অপারেশন গুলমার্গ: কাশ্মিরে পাকিস্তানের নৃশংসতা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক।।
জম্মু-কাশ্মিরের ইতিহাসের উল্লেখযোগ্য ঘটনাগুলোর মধ্যে ১৯৪৭ সালের ২৬ অক্টোবরের উপজাতীয় হামলার ঘটনাটি একটি আলাদা বিশেষত্ব বহন করে। ‘অপারেশন গুলমার্গ’ নামে এই হামলায় প্রায় ১০ হাজার নিরীহ মানুষ প্রাণ হারায়, যা এই ইতিহাসকে এক ভিন্ন মোড়ে নিয়ে যায়।

জম্মু ও কাশ্মিরের ভাগ্যে একটি ভয়াবহ চিহ্ন রেখে যাওয়া ২১ ও ২২ অক্টোবরের মধ্যবর্তী রাতটিকে কালো দিন হিসাবে বিবেচনা করা হয়। নিজের ব্লগ পোস্টে লেখক ও বিশ্লেষক ড. সুবীর চৌধুরী লেখেন, গুলমার্গ অপারেশন ছিল পাকিস্তান এক চুক্তির একতরফা লঙ্ঘন।

তিনি বলেন, জম্মু-কাশ্মিরের ইতিহাসে গুলমার্গ অপারেশন একটি কালো দিন। জম্মু ও কাশ্মীরের মহারাজাকে শিক্ষা দিতে এটি ছিল পাকিস্তানের একতরফা চুক্তি লঙ্ঘন। সেই সঙ্গে সামরিক ক্ষমতাবলে জম্মু ও কাশ্মিরের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার একটি কৌশল।

তিনি আরও বলেন, এই হামলা যে শুধু একটি বিপর্যয় ছিল তা না। বরং এর ফলে হাজার হাজার নিরীহ মানুষ প্রাণ হারায়, ধর্ষণ ও অপহরণের শিকার হয় এই অঞ্চলের নারী ও মেয়েরা। যা এই অঞ্চলের ইতিহাসের গতিপথ বদলে দেয়।

এ সম্পর্কিত একাধিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ওই রাতের হামলায় ৩৫ থেকে ৪০ হাজার মানুষ মারা গেছে। ড. চৌধুরী জানান, কিভাবে মেজর জেনারেল আকবর খানের নেতৃত্বে ১৯৪৭ সালের আগস্টে অপারেশন গুলমার্গের পরিকল্পনা করা হয়েছিল। লুট করা হয়েছিল জম্মু ও কাশ্মিরের সাধারণ মানুষের ঘর-বাড়ি ও সম্পদ।

তার দাবি, এই অপ্রস্তুত আগ্রাসন জম্মুর জনগণকে বিভক্ত করেছে। সেই সঙ্গে জোরপূর্বক তাদের বিভাজনের দিকে ঠেলে দিয়েছে। এই অঞ্চলের বর্তমান দুর্দশা ও সমস্যার মূল কারণ এটি। তিনি বলেন, পাকিস্তানের সাম্রাজ্যবাদী এজেন্ডাকে এগিয়ে নিতেই ধর্মের নামে নিরপরাধ মানুষকে হত্যা করা হয়েছিল। এখানে ব্যবহার করা হয়েছিল ইসলামের নাম। এক বাক্যে, এটি আমাদের আজকের সমস্ত সমস্যার কারণ।

সাত দশকেরও বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও এ ঘটনার দোষীদের চিহ্নিত করার ওপর জোর দেন ড. চৌধুরী। তিনি জিজ্ঞাসা করেন, এই হামলার পরিকল্পনা কাদের? তাদের এজেন্ডা কী এবং স্থানীয় সহযোগী কারা ছিল? তিনি বলেন, সম্ভবত, এই লোকদের কোনো অনুশোচনা নেই। এই অপরাধীদের কারণে আমাদের রাষ্ট্র বিভক্ত হয়েছে।