফলে তাদের ভোটার তালিকায় নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয় নাই।

এ নিয়ে উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা ও ইউনিয়ন পরিষদ গুলোর দুয়ারে দুয়ারে ঘুরে ঘুরে জীবিত হওয়ার জন্য তাদেরকে অনেক সময় পার করতে হয়েছে। সকল শর্ত পূরণ করে নতুন করে ভোটার হওয়ার জন্য আবেদনও করতে হয়েছে এদের। অবশেষে নতুন করে ভোটার তালিকায় ভোটার হওয়ার মধ্য দিয়ে মৃত থেকে জীবিত হতে পেরে উল্লসিত ভুক্তভোগীরা। সরকারি সব কাগজপত্রে তারা মৃত। যে কারণে দিনের-পর-দিন নানা ভোগান্তির শিকার হয়েছেন তারা। দীর্ঘ সময় পর কাগজে আবার জীবিত হতে পেরে আনন্দিত। এর আগে এই সমন্ত মানুষগুলো ভোট দিতে পারে নাই, ব্যাংকে হিসাব খুলতে গেলে জাতীয় পরিচয় এর অভাবে কিছুই করতে পারে নাই। মোবাইলের সিম কিনতে গেলেও বলে দেয়, বিক্রি করা যাবে না। একই ঝামেলায় কেটেছে দীর্ঘ বছর।

যারা মৃত থেকে জীবিত হলেন তারা হলেন- উপজেলার আশোয়া গ্রামের আনোয়ারা বেগম, জিবগা সাতুরিয়া গ্রামের ইউসুফ আলী খান, বিজয় নগর গ্রামের মোহাম্মদ মানজুরুল ইসলাম, একই গ্রামের হ্যাপী বেগম, কেউন্দিয়া গ্রামের ফারজানা আক্তার, একই গ্রামের ফরিদা বেগম ও মনজুরা, নঙ্গুলি গ্রামের তাহেরা বেগম, সুবিদপুর গ্রামের কনিকা রানী বিশ্বাস।

মৃত থেকে জীবিত হওয়াদের সম্পর্কে উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মোঃ মিজানুর রহমান জানান তথ্য সংগ্রহকারীদের সঠিক তথ্য সংগ্রহ করতে না পারা এবং একই নামে এলাকার কেউ মৃত্যুবরণের পর ইউনিয়ন পরিষদের সঠিকভাবে তথ্য অন্তর্ভুক্ত করতে না পারার কারণে এ সমস্ত সমস্যাগুলি সৃষ্টি হয়েছিল।