গৌরনদীতে জমে উঠেছে মেলা

গৌরনদী প্রতিনিধি, বরিশাল॥
বরিশাল জেলার গৌরনদী গৌরনদী উপজেলার গৌরনদী বন্দর দুর্গা মন্দিরের দুর্গাউৎসব জাকজমক পূর্নভাবে অনুষ্ঠিত হচ্ছে। প্রতিদিন উৎসবমুখর পরিবেশে প্রতিমা দর্শন ও পুজা-অর্চনা করতে হাজারো ভক্ত আসেন মন্দিরে। দুর্গাপুজা উপলক্ষে উপজেলার একমাত্র মন্দিরের আশপাশে এক কিলোমিটার জুড়ে জমে উঠেছে গ্রামীন মেলা। পুজোর সময় এ মেলা স্থায়ী হয় চার থেকে পাঁচ দিন। তবে কাঠের আসবার পত্র পাওয়া যায় ১৫ দিন।

সনাতন ধর্মাবলম্বীদের পাশাপাশি সকল ধর্ম-বর্নের মানুষের অংশগ্রহণে গৌরনদী বন্দর জুড়ে মিলনমেলায় পরিনত হয়েছে। প্রতিদিন সকাল থেকে রাত পর্যন্ত বিভিন্ন বয়সী মানুষের উপস্থিতিতে মেলা মুখরিত হয়ে উঠছে। মেলায় আসছে সব বয়সের মানুষ। নারী ও শিশুদের উপস্থতি বেশি। দুর্গাপুজার প্রথম দিন থেকে মেলা শুরু হয়েছে। মেলার ঐতিহ্য ধরে রাখতে নানামুখি উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। পাশা পাশি নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। সনাতন ধর্মাবলম্বী ছাড়াও অনেকে ঘুরতে এসেছেন মেলায়। বন্ধুদের নিয়ে এসেছেন বাবু সরদার।

তিনি জানান, প্রতিবছরই আসি। বৈশাখী মেলা আর শারদীয় পুজর মেলাা ছাড়া এমন আমেজ তো পাওয়া যায় না। থানার সামনে মেলার ভিড় তুলনা মুলক অনেক বেশি। প্রবেশ দ্বার থেকে পুরো সড়কের দুই ধারে বাহারী ধরনের পন্য দিয়ে সাজিয়ে রেখেছে স্টলগুলো। গৌরনদী বন্দরের কয়েকজন প্রবীন ব্যক্তি জানান, প্রতিবছর হিন্দু সম্প্রদায়ের দুর্গা পুজা উপলক্ষে অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে বন্দরের ঐতিহ্যবাহী মেলা। এই পুজাকে কেন্দ্র করে যুগ যুগ ধরে মেলা বসছে। মানুষের মিলন মেলায় পরিনত হয়েছে এই মেলা। দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে ব্যবসায়ীরা এসে মালামাল নিয়ে দোকান সাজিয়েছেন। গ্রামীণ সংস্কৃতির নানা উপকরন রয়েছে এ মেলায়। গৃহস্থলীর প্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের পশরা সাজিয়ে বসেছেন ব্যবসায়ীরা।

শুক্রবার মেলা ঘুরে দেখা যায়, প্রায় এক কিলোমিটার জায়গা জুরে দোকানপাট নিয়ে বসেছেন ব্যবসায়ীরা। তবে মেলায় কাঠের ফার্নিচারের দোকান সবচাইতে বেশি। পৌরসভার সামনে থেকে শুরু করে গৌরনদী মডেল সরকারী প্রথমিক বিদ্যালয়ের মাঠে, পৌরসভার মাঠসহ আশেপাশের সব জায়গা কাঠের ফার্নিচারে পরিপূর্ন। এ মেলায় সবধরনের জিনিসপত্র পাওয়া যায় খাট, সুকেজ, ছোফা, আলমারী, ওভারড্রয়ার, স্টিলের সুকেজ, আলমারীসহ সবধরনের আসবারপত্র পাওয়া যায়।
এ ছাড়াও বাচ্ছাদের বিভিন্ন প্রকার খেলনা, কসমেটিকস, দা, কাচি,বটি, জিলাপি, পাপর ভাজা,বাতাসা, নকুল দানাসহ সবধরনের মালামাল মেলায় পাওয়া যায়। মেলায় আগত আসবাবপত্র ক্রেতা জলিলুর রহমান (৪৪), রাবেয়া বেগম (৪০)সহ কয়েকজন জানান, তারা এই মেলার জন্য অনেকেই অপেক্ষা থাকেন। কারন মেলা থেকে কমদামে কাঠের আসবাবপত্র মালামাল কিনতে পারেন।

মেলায় আসা মাহিলাড়ার খোকন মোল্লা জানান, মেলায় একটি খাট, সুকেজ কেনার জন্য আসছি যেখানে পচন্দ হবে সেখান থেকে কিনে নিবো।

সাতক্ষীরা থেকে আসা ফার্নিচার ব্যবসাযী আমজাদ হোসেন জানান, আমরা প্রতিবছর এ মেলায় আসবাবপত্র নিয়ে আসি। কারন এই মেলায় বেচাবিক্র ভাল হয় মুনাফা বেশী হয়। কিন্তু এ বছর প্রতিবারের চেয়ে কেনা- বেচা অনেক কম, তাই সামান্য লাভ হলেই মাল ছেরে দেই।