রায়পুরায় নির্বাচনী সহিংসতায় আরও একজনের মৃত্যু

অনলাইন ডেস্ক।।
নরসিংদীর রায়পুরা উপজেলার কাচারিকান্দী গ্রামের নির্বাচনী সহিংসতার ঘটনায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সুলমান মিয়া (৫০) নামে আরও একজন মারা গেছেন।

রায়পুরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আতাউর রহমান জানান, সোমবার (০১ নভেম্বর) ঢামেকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সুলমান মিয়ার মৃত্যু হয়। সুলমান মিয়া কাচারিকান্দী গ্রামের ছোট শাহ আলম গ্রুপের সদস্য ছিলেন।

গত ২৮ অক্টোবর ভোরে পাড়াতলী ইউনিয়নের কাচারিকান্দী গ্রামের সাদির মিয়া (২২) ও হিরন মিয়া (৩৫) গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হয়। আহত হয়েছিল আন্তত ৩০ জন।

দীর্ঘদিন ধরে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে কাচারিকান্দী গ্রামের সাবেক ইউপি সদস্য মৃত ফজলু মিয়ার ছেলে শাহ আলম ওরফে ছোট শাহ আলমের সঙ্গে সাবেক ইউপি সদস্য আব্দুল কাদিরের ছেলে বর্তমান ইউপি সদস্য শাহ আলম ওরফে বড় শাহ আলমের বিরোধ চলে আসছিল। এই জেরে গত রোজার ঈদের পরের দিন উভয় পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষে ছোট শাহ আলম সমর্থক শহিদ মিয়া ও ইয়াসিন মিয়া নামে দুই জন টেটাবিদ্ধ হয়ে প্রাণ হারায়। উক্ত ঘটনার পর বড় শাহ আলমের দলের লোকেরা এলাকা ছেড়ে পালিয়ে যায়।

আসন্ন ইউপি নির্বাচনকে সামনে রেখে এলাকা ছেড়ে পালিয়ে বেড়ানো বড় শাহ আলম গ্রুপের লোকজন আবার এলাকায় প্রবেশের চেষ্টা করে। এরই জেরে ২৮ অক্টোবর ভোরে বড় শাহ আলমের সমর্থকরা দেশী-বিদেশী অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে ছোট শাহ আলমের লোকজনের উপর হামলা চালায়।

এসময় হামলাকারীদের গুলি ও টেঁটায় উভয় পক্ষের অন্তত ২০ জন গুরুতর আহত হয়। এর মধ্যে ঘটনাস্থলেই ছোট শাহ আলম সমর্থক হিরন মিয়া গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যায়। সাদির মিয়াকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

আহতদের মধ্যে আশঙ্কাজনক অবস্থায় সুলমান ও মোখলেছসহ বেশ কয়েকজনকে নরসিংদী সদর হাসপাতালে ও পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছিল।

এ ঘটনায় রায়পুরা থানায় নিহতদের পরিবারের পক্ষ থেকে দুটি পৃথক হত্যা মামলা দায়ের করেন।